ঢাকা, আজ বৃহস্পতিবার, ৪ মার্চ ২০২১

যুক্তরাষ্ট্রে বড় বিক্ষোভের মুখোমুখি হচ্ছেন মোদি

প্রকাশ: ২০১৯-০৯-২২ ১৪:৫৬:০৭ || আপডেট: ২০১৯-০৯-২২ ১৪:৫৬:০৭

কাশ্মীরে দমনপীড়নের দায়ে টেক্সাসের হাউসটনে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফর উপলক্ষে বিক্ষোভের আয়োজন করেছেন মার্কিন বংশোদ্ভূত কাশ্মীরিরা।

যে স্টেডিয়ামটিতে মোদির রোববারের সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে, সেটির বাইরে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে। মোদির সঙ্গে ওই সমাবেশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও থাকবেন।

মোদির বিরুদ্ধে মার্কিন কাশ্মীরিদের অভিযোগ, উপত্যকাটিতে তিনি মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অ্যাডভোকেসি ডিরেক্টর জন সিফটন বলেন, মোদি যখন দেশের বাইরে, তখন তার জন্য এটা কোনো উদ্বেগ তৈরি করবে না। তিনি ভারতের অন্য প্রধানমন্ত্রীদের মতো না।

তিনি বলেন, নয়াদিল্লিতে মোদি হলেন এক ধরনের বুদ্বুদ। এখন দেশের বাইরে গিয়ে তার বিস্ফোরিত হওয়ার এবং কাশ্মীরে যা ঘটছে, তা নিয়ে কিছুটা সমালোচনার শোনার সময়।

গত ৫ আগস্ট কাশ্মীরের বিশেষ স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা কেড়ে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মোদির নেতৃত্বাধীন ভারতীয় হিন্দুত্বাবাদী সরকার। এরপর মুসলমান অধ্যুষিত রাজ্যটিতে যোগাযোগ অচলাবস্থা চলছে।

এদিকে কাশ্মীর দখল এবং সেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে করা একটি মামলায় ২১ দিনের মধ্যে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকারের অন্যান্য সদস্যকে জবাব দিতে বলেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত।

হাউসটনে মার্কিন জেলা আদালতে কাশ্মীর খালিস্তান রেফারেন্ডাম ফ্রন্ট একটি অভিযোগ দাখিল করলে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

অভিযোগে ফ্রন্ট বলছে, গত ৫ আগস্ট হিন্দুত্ববাদী মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার কাশ্মীর দখল করে নিয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ওই ভূখণ্ডকে মোদি সরকার ভারতের অন্তর্ভুক্ত করেছে।

মানবাধিকার লঙ্ঘন ও অবৈধ দখলদারিত্বের দায়ে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিহ শাহ ও কানওয়াল জিৎ সিংকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে এ মামলায়।

দীর্ঘ এবং নজিরবিহীন কারফিউ জারি, যোগাযোগ অচলাবস্থা, বাসিন্দাদের মৌলিক প্রয়োজন অস্বীকার, অবৈধ আটক, গুম, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগে গত ১৪ সেপ্টেম্বরে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েট প্রেসের(এপি) একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে আসামিদের নিয়ন্ত্রণে ভূখণ্ডটির পরিস্থিতিকে ভীতিকর বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে ভারতীয় বাহিনীর সংঘটিত সহিংসতা ও ভীতিপ্রদর্শনের কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

কয়েকটি গ্রামের অর্ধশতাধিক প্রত্যক্ষদর্শী এপিকে বলেন, উপত্যকাটিতে ভারতীয় সরকার মারাত্মক নিরাপত্তা ধরপাকড় চালাচ্ছে। স্থানীয় লোকদের বেধরক পিটিয়েছে ভারতীয় সেনারা। কখনো কখনো লোকজনকে ধরে বৈদ্যুতিক শকও দেয়া হয়েছে বলে খবরে বলা হয়েছে।

চাঁদা চেয়ে মসজিদের কাজ বন্ধ করায় ছাত্রলীগ নেতাকে শোকজ

চাঁদা চেয়ে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় মডেল মসজিদ নির্মাণকাজ বন্ধ করার অভিযোগে ছাত্রলীগের উপজেলা শাখার সম্পাদক মুশফিকুর রহমান সাকিবকে শোকজ করেছে পঞ্চগড় জেলা ছাত্রলীগ।শুক্রবার রাতে পঞ্চগড় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আক্তারুজ্জামান আকতার ও সাধারণ সম্পাদক মারুফ রায়হান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই শোকজের বিষয়টি জানানো হয়।ওই শোকজ নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, ছাত্রলীগের ওই নেতা রংপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টেকনো ট্রেডের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না পেয়ে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় মডেল মসজিদ নির্মাণকাজে বাধা দেন, যা কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। আর এতে দলের ভাবমূর্তি বিনষ্ট হয়।

যদিও চাঁদা চাওয়ার এ বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে দাবি করেছেন ছাত্রলীগ নেতা কাজী মুশফিকুর রহমান সাকিব।তা সত্ত্বেও এ ঘটনায় দলের ভাবমূর্তি রক্ষার্থে ও প্রকৃত ঘটনা জানতে জেলা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সশরীরে উপস্থিত হয়ে জবাব দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।

ভারী অস্ত্রসহ ভাইরাল ছাত্রলীগ কর্মী !

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সাইফুল ইসলামকে ভারী অস্ত্রসহ ফেসবুকে একটি ছবিতে দেখা গেছে। নিজেই সামাজিক মাধ্যমটিতে ছবিটি আপলোড করেন তিনি। ইতোমধ্যে সেটি ভাইরাল হয়েছে।

সাইফুল ইউনিয়নের দক্ষিণ ছড়ারকুলের আরিফুল ইসলাম বাবুর ছেলে। গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে একটি ভারী অস্ত্র নিয়ে সামনের দিকে তাক করে থাকা অবস্থার একটি ছবি নিজেই ফেসবুকে পোস্ট করেন তিনি। ক্যাপশনে লেখেন ‘সাবধান ডাইরেক্ট অ্যাকশন হবে’।

এ নিয়ে বিতর্ক শুরু হলে ক্যাপশন বদলে দেন তিনি। জানা গেছে, ছবিতে যে অস্ত্রটি তিনি ধরে ছিলেন তা খেলনার। নিছক মজার ছলেই তিনি সেটি হাতে নিয়ে ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোড করেন। চকরিয়া পুলিশ খেলনা অস্ত্রটি হেফাজতে নিয়েছে।

সাইফুল যেদিন ছবিটি তোলেন সেদিন ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যায় ফলাফল প্রকাশের পর ট্রাক নিয়ে বিজয় মিছিল করে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী গিয়াস উদ্দিনের সমর্থকরা। বিজয় মিছিলেই অস্ত্র হাতে ছবিটি তোলেন সাইফুল।

এ ব্যাপারে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির এই সদস্যের সঙ্গে কথা বলতে যোগযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে কথা হলে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান, ফেসবুকে ছবিটি দেখার পর মনে হয়েছিল সাইফুলের হাতে কোনো ভারী অস্ত্র ছিল।

তার সঙ্গে যোগযোগ করা হলে অস্ত্রটিকে খেলনা দাবি করেন তিনি। পরে অস্ত্রটি তিনি থানায় জমা দেন। সেটি এখন থানাতেই হেফাজতে আছে। তিনি আরও জানান, মজা করতেই তিনি ছবিটি তুলে ফেসবুকে আপলোড করেন। তাকে সাবধান করা হয়েছে।

ইমরান খানের সম্মানে ক্বাবা শরীফের দরজা খুলে দেওয়া হয়!

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সৌদি সফরে যেয়ে ওমরা পালনের ইচ্ছাপোষন করলে তাঁর সম্মানে মুসলমানদের তীর্থস্থান পবিত্র ক্বাবার দরজাকে খুলে দেওয়া হয়। তিনি ক্বাবাগৃহের অভ্যন্তরে নফল নামাজ আদায় করেন। গতকাল (২০ সেপ্টেম্বর) সৌদি সফরকালে ইমরান খানের সম্মানে তাঁকে বিশের এ সম্মান প্রদর্শন করেন সৌদি হুকুমত। ওমরা পালন শেষে তিনি মসজিদে নববীতেও গমন করেন। বিশেষভাবে তিনি কাশ্মীরের মুসলমানদের জন্য দোয়া করেন। সৌদির এ সফরে ইমরান খান সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আযীয ও ক্রাউন্ট প্রিন্স মুহাম্মদ বিন সালমানের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন।

আবার, কয়েক মিনিটের দূরত্ব অতিক্রম করে সেখানে চাইলেই হানা দিতে পারবে ভারতের বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমানও। এছাড়া পাকিস্তানের জ্যাকোবাবাদের বিমানঘাঁটিতেও সংস্কারমূলক কাজ চলছে এবং সেখানে সম্প্রতি ছয়টি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান রাখা হয়েছে।আরো সংবাদেনিরাপদ আশ্রয় খুঁজছেন মিসরের প্রেসিডেন্ট সিসি!২০১৩ সালে ক্ষমতা দখলের পর থেকেই মিসরে সব ধরনের গণবিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেন সামরিক শাসক আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি।দীর্ঘদিন পর রাতের নীরবতা ভেঙে শুক্রবারা হঠাৎ বিক্ষোভে ফেটে পড়েন মিসরীয়রা। তারা স্লোগান দিতে থাকেন, ‘সিসি, তুই ক্ষমতা ছাড়’।

কিন্তু আকস্মিক এ বিক্ষোভে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠে আসছে।ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের মধ্যপ্রাচ্যনীতিবিষয়ক কেন্দ্রের গবেষক খালিদ এলজিনদি বলেন, সামাজিকমাধ্যমে বিক্ষোভের ছবি দেখে মিসরীয় পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে তিনি অস্বস্তিবোধ করছেন।তিনি বলেন, কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ হচ্ছে, ছোট্ট আকারে হলেও। এমন একটি সরকারের শাসনামালে এই বিক্ষোভ হচ্ছে, যখন ভিন্নমতের প্রতি শূন্যসহনীয় নীতি অবলম্বন করা হচ্ছে।এমন একসময় মিসরে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যখন জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন মিসরীয় প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি।

কিন্তু সিসির নিউইয়র্ক সফর নিয়ে আল-জাজিরার সাংবাদিক আহমেদ মনসুর জানালেন আরেক কথা। তার মতে, স্বৈরশাসক সিসি জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে যাননি যেমনটি তিনি ঘোষণা করেছিলেন। তিনি মিশর থেকে নিউইয়র্ক গিয়েছেন ঠিকই, তবে তা হল পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য।গণমাধ্যমের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে আহমদ মনসুর

জানান, সিসি মূলত বাইরে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও আশ্রয় অনুসন্ধান করতে গিয়েছেন। মিসরীয় জনগণ দীর্ঘদিনের ভয় ও বাধা ভেঙে তার পতনের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসার বিষয়টি তিনি আগে থেকেই আঁচ করতে পেরেছিলেন।মিসরের সবশেষ পরিস্থিতি কোনদিকে গড়াবে তা এখন পর্যন্ত স্পষ্ট নয়। তবে দীর্ঘদিনের অবরুদ্ধ পরিস্থিতি মিসরীয় জনগণের মনে সিসির বিরুদ্ধে যে ক্ষোভ রয়েছে তা যেকোনো সময় বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।