ঢাকা, আজ বৃহস্পতিবার, ৪ মার্চ ২০২১

অকেজো ক্ষেপণা’স্ত্র’ দিয়ে সৌদিকে বোকা বানিয়েছে বন্ধু যুক্তরাষ্ট্র!

প্রকাশ: ২০১৯-০৯-২২ ০৭:০২:৫৩ || আপডেট: ২০১৯-০৯-২২ ০৭:০৩:০৪

সৌদি আরবের ঘনিষ্ঠ বন্ধু দেশ যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিকে সামরিক সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণ দিয়ে সহায়তা করে থাকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশ। তবে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ও তাদের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির বিমান নেটওয়ার্ক কখনও ইয়েমেনর ড্রোনগুলোকে সনাক্ত করতে পারছে না। এ ধরণের ড্রোন দিয়েই সম্প্রতি সৌদি আরবের সর্ববৃহৎ পেট্রোলিয়াম স্থাপনা আরামকোর ওপর ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীইরানি সংবাদ মাধ্যম পার্স টুডে বলছে, ইয়েমেনিদের এই ড্রোন হামলার পর একথা প্রমাণিত হয়ে গেছে যে , সৌদি সরকার ক্ষেপণা’স্ত্র বা বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পেছনে যে শত শত কোটি ডলার খরচ করেছে তা নিতান্তই ব্যর্থ হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বর্তমানে সৌদি আরব সফরে রয়েছেন এবং তিনি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এ বৈঠকে ইয়েমেনর হুতিদের বিরুদ্ধে কী ধরণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে তা নিয়ে আলোচনা হয়।ওই বৈঠকে পম্পেও স্বীকার করেছেন যে, আমেরিকার ক্ষেপণা’স্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইয়েমেনর হুতি সমর্থিত সেনাবাহিনীর হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে।মাইক পম্পেওকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, যে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণা’স্ত্র ব্যবস্থা ইয়েমেনের ড্রোন হামলা ঠেকাতে পারছে না তাহলে সৌদি আরব জুড়ে এ ব্যবস্থা মোতায়েনের কী প্রয়োজন? জবাবে পম্পেও বলেন, ‘আমরা সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং সম্পদগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই, ভবিষ্যতে যাতে এই ধরণের হামলা আর সফল হতে না পারে সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি’।

একই সঙ্গে তিনি ইয়েমেনের ড্রোন হামলার ব্যাপকতা দেখে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, এই ধরণের ভয়াবহ ও ব্যাপক হামলা তিনি এর আগে কখনো দেখেননিসৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বহুসংখ্যক প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণা’স্ত্র ব্যবস্থার ব্যাটারি কিনেছে। যার অর্থ দাঁড়ায় যে সৌদি আরব শত্রুর যে কোন বিমান এবং স্বল্প পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল দ্বংস করতে সক্ষম। কিন্তু সাম্প্রতিক হামলার পর সেই ব্যবস্থা ব্যর্থ বলে প্রমাণিত হয়েছে।

মার্কিন প্রভাবশালী দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রেইথন প্রতিটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণা’স্ত্র ব্যবস্থায় ব্যাটারির দাম সৌদি আরবের কাছ থেকে ১০০ কোটি ডলার রেখেছে।

আরো সংবাদ

৬ বছর ধরে বন্ধ ইয়াঙ্গুনের ৮ মসজিদ

মিয়ানমারের মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চল রাখাইন। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধদের দ্বারা মুসলমানরা নি’র্যাতনের শি’কার হয়ে আসছে। অন্যায়ভাবে মুসলমানদের ৮টি মসজিদ ৬ বছর ধরে বন্ধ রেখেছে মিয়ানমার সরকার।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) মিয়ানমারের সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হেলইং ইয়াঙ্গুনে একটি মসজিদ পরিদর্শন করতে গেলে সেখানকার স্থানীয় মুসলিমরা বন্ধ করে দেয়া ৮টি মসজিদ পুনরায় খুলে দেয়ার আবেদন জানান।

সম্প্রতি নিজেদের ভাবমূর্তি উদ্ধারের অংশ হিসেবে অ-বৌদ্ধ ধর্মের জনগণের সঙ্গে সাক্ষাৎ শুরু করেছেন দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হেলইং। এ সময় সাক্ষাতে উৎসাহিত হয়ে মুসলিমরা ছয় বছর আগে বন্ধ করে দেয়া ইয়াঙ্গুনের ৮টি মসজিদ পুনরায় চালুর অনুমতি চান।এছাড়া আঞ্চলিক মুসলিম দায়িত্বশীলরা দেশটির স্টেট কাউন্সিলর অফিস, কমান্ডার-ইন-চিফ অফিস এবং সংস্কৃতি ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে মেকটিলা ও ইয়ামেথিন জনপদের ৮টি মসজিদ পুনরায় খুলে দেয়ার জন্য চিঠি দিয়েছেন।

মেকটিলা ও ইয়ামেথিনের মুসলমানরা সেনাপ্রধানের যোগাযোগের প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলেন, আমরা সেনাপ্রধানের সাক্ষাতের উদ্দেশ্য কী? তা জানি না। মসজিদ খুলে দেয়ার আবেদন সম্পর্কে সংস্কৃতি ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইউ সান উইন জানিয়েছেন, তারা এখনও এ চিঠিটি পাননি।এদিকে মিয়ানমারের ইসলামিক কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ইউ মং মং বলেন, তিনি সেনাপ্রধানকে মসজিদগুলো খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। জেনারেল মিন ১২ সেপ্টেম্বর মসজিদে চাল, তেল, ডাল ও অর্থ দিতে গিয়েছিলেন। তখন তার কাছে মসজিদগুলো খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

২০১৪ সালে মিয়ানমারের মান্ডলে তীব্র সাম্প্রদায়িক সহিংসতার মধ্যে মেকটিলা ও ইয়ামেথিন জনপদের মসজিদগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। তবে এখন উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ায় জেনারেল মিন অং হেলইং গত মাস থেকে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিষ্টানসহ অন্যান্য অ-বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে সফর শুরু করেছেন।উল্লেখ্য, মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চলের ১০ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম চরম অত্যাচারের মুখে দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এসব রোহিঙ্গা মুসলিমদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে এখনো কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি দেশটি।

এ পরিস্থিতিতে মিয়ানমারে বন্ধ করে দেয়া ৮টি মসজিদ কবে কখন খুলে দেবে কিংবা আদৌ খুলে দেবে কিনা এখনই সুনিশ্চিত নয়।