ঢাকা, আজ সোমবার, ৮ মার্চ ২০২১

২০০ কোটি টাকার এফডিআর যেভাবে উদ্ধার হলো

প্রকাশ: ২০১৯-০৯-২০ ১৯:৫১:২০ || আপডেট: ২০১৯-০৯-২০ ১৯:৫১:২০

র‍্যাবের এক বিশেষ অ’ভিযানে ছয় দেহরক্ষী এবং বিপুল পরিমাণ টাকাসহ আটক হয়েছেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীম। শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর নিকেতন থেকে তাকে আ’টক করে র‌্যাব।

এসময় তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অ’স্ত্র, মা’দক, নগদ ১০ কোটি টাকা ও প্রায় দুই শ’ কোটি টাকার এফডিআর চেক উদ্ধার করে র‌্যাব। র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম এক অ’ভিযান চালিয়ে এসব উদ্ধার করেন।
এর আগে বেলা ১১টা থেকে রাজধানীর গুলশান নিকেতন ৫ নম্বর সড়কের ১৪৪ নম্বর ভবনে শামীমের কার্যালয় ঘিরে অ’ভিযান চালায় র‌্যাব।

জানা যায়, নিকেতনের ৫ নম্বর সড়কের ১১৩ নম্বর ভবন শামীমের বাসায় কয়েকজন সাদা পোশাকে প্রবেশ করেন। সেখানে প্রায় তিন ঘণ্টা অবস্থানের পর শামীমকে সঙ্গে নিয়ে তার প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় ১৪৪ নম্বর ভবনে অ’ভিযান শুরু করে র‌্যাব। এসময় তার ছয় দেহরক্ষীকেও আ’টক করা হয়।

বেলা ২টা ৪৫ মিনিটে ওই বাসায় ঢুকে প্রথমেই দেখা যায় বিশাল গ্যারেজ। গ্যারেজের পাশে কাঁচ দিয়ে ঘেরা একটি অফিসকক্ষ, এখানে কর্মচারী ও কর্মকর্তারা বসেন। ওই ঘরের পাশে দু’টি দামি মোটরসাইকেল রাখা রয়েছে। কক্ষের পাশে দুই পাল্লার একটি কাঠের দরজা। দরজার দামি কাঠের চৌকাঠ চোখে পড়ার মতো। দরজা দিয়ে ঢুকতেই ভেতরে তিন তলায় যাওয়ার সিঁড়ি। মার্বেল টাইলসের সিঁড়িটিতে রয়েছে নকশা করা কাঠের রেলিং। চারতলা পর্যন্ত উঠে গেছে সিঁড়িটি। পুরো বাসাটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত।

তৃতীয় তলায় শামীমের বসার কক্ষ। প্রায় ৩০ ফুট লম্বা ও ২০ চওড়া কক্ষটি। পুরো কক্ষটিতে দামি বাতি, কাঠ দিয়ে সাজানো। বড় আকারের দুটি টিভি রয়েছে ঘরে। তিন সেট সোফা ও একটি বড় টেবিল রয়েছে। ওই টেবিলের ওপর সাজিয়ে রাখা হয়েছে টাকার বান্ডিল, ম’দের বেশ কয়েকটি বোতল ও অ’স্ত্র। এগুলো ওই কক্ষ থেকে পাওয়া গেছে। ওই কক্ষের পাশেই আছে শামীমের ব্যক্তিগত কক্ষ।

এদিকে র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বলেন, তার মায়ের নামে ১৪০ কোটি টাকার এফডিআর পাওয়া গেছে, যদিও তার মা বড় কোনো ব্যবসায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন না। বাকি টাকা উনার নামে। ব্যবসায়ী হিসেবে নগদ টাকা থাকতেও পারে। তবে তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের অ’ভিযোগ ছিল। তার দেহরক্ষীদের বিরুদ্ধে অ’স্ত্র প্রদর্শন করে চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির অ’ভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে, মা’দক পাওয়া গেছে, যেটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

আটক শামীম নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সন্মানদী ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত মো. আফসার উদ্দিন মাস্টারের ছেলে।

চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির অ’ভিযোগে আটক জি কে শামীম এক সময় ছিলেন বিএনপির ঢাকা মহানগর যুবদলের সহ-সম্পাদক। পরে দল বদলে যোগ দেন আওয়ামী লীগের যুব সংগঠন যুবলীগে। সেই জি কে শামীম এখন যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক।

ধীরে ধীরে দলের পদ বাগিয়ে হয়ে ওঠেন প্রভাবশালী নেতা, বাগাতে থাকেন সরকারি টেন্ডার। প্রতিটি সরকারি কাজের টেন্ডার ছিল তার নিয়ন্ত্রণে। এ কারণেই এক সময় তিনি ‘টেন্ডার শামীম’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন। সব সময় তার সঙ্গে রাখতেন ছয়জন অ’স্ত্রধারী দেহরক্ষী।

বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন