ঢাকা, আজ সোমবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২১

প্রিয়া সাহা’র বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে ‘বৃহত্তর কর্মসূচী’ ডাক দিবে হেফাজত

প্রকাশ: ২০১৯-০৭-২১ ১১:৫৭:৩৮ || আপডেট: ২০১৯-০৭-২১ ১১:৫৭:৩৮

অনতিবিলম্বে প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে আইনের আওতায় এনে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী ।

অন্যথায়, দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুন্ন রাখার স্বার্থে এধরণের দেশদ্রোহীদের বিরুদ্ধে হেফাজতে ইসলাম এ দেশের সর্বস্তরের তৌহিদী জনতাকে সাথে নিয়ে বৃহত্তর কর্মসূচী ঘোষণা করতে বাধ্য হবে বলে হুশিয়ারি দেন হেফাজত আমির।

২০ জুলাই (শনিবার) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী এ কথা বলেন। ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহা সম্প্রতি বাংলাদেশ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে যে তথ্য প্রকাশ করেছেন তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও গভীর ষড়যন্ত্রমূলক।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের একজন নাগরিক এবং সর্বোচ্চ সুবিধাভোগী সংখ্যালঘু নেত্রীর পক্ষ থেকে বাংলাদেশের মুসলমানদের মৌলবাদী নাম দিয়ে যে কুৎসিত মন্তব্য ও তথ্য দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন তা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি তার তীব্র প্রতিবাদ জানাই।

“তার মতে বাংলাদেশ থেকে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ৩ কোটি ৭০ লক্ষ লোক (ডিসঅ্যাপিয়ারড) গুম হয়েছে যার কোন সত্যতা ও প্রমাণ তার কাছে নেই। শুধু তাই নয়, প্রিয়া সাহার-

এই মন্তব্যটি বাংলাদেশের সর্বোস্তরের তৌহিদী জনতার হৃদয়ে আঘাত করেছে এবং এতে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে। রাষ্ট্রের পদে আসিন হয়েও কিভাবে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এমন তথ্য ভিন্ন রাষ্ট্রের কাছে তুলে ধরতে পারে তা বোধগম্য নয় ” যোগ করেন আল্লামা শফী।

হেফাজত আমির আরও বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে সম্প্রীতির সাথে সকল ধর্মের লোকেরা একসাথে বসবাস করে আসছে এবং বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

এবং তারা এদেশে নিজেদের সাংবিধানিক অধিকার পরিপূর্ণভাবে ভোগ করে আসছে। বাংলাদেশের ওলামায়ে কেরাম, ধর্মপ্রাণ মুসলমানদেরকে ফান্ডামেন্টালিস্ট বা মৌলবাদী আখ্যা দেয়ার মাধ্যমে তাদের প্রতি এদেশের মুসলমানদের যে অবদান, সৌহার্দ্যপূর্ণ ব্যবহার ইত্যাদি অস্বীকার করে ধৃষ্টতাপূর্ণ আচরণ দেখিয়েছে, যাকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার চরমপর্যায় বলে মনে হয়।

ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহার অভিযোগ সত্য: রানা দাশগুপ্ত

বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত বলেছে, তাদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহা হোয়াইট হাউজে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টা ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশে

‘সংখ্যালঘু নিপীড়নের’ যে অভিযোগ করেছে তা একান্তই তার নিজস্ব বক্তব্য, সংগঠনের নয়। ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে ওয়াশিংটনে এক সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে গত বুধবার হোয়াইট হাউজে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে ওই অভিযোগ করে দেশদ্রোহী প্রিয়া সাহা।

তার বক্তব্য ছিল, বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা মৌলবাদীদের নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান নিখোঁজ হয়েছেন। তার ওই বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে চলছে আলোচনা।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মাদ শাহরিয়ার আলম ওই অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, ওই নারী কেন এটা করেছেন তা তিনি খতিয়ে দেখবেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত রবার্ট আর্ল মিলার বলেছেন,

আট মাসের অভিজ্ঞতায় বাংলাদেশে যে ধর্মীয় স্বাধীনতা তিনি দেখেছেন তা বিশ্বের জন্য ‘দৃষ্টান্ত’ হতে পারে। প্রিয়া সাহার এ বক্তব্যের সঙ্গে একমত কি না, এ বিষয়ে জানতে চাইলে রানা দাশগুপ্ত বলে, ‘প্রথম কথা হচ্ছে, প্রিয়া সাহার বক্তব্য তো প্রিয়া সাহার নিজের।

আমাদের সংগঠন এরকম কোনো বক্তব্যের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে কাউকে তো বলে নাই যে, তুমি এভাবে বলবা। অতএব প্রিয়া সাহার মতামত প্রিয়া সাহারই, আমরা এই ব্যপারে কোন কিছু জানিনা।

তবে সে এটাও বলেচে যে, ‘প্রিয়া সাহার ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে, এ অভিযোগ সত্য। তার ঘরবাড়ি পুড়ানোর ঘটনা এক-দুই মাস আগের।’ সে বলেচে, ‘সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে ফ্রিডম অব রিলিজিয়ান নামে একটি সম্মেলন হয়।

এতে আমাদের ঐক্য পরিষদের তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। সেই প্রতিনিধি দলে প্রিয়া সাহা ছিলো না।’ তাহলে প্রিয়া সাহা কীভাবে সেখানে গেল? জানতে চাইলে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বলে,

‘প্রথম কথা হচ্ছে, ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে তাকে পাঠানো হয়নি। সে কীভাবে গেছে, এটা মার্কিন দূতাবাস বলতে পারবে।’ কিন্তু খোজ নিয়ে জানা গেছে প্রিয়া সাহা “ফ্রিডম অব রিলিজিয়ান” নামের সম্মেলনে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের প্রতিনিধি হয়েই গেছে যদিও এখন তা অস্বীকার করা হচ্ছে। স্বদেশ বার্তা২৪