ঢাকা, আজ শুক্রবার, ২২ জানুয়ারী ২০২১

পরিচয় মিললো বাংলাদেশকে নিয়ে ‘ভয়ংকর মিথ্যাচার’ করা সেই নারীর

প্রকাশ: ২০১৯-০৭-১৯ ২০:৫২:২৪ || আপডেট: ২০১৯-০৭-১৯ ২০:৫২:২৪

মার্কিন পররাষ্ট্র নীতিতে ধর্মীয় স্বাধীনতার গুরুত্ব তুলে ধরার লক্ষ্যে গত বুধবার হোয়াইট হাউজে মতবিনিময় করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।এ সময় বাংলাদেশের হয়ে ট্রাম্পের কাছে অদ্ভুত নালিশ করেন এক নারী। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ওই নালিশ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা পর ওই নারীর পরিচয় বেরিয়ে এসেছে।নালিশ করা ওই নারীর নাম প্রিয়া সাহা। তিনি বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির একজন সাংগঠনিক সম্পাদক। তার বাড়ি চরবানিরী, মাটিভাঙ্গা, নাজিরপুর, পিরোজপুর বলে জানা গেছে।

এছাড়া প্রিয়া সাহা বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ‘শারি’-এর নির্বাহী পরিচালক হিসেবেও কাজ করেন। একইসাথে বাংলাদেশ মহিলা ঐক্য পরিষদেরও একজন সংগঠক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন প্রিয়া সাহা।উল্লেখ্য, গত ১৬ জুন বুধবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউজে ধর্মীয় নীপিড়নের শিকার হওয়া ১৯টি দেশের ২৭ জন ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ করেন।

ওই সাক্ষাতে প্রিয়া সাহা ট্রাম্পকে বলেন ‘স্যার, আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। এখানে ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী মানুষকে গুম করা হয়েছে। দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আমরা আমাদের দেশে থাকতে চাই। এখনও সেখানে ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু মানুষ আছে। আমার অনুরোধ আমাদের সাহায্য করুন। আমি আমার বাড়ি হারিয়েছি, তারা আমার বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে, আমার জমি কেড়ে নিয়েছে। কিন্তু কোনো বিচার হয়নি।’

এ সময় ট্রাম্প প্রশ্ন করেন, ‘এটা কোন জায়গা? বাড়িটা কোন জায়গায়?’জবাবে ওই নারী বলেন, ‘মুসলিম মৌলবাদী গ্রুপ এগুলো করছে। আর তারা সব সময় রাজনৈতিক সমর্থন পাচ্ছে।’উল্লেখ্য, ট্রাম্পের কাছে করা নালিশের সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে এমন কোনো তথ্য বা পরিসংখ্যান নেই যাতে ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী মানুষ গুম হয়ে যাওয়ার উল্লেখ রয়েছে।হোয়াইট হাউসের ওই ঘটনার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় বইয়ে গেছে। কেউ কেউ এই ঘটনার পেছনে বড় কোনো ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।