ঢাকা, আজ বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১

মুসলিম শিক্ষার্থীদের প্রসাদ খাইয়ে স্কুলে হিন্দুত্ববাদি স্লোগান দেয়া অন্যায়: হাইকোর্ট

প্রকাশ: ২০১৯-০৭-১৮ ১৯:৪৬:২০ || আপডেট: ২০১৯-০৭-১৮ ১৯:৪৬:২০

উগ্র হিন্দুত্ববাদি সংগঠন ইসকন চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্কুলে প্রসাদ খাইয়ে শিক্ষার্থীদের ‘হরে কৃষ্ণ হরে রাম’ মন্ত্র পাঠ করতে বাধ্য করছে। হাইকোর্ট এ ঘটনাকে অন্যায় বলে অভিহিত করেছেন।

দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন নজরে আনা হলে বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।

প্রতিবেদনটি আদালতের নজরে আনেন আইনজীবী তৈমুর আলম খন্দকার। এসময় তিনি ওই প্রতিবেদন আদালতে পড়ে শোনান এবং বলেন, ‘এক ধর্মের রীতি-নীতি অন্য ধর্মের মানুষের ওপরে চাপিয়ে দেওয়া আমাদের সংবিধান সমর্থন করে না।’

তখন হাইকোর্ট বলেন, ‘একটি এনজিও কোনও স্কুলে খাবার বিতরণ করতে পারে। কিন্তু জোর করে বা প্রলোভন দেখিয়ে যদি প্রসাদ খাইয়ে মন্ত্র পাঠ করিয়ে থাকে, তবে সেটা অন্যায়।’ হাইকোর্ট আরও বলেন, ‘আমরা কোনও ধর্মীয় বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চাই না।

এর আগেও শবে বরাত নিয়ে আমরা হস্তক্ষেপ করিনি। আপনারা (আইনজীবীরা) যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দিন। স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি আছে, স্থানীয় প্রশাসন আছে, তাদেরকে বলুন।’

এ পর্যায়ে আইনজীবী তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, ‘আদালত আমাদের শেষ আশ্রয়স্থল। আমরা আগে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানাবো। সেখানে প্রতিকার না পেলে আবারও আপনাদের (আদালত) কাছে আসতে হবে।’

প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনা মৃত সংঘ তথা ‘ইসকন’ তাদের ‘ফুড ফর লাইফ’ কর্মসূচীর আওতায় হিন্দু সম্প্রদায়ের রথযাত্রা উপলক্ষে চট্টগ্রামের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে মুসলিম শিশু-কিশোরদের মাঝে হিন্দুত্ববাদের স্লোগান দিয়ে কৃষ্ণ প্রসাদ বিতরণ করেছে।

গত ১১ জুলাই থেকে চট্টগ্রাম নগরীর প্রায় ৩০টি স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করে ইসকন। ইসকন কর্মীদের শেখানো মতে, কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ‘হরে কৃষ্ণ হরে রাম’ মন্ত্র পাঠ করে এ প্রসাদ গ্রহণ করে।

তবে শ্লোক-মন্ত্র পাঠের মাধ্যমে মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্মের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রসাদ গ্রহণে উৎসাহিত করায় অনেক শিক্ষার্থী তা গ্রহণে অস্বীকৃত হয়। করায় অনেক শিক্ষার্থী তা গ্রহণে অস্বীকৃত হয়।

দুনিয়ার পরীক্ষায় না পারলেও আখেরাতের পরীক্ষায় পাস করবে নুসরাত: নুসরাত’র মা

বুধবার আলিম পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এক প্রতিক্রিয়ায় ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির মা শিরিনা আক্তার বলেছেন, ‘আমার মেয়ে দুনিয়ার পরীক্ষায় পাস করতে না পারলেও আখেরাতের পরীক্ষায় পাস করবে।’

যৌন নিপীড়নের মামলা তুলে না নেয়ায় ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফীকে আলিম পরীক্ষার হলে প্রবেশের আগে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। এর আগে তিনি সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে দুটি পরীক্ষায় অংশ নেন।

সেই আলিম পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে বুধবার। ফলাফল বিবরণীতে দেখা গেছে, কোরআন মাজিদ, হাদিস ও উসুলে হাদিস পরীক্ষায় নুসরাত জাহান রাফি ‘এ’ গ্রেড পেয়েছে।

বাকি পরীক্ষায় আর অংশ নিতে পারেননি নুসরাত। যে কারণে অকৃতকার্য সম্বলিত ফল আসে তার। পরীক্ষার ফল প্রকাশের খবর পাওয়ার পর থেকে কান্না থামছে না নুসরাতের স্বজনদের।

নুসরাতের মা শিরিনা আক্তার বলেন, ‘আমার মেয়ে দুনিয়ার পরীক্ষায় পাস করতে না পারলেও আখেরাতের পরীক্ষায় পাস করবে।’ নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে নুসরাতের পরীক্ষার ফল বের করেন।

বাড়িতে গিয়ে বোনের পরীক্ষার ফলের কথা জানান মাকে। প্রসঙ্গত, গত ২৭ মার্চ ওই ছাত্রীকে নিজ কক্ষে নিয়ে শ্লীলতাহানি করেন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদ্দৌলা। এ ঘটনায় ছাত্রীর মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।