ঢাকা, আজ সোমবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২১

উখিয়ায় বিভিন্ন দেয়ালে রহস্যময় সাংকেতিক চিহ্ন, আতঙ্কে স্থানীয়রা

প্রকাশ: ২০১৯-০৭-১৮ ১৫:১৮:৪৫ || আপডেট: ২০১৯-০৭-১৮ ১৫:১৮:৪৫

গত কয়েকদিন ধরে রহস্যময় সাংকেতিক চিহ্ন নিয়ে ঘুম হারাম হয়ে গেছে কক্সবাজরের উখিয়া জেলার অধিবাসীদের।

গত সোমবার থেকে উখিয়ার কোটবাজারের ঝাউতলা ও রত্নাপালং গ্রামসহ বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সীমানা প্রাচীরে রহস্যাবৃত্ত এ সাংকেতিক চিহ্ন আঁকা দেখা গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, সোমবার সকালে উপজেলার রত্নাপালং ইউনিয়নের কোটবাজার আলহাজ্ব হাকিম আলী চৌধুরী কে.জি স্কুল, কোটবাজার বালিকা বিদ্যালয়, রত্নাপালং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পালং মডেল হাই স্কুলের সীমানা প্রাচীরে একবর্ণের এই সাংকেতিক চিহ্ন দেখা যায়। চিহ্নটি দেয়ালের কিছু দূরত্বে একাধিকবার লেখা হয়েছে।

এছাড়াও রত্নাপালং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আসহাব উদ্দীনের রুহুল্লার ডেবাস্থ বাসভবন ও ঝাউতলাস্থ সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলমগীরের বাড়ির সামনেও একই ধরনের সাংকেতিক চিহ্ন আঁকা হয়েছে।

চিহ্নটির অর্থ কি এবং কে বা কারা এটি রাতের আঁধারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর দেয়ালে এঁকে গেল এসব প্রশ্নের কুল কিনারা করতে পারছে না স্থানীয়রা।

ঘটনার পর থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা অজানা আতঙ্কে র্নিঘুম রাত কাটাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন অনেকে। হঠাৎ করে দেয়াল এ ধরনের সাংকেতিক চিহ্ন অঙ্কন নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্যে মেতেছেন তারা।

রত্নাপালংস্থ ঝাউতলা গ্রামের ছাব্বির আহমেদ, প্রকাশ সোনা মিয়া ও সাদৃকাটা গ্রামের আফতাফ উদ্দিন জানান, সব স্থানে একই ধরনের চিহ্নগুলো কালো রং দিয়ে আঁকা হয়েছে। স্থানীয়দের কেউ এ চিহ্নের অর্থ বের করতে ব্যর্থ হয়েছে। এ দুর্বোধ্য বিষয়ে বর্ণের কোনো জ্ঞান নেই তাদের।

তারা বলছেন, আমাদের মধ্যে অনেকে ধারণা করছেন যে, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতরা এধরনের চিহ্ন আঁকতে পারে। এটি তাদের কোনো সতর্কবার্তাই হবে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিরোধী রোহিঙ্গা উগ্রগোষ্ঠী এ কাজটি করতে পারে বলে স্থানীয়দের অনেকের অভিমত দিচ্ছেন।

এদিকে জনগণের এমন আতঙ্কের বিষয়টি আমলে নিয়েছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন।

রহস্যময় ওয়ালরাইটিংয়ের অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছেন সিভিল প্রশাসন, পুলিশ সামরিক ও আধা সামরিক সংস্থার কয়েকটি টিম।

তাদের তদন্ত ও অনুসন্ধানের পর সরকারি দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে, এ সাংকেটিক চিহ্ন বার্মিজ ভাষা রুয়্যা থেকে নেয়া হয়েছে। এর বাংলার আবিধানিক অর্থ হচ্ছে – আমাদের এলাকা বা গ্রাম।

স্থানীয় রেহিঙ্গা ক্যাম্প স্কুলের এক রোহিঙ্গা শিক্ষক দিয়ে চিহ্নটির এমন অর্থ উদঘাটন করা হয়।

তবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এক এনজি-কর্মী বলেন, এ সাংকেতিক চিহ্নগুলো বার্মিজ বা মগা ভাষা। এর আভিধানিক অর্থ হচ্ছে শক্তি প্রদর্শন।

এ বিষয়ে হাকিম আলী কেজি স্কুলের উপাধ্যক্ষ একরামুল হক টিটু জানান, আমাদের ইউনিয়নের অন্তত ১৭টি স্থানে এই চিহ্ন আঁকা দেখেছি। চিহ্নটিকে বার্মিজ ভাষার বলে মনে করছি আমরা। তাই আচমকা এমন সাংকেতিক চিহ্ন দেখে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে এখানে।

বিদ্যালয় ও বিভিন্ন বাসভবনের দেয়াল ছাড়াও রত্নাপালং ইউনিয়নে অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কয়েকটি এনজিও অফিসের সামনেও এধরনের একই চিহ্ন আঁকা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরী জানান, কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দেয়া সাংকেতিক চিহ্ন আঁকার বিষয়টি অবহিত হয়েছি। এ ব্যাপারে তদন্ত করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উখিয়া থানার উপ-পরিদর্শক প্রভাত কুমার বড়ুয়া জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার দেয়ালে সাংকেতিক চিহ্ন অঙ্কনের খবর পেয়ে সেখানে পুলিশের টিম পাঠানো হয়েছে। চিহ্নগুলোর অর্থ আমাদের কাছে এখনবধি বোধগম্য নয়। কে বা কারা এটি করে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে সে বিষয়ে তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি