ঢাকা, আজ বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১

‘দুনিয়ার পরীক্ষার ফেল করলেও আখেরাতের পরীক্ষায় পাস করবে নুসরাত’

প্রকাশ: ২০১৯-০৭-১৮ ১৫:০৩:৩৪ || আপডেট: ২০১৯-০৭-১৮ ১৫:০৬:৫৬

‘দুনিয়ার পরীক্ষার ফেল করলেও আখেরাতের পরীক্ষায় পাস করবে নুসরাত’

যে পরীক্ষা দিতে গিয়ে নুসরাত জাহান রাফীকে দুনিয়া থেকে বিদায় নিতে হয়েছে নির্মম যন্ত্রনা নিয়ে। সেই পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হয়েছে বুধবার। ‘কোরআন মাজিদ’ এবং ‘হাদিস ও উসুলে হাদিস’বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে ‘এ’গ্রেড পেয়েছে নুসরাত। শিক্ষক, সহপাঠী ও নুসরাতের মা মনে করেন, সবগুলো পরীক্ষা দিতে পারলে নুসরাত অনেক ভালো ফলাফল করতো।

বুধবার ফলাফল প্রকাশের পর নুসরাতের মা শিরিনা আক্তার বলেন, ‘আমাদের পরিবারে আজ আনন্দ-উৎসবে ভরে যেত। কিন্তু আমার মেয়ে সবগুলো পরীক্ষা দিতে পারেনি। আমার মেয়ে দুনিয়ার পরীক্ষায় পাস করতে না পারলেও আখেরাতের পরীক্ষায় পাস করবে।’

নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বলেন, নুসরাত খুব মেধাবী ছিল। ২৭ মার্চের শ্লী’লতাহানির ঘটনার পর তারা তাকে পরীক্ষা দিতে নিরুৎসাহিত করেছিলেন। ‘কিন্তু সে পরীক্ষায় অংশ নিতে চায়। আমি নিজে তাকে পরীক্ষা হলে নিয়ে যেতাম। ১ ও ২ এপ্রিল দুটি পরীক্ষায় অংশও নেয়। পরে ৬ এপ্রিল পরীক্ষা দিতে গেলে তার গায়ে আ’গুন দেয়া হয়।’

নোমান আরও বলেন, বুধবার সকাল থেকে পরিবারে সবাই খুব বিমর্ষ। নুসরাতের বেশ কয়েকজন সহপাঠী ফোন করে তাদের রেজাল্টের খবর জানায়। এ সময় ওরা নুসরাতের কথা বলে কান্নায় ভেঙে পড়ে।

সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা মো. হুসাইন বলেন, সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে এবার আলিম পরীক্ষায় নুসরাতসহ ১৭৫ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এদের মধ্যে ১৫২ জন পাস করে। এ মাদ্রাসায় এবার পাসের হার ৮৬.৮৬ শতাংশ। নিহত নুসরাতসহ ২৭ জন ফেল করে।

তিনি বলেন, ‘নুসরাত মেধাবী ছাত্রী ছিল। দুই বিষয়ে পরীক্ষাও দেয় সে। সবগুলো পরীক্ষা দিতে পারলে নুসরাত ভালো ফল করত।’ ফলাফল জানতে আসা নুসরাতের ঘনিষ্ঠ বান্ধবী নিশাত সুলতানা, সহপাঠী তামান্না, নাসরিন সুলতানা জানান, তাদের সাথে নুসরাতেরও পরীক্ষার ফল বেরিয়েছে।

নিশাত বলেন, ‘আমাদের মতো তারও আন্দদিত হওয়ার কথা ছিল; কিন্তু নুসরাত আমাদের মাঝে নেই। আমরা কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হলেও কোনো সহপাঠীর মধ্যে আনন্দ নেই।’

চলতি বছরের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ (সাবেক) সিরাজ উদ-দৌলা নুসরাত জাহান রাফিকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে যৌ’ন হয়রানি করেন। ওই ঘটনায় ওইদিন নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। ওইদিনই অধ্যক্ষকে গ্রে’প্তার করে পুলিশ।

এর জের ধরে সিরাজ উদ-দৌলার সহযোগীরা নানাভাবে নুসরাতের পরিবারকে মামলা তুলে নিতে চাপ দেয়। তারা মামলা তুলে নিতে অস্বীকৃতি জানালে ৬ এপ্রিল নুসরাত পরীক্ষা দিতে গেলে কৌশলে তাকে মাদ্রাসার সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আ’গুন দেয় বোর’কাপরা কয়েকজন লোক। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০ এপ্রিল রাতে নুসরাতের মৃ’ত্যু হয়।