ঢাকা, আজ বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১

এবার পাসের হারে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা এগিয়ে!

প্রকাশ: ২০১৯-০৭-১৮ ০১:৪৮:০৭ || আপডেট: ২০১৯-০৭-১৮ ০১:৪৮:০৭

উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা ২০১৯-এর ফলের সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টায় বোর্ড চেয়ারম্যানদের সঙ্গে-

নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ফলের সারসংক্ষেপ তুলে দেন। এতে দেখা গেছে, এ বছর উচ্চ মাধ্যমিকে পাসের হার ৭৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

মোট পাস করেছে ১৩ লাখ ৬৬ হাজার ৬২৯ জন। সারা দেশে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৭ হাজার ৫৮৬ শিক্ষার্থী। পাসের গড়ে এগিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা। সাধারণ ৮ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার যেখানে ৭১ দশমিক ৮৫ শতাংশ,

সেখানে মাদ্রাসা বোর্ডে গড় পাস ৮৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন দুই হাজার ২৪৩ শিক্ষার্থী। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৮২ দশমিক ৬২ শতাংশ। মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে এবার মোট পরীক্ষা দিয়েছেন ৭৮ হাজার ৪৫১ জন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৯৭ হাজার ৭৯৩ জন।

এবারের পরীক্ষায় পাস করতে পারেননি ৯ হাজার ৮৫৭ শিক্ষার্থী। গতবার এ সংখ্যা ছিল ২০ হাজার ৮৬১ জন। শতভাগ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৬১৫টি। আর একজনও পাস করতে পারেনি, এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা সাতটি।

এ বছর ৪৪৮টি কেন্দ্রে ২৬৯৯টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিয়েছেন। বহিষ্কার হয়েছেন ১৩১ জন। দুপুর সাড়ে ১২টায় সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ফলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরবেন মন্ত্রী।

বেলা ১টা থেকে পরীক্ষার্থীরা নিজেদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়াও শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট থেকে ফল জানা যাবে। শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা কেন্দ্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ইন্টারনেট বা মোবাইলের মাধ্যমে ওয়েবসাইট থেকে তাদের ফল জানতে পারবেন।

বরাবরের মতোই এবারও যেকোনো মোবাইল থেকে এসএমএস করে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল জানতে পারবেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার ওয়েবসাইট www.dhakaeducationboard.gov.bd এ রেজাল্ট কর্নারে ক্লিক করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের EIIN এন্ট্রি করে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফল ডাউনলোড করা যাবে।

এ ছাড়াও (http://www.educationboard.gov.bd) থেকে ফল জানতে পারবেন। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ই-মেইলে কেন্দ্র বা প্রতিষ্ঠানের রেজাল্ট শিট (সফট কপি) পাওয়া যাবে।

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ই-মেইলে কেন্দ্র বা প্রতিষ্ঠানের রেজাল্ট শিট (সফট কপি) পাওয়া যাবে। পরীক্ষার্থীদের তালিকা অনুযায়ী, এ বছর ৯ হাজার ৮১ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের

১৩ লাখ ৫১ হাজার ৫০৫ পরীক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬ লাখ ৬৪ হাজার ৪৯৬ ছাত্র ও ৬ লাখ ৮৭ হাজার ৯ ছাত্রী। এ বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় গত ১ এপ্রিল। আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ড মিলিয়ে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৩ লাখ ৫১ হাজার ৩০৯ জন।

এর মধ্যে আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৫০ জন, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ৭৮ হাজার ৪৫১ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে এক লাখ ২৪ হাজার ২৬৫ জন। মোট কেন্দ্র সংখ্যা দুই হাজার ৫৮০টি। পরীক্ষা শেষ হয় ১২ মে। আর ১২ থেকে ২১ মের মধ্যে হয় ব্যবহারিক পরীক্ষা। সুত্র: যুগান্তর

বৃষ্টির পানিতে ভিজছে ৩ শতাধিক এতিম ছাত্র, দেখার নেই কেউ!

বরগুনা জেলার তালতলীর ছোটবগী মোহাম্মদিয়া দারুসুন্নাহ এতিমখানার অন্তহীন সমস্যায় কবলে নিপতিত। ছোটবগী বাজার সংলগ্ন মোহাম্মাদিয়া দারুসুন্নাহ এতিমখানা নামে একটি বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির সাথে একটি এতিমখানা ও লিল্লাহ বোডিং সংযুক্ত রয়েছে। বর্তমানে এখানে ৩ শতাধিক ছাত্র অধ্যয়নরত রয়েছে। এখানকার অন্তহীন সমস্যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, বৃষ্টির সময় মাদ্রাসার জরাজীর্ণ টিনের চাল দিয়ে পানি পড়া।

১২ বছরের টিনগুলোতে মরিচা ধরে ঝাজড়া হয়ে যায় এবং নানা ঝড় ঝাপটায় মাদ্রাসাটি নড়বড়ে হয়ে এখন বৃষ্টির সময় টিনের চালা দিয়ে প্রচুর বৃষ্টির পানি পড়ে ছাত্রদের কুরআন শরীফ ও হাদিস শরীফ, বই-খাতা বিছানাপত্র ভিজে একাকার হয়ে যায়।

গভীর রাতে বৃষ্টি হলে সব কিছু গুটিয়ে ঘুমহীন জেগে থাকতে হয়। অপর দিকে এত বড় প্রতিষ্ঠানটির সংলগ্ন স্থানে পানীয় জলের জন্য কোন গভীর নলকুপ নেই। তা ছাড়া ৩শ ছাত্রের জন্য নেই কোন পায়খানার সুব্যবস্থা।

উল্লেখ্য, দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে অন্যতম এই মাদ্রাসাটির সুনাম উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। বরগুনা জেলার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এই প্রতিষ্ঠানটি পুরস্কারের শীর্ষে রয়েছে। মাদ্রাসার ১০ পারা কুরআনের হাফেজ মো: রাকিব (এতিম) জানান, আমাদের ১টি ভবন না হলে আমরা ৩শ ছাত্র খুব কষ্টে হাফিজি পড়ছি।