ঢাকা, আজ বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১

এইচএসসিতে মা পেলেন জিপিএ ৪, মেয়ে জিপিএ ৫

প্রকাশ: ২০১৯-০৭-১৮ ০১:৪৪:১৬ || আপডেট: ২০১৯-০৭-১৮ ০১:৪৪:১৬

লেখাপড়া করার এক অদম্য ইচ্ছে কুঁড়ে কুঁড়ে খেয়েছে মাসুমা খাতুনকে। কিন্তু সেই ইচ্ছে বুকের মধ্যে চাপা রেখেই বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিলেন তিনি।

জানা গেছে, ১৯৯৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। কিন্তু পরীক্ষার আগেই পরিবার থেকে তার বিয়ে দিয়ে দেয়া হয়। এরপর আর পরীক্ষা দিতে পারেননি তিনি। কিন্তু বুকের ভেতরের সেই ইচ্ছে পূরণে অবশেষে তিনি নতুন করে পড়ালেখা শুরু করেন।

চলতি বছর নিজের মেয়ের সঙ্গে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন নাটোরের বাগাতিপাড়ার মাসুমা খাতুন।

তিনি চলতি বছর কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পেয়েছেন জিপিএ ৪.১৩। আর মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে পেয়েছেন জিপিএ ৫।

মাসুমা খাতুন বাগাতিপাড়া পৌর মহিলা বিএম কলেজের সেক্রেটারিয়েল সায়েন্স ট্রেডের শিক্ষার্থী ছিলেন। এর আগে তিনি নিজের মেয়ের সঙ্গে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হন।

২০১৭ সালে মেয়ের সঙ্গে এসএসসি পাশ করেন। এবার সেই মেয়ের সঙ্গে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হলেন। একসঙ্গে পাস করার খবর শুনেই বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন মা-মেয়ে। ভালো ফল করায় তাদের বাহবা দেন সহপাঠী ও কলেজের শিক্ষকরা।

মাসুমা খাতুনের বাবার বাড়ি বাগাতিপাড়া উপজেলার বারইপাড়া গ্রামে। বিয়ে হয় বাগাতিপাড়া উপজেলা সদরে।

স্বামী আবদুল মজিদ আনসার ব্যাটালিয়নে সিপাহি (প্রশিক্ষক) পদে চাকরি করেন। তার কর্মস্থল গাজীপুরে। মাসুমা খাতুনের দুই সন্তানের বড় ছেলে বনি আমিন বাগাতিপাড়া সরকারি ডিগ্রি কলেজের স্নাতক শ্রেণির ছাত্র।

মাসুমা খাতুন বলেন, বিয়ের ১৮ বছর পেরিয়ে গেছে। পিঠাপিঠি দুই ছেলে-মেয়েকে মানুষ করতে গিয়ে নিজের পড়ার কথা ভাবারই সময় পাইনি। অবশেষে ছোট মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসের সঙ্গে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে নতুন করে পড়ালেখা শুরু করেছি।

তিনি বলেন, সমাজে আর দশটা মানুষের মতো নিজেকেও একজন শিক্ষিত মানুষ হিসেবে যাতে পরিচয় দিতে পারি, সে কারণেই এই বয়সে কষ্ট করে লেখাপড়া করছি।

মাসুমা খাতুনের স্বামী আবদুল মজিদ বলেন, ‘আমার জন্য একটু কষ্ট হলেও আমি তার ইচ্ছাটার মর্যাদা দিয়েছি। সে যতদূর পড়াশোনা করতে পারে, আমি চালিয়ে নেয়ার চেষ্টা করব।’

আরো সংবাদ

বিশ্বে প্রথম সুঁই-সুতোয় কুরআন তৈরি করলেন পাকিস্তানি নারী নাসিম আখতার!

বিশ্বে প্রথম সুঁই-সুতোয় তৈরি হলো কুরআন- সুই-সুতোর বুননে বিশ্বের প্রথম হাতে সেলাই করা কুরআনের পাণ্ডুলিপি সম্পন্ন করেছেন পাকিস্তানি নারী নাসিম আখতার। ৩২ বছরের নিরলস চেষ্টায় তিনি এ পাণ্ডুলিপিটি তৈরি সমাপ্ত করেন। অনেক মানুষই ইসলামের জন্য কিছু করতে চান।

ইসলামের প্রতি একান্ত ভালোবাসাই মানুষ অনেক কঠিন কাজ বাস্তবে রূপ দেন। এমনই একটি দুঃসাহসিক কাজ হাতে সেলাই করা কুরআনের পাণ্ডুলিপি। ৩২ বছরের নিরলস প্রচেষ্টায় নসিম আখতার বিশ্বের প্রথম হাতে লিখিত কুরআনের পাণ্ডুলিপিটি তৈরি করেছেন।

ইসলামের জন্য তাঁর প্রচেষ্টা ও ভালবাসায় আজ তিনি বিশ্ব মুসলিমের সামনে সম্মানের আসনে আসীন। নিঃসন্দেহে এটি একটি চমৎকার পরিবেশন। হাতে সেলাই করা এ কুরআনের ওজন ৬০ কেজি। এটি তুলা দিয়ে তৈরি। সোনালী রংয়ের কারুকাজ করে প্রতিটি পৃষ্ঠাকে সুসজ্জিত করা হয়েছে।

কাভারে সিল্কের সুতা দ্বারা সুন্দরভাবে সজ্জিত করা হয়েছে। নাসিম আখতার যখন এই কাজ শুরু করেন তখন তিনি কম বয়সী ছিলেন। ৩২ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমে সুই-সুতোয় কুরআনের পাণ্ডুলিপি তৈরি করে তিনি তার স্বপ্নের বাস্তবায়ন করেন।

কুরআনের অসামান্য পাণ্ডুলিপিটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে পেরে সে এক বিশাল মাইল ফলক অর্জন করেছেন। আর এ কাজে তিনি শান্তি ও স্বস্তি বোধ করেন। নাসিম আখতারকে তার অসামান্য কাজের খবর পেয়ে সৌদি আরব তাকে আমন্ত্রণ জানায়।

পবিত্র কুরআনের এ পাণ্ডুলিপিটি তারা সংরক্ষণে দায়িত্ব নেয়। নাসিম আখতারের হাতে লেখা এ পাণ্ডুলিপিটি মসজিদে নববির কুরআর সংরক্ষণ মিউজিয়ামে সংরক্ষণ করা হয়।

মসজিদে নববির ৫নং গেট দিয়ে প্রবেশ করে বাম দিকে গেলেই চোখে পড়বে নাসিম আখতারের হাতে লেখা সুই-সুতোর বুননে পবিত্র কুরআনুল কারিমের তৈরি পাণ্ডুলিপিটি। আল্লাহ তাআলা নাসিক আখতারের এ কাজকে কবুল করুন। আমিন