ঢাকা, আজ বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১

রূপপুর প্রকল্পে ৩৬ কোটি টাকার গরমিল, ৫০ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার সুপারিশ

প্রকাশ: ২০১৯-০৭-১৬ ০৩:০৩:৫০ || আপডেট: ২০১৯-০৭-১৬ ০৩:০৩:৫০

পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গ্রিন সিটি আবাসন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দুই তদন্ত কমিটি। তাদের প্রতিবেদনগুলো অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে জমা দেয়া হয়েছে।

এতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকল্প এলাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য বিছানা, বালিশ ও আসবাবপত্র অস্বাভাবিক মূল্যে ক্রয় দেখানোর অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। বালিশ-কাণ্ডসহ বিভিন্ন ঘটনায় ৩৬ কোটি ৪০ লাখ ৯ হাজার টাকার গরমিল পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গণপূর্ত বিভাগের পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুল আলমসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।

প্রতিবেদন দুটি জমা হওয়ার তথ্য সোমবার নিশ্চিত করেছে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়। রোববার বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে প্রতিবেদন দুটি দাখিল করা হবে।

মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চারটি ভবনে আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম সরবরাহ কাজের চুক্তিমূল্য ১১৩ কোটি ৬২ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। অথচ মালামাল সরবরাহ করা হয়েছে ৭৭ কোটি ২২ লাখ ৮৫ হাজার টাকার।

অর্থাৎ চুক্তিমূল্য সরবরাহ করা মালামালের প্রকৃত মূল্যের চেয়ে ৩৬ কোটি ৪০ লাখ ৯ হাজার টাকা বেশি। এই বাড়তি পরিশোধিত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

এর আগে ২ জুলাই রূপপুর গ্রিন সিটি আবাসন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের করা দুটি কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল এবং ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী জড়িতদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, দুই সপ্তাহের মধ্যে তা জানাতে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন ভবনে আসবাবপত্র বিশ্বস্ততার সঙ্গে (গুড ফেইথ) কেনা ও উত্তোলনের ব্যর্থতা কেন অবৈধ হবে না, তা-ও জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন আদালত।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব, গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী, রাজশাহী অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলী এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।

২০ মে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন ভবনে আসবাবপত্র ও আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র তোলার অস্বাভাবিক খরচ তদন্তে গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন চেয়ে রিটের শুনানি স্ট্যান্ডওভার (মুলতবি) রাখেন হাইকোর্ট।

বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প এলাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য নির্মাণাধীন গ্রিন সিটি আবাসন পল্লীর নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনা ও তা ভবনে তোলায় অনিয়ম নিয়ে ১৬ মে একটি দৈনিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। পরে হাইকোর্টে এ নিয়ে রিট দায়ের হয়।