ঢাকা, আজ শুক্রবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২০

এসআই আকবরকে পালাতে সহায়তা করায় এসআই হাসান বরখাস্ত

প্রকাশ: ২০২০-১০-২১ ২০:৫৭:২১ || আপডেট: ২০২০-১০-২১ ২০:৫৭:২১

সিলেটে পুলিশি হেফাজতে নির্যাতনে রায়হানের মৃত্যুর ঘটনায় আরও এক এসআইকে সাময়িক বরখাস্ত করল সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ। বরখাস্তকৃত এসআই হাসান উদ্দিন বন্দর বাজার ফাঁড়ির টু-আইসি ছিলেন।

তার বিরুদ্ধে রায়হানকে নির্যাতনের মূল হোতা বন্দর বাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেনকে পালাতে সহযোগিতা ও তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

বুধবার সন্ধ্যায় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে পুলিশ হেফাজতে নেয়ার নির্দেশ দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এসএমপির উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) বিএম আশরাফ উল্লাহ তাহের। তিনি জানান, হাসান উদ্দিনকে কড়া পুলিশ প্রহরায় রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

তাকে গ্রেফতার করা হবে কিনা তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামলাটির তদন্তভার পিবিআইয়ের কাছে। গ্রেফতারের বিষয়ে তারা সিদ্ধান্ত নিবেন। তারা চাইলেই এসএমপি তাদের কাছে হস্তান্তর করবে বলে জানান তিনি।

গত ১১ অক্টোবর পুলিশি নির্যাতনে রায়হান নিহতের পর ১২ অক্টোবর পালিয়ে যায় প্রধান সন্দেহভাজন বন্দর বাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর। তার পালিয়ে যাওয়া নিয়ে পরবর্তীতে আরও একটি তদন্ত কমিটি করে এসএমপি। যদিও এসএমপি এ বিষয়ে এর আগে কখনোই গণমাধ্যমে জানাননি। সেই তদন্ত কমিটি আকবর পালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে এসআই হাসান উদ্দিনের সংশ্লিষ্টতা পায়।

সেই সঙ্গে বন্দর বাজার ফাঁড়ির সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও নষ্ট করার অভিযোগ রয়েছে হাসান উদ্দিন ও এক স্থানীয় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে।

প্রসঙ্গত, গত ১১ অক্টোবর সিলেটের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে ধরে নিয়ে টাকার জন্য অমানবিক নির্যাতন করা হয় নগরীর নেহারিপাড়া এলাকার বাসিন্দা রায়হানকে (৩৩)। ভোরে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় রোববার দিবাগত রাতে সিলেট কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন নিহত রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি।

মামলায় নিহতের স্ত্রী উল্লেখ করেন, বন্দরবাজার ফাঁড়িতে পুলিশি নির্যাতনেই রায়হানের মৃত্যু হয়েছে।

গত ১০ অক্টোবর রাতে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনের তদন্তে গত ১১ অক্টোবর এসএমপির উপকমিশনার (ডিসি-উত্তর) আজবাহার আলী শেখের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়। বন্দরবাজার ফাঁড়িতেই পুলিশের নির্যাতনে রায়হানের মৃত্যুর বিষয়ে প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণ পায় তদন্ত কমিটি।

তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, নির্যাতনে সরাসরি অংশগ্রহণের জন্য বন্দর ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন কনস্টেবল তৌহিদ মিয়া, টিটু চন্দ্র দাস ও হারুনুর রশীদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। আর রায়হানকে ধরে ফাঁড়িতে আনার জন্য বন্দরবাজার ফাঁড়ি থেকে প্রত্যাহার করা হয় এএসআই আশেক এলাহী, কুতুব আলী, কনস্টেবল সজীব হোসেনকে।

এর মধ্যে এসআই আকবর হোসেন পালিয়ে গেলেও বাকি ছয়জন পুলিশ লাইনে কড়া নিরাপত্তা হেফাজতে ছিল।

4.1k
Shares
facebook sharing buttonmessenger sharing buttontwitter sharing buttonpinterest sharing buttonlinkedin sharing buttonprint sharing button