ঢাকা, আজ শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০

ইসি বলে- ‘আওয়ামী লীগ জিতলেই নির্বাচন সুষ্ঠু’: নজরুল ইসলাম খান

প্রকাশ: ২০২০-১০-১৮ ১৯:৫৯:৩৭ || আপডেট: ২০২০-১০-১৮ ১৯:৫৯:৩৭

দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা প্রসঙ্গে বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কঠোর সমালোচনা করেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

তিনি বলেছেন, ‘গণতন্ত্রের বাহন হলো নির্বাচন। নির্বাচন ছাড়া গণতন্ত্র হয় না। কিন্তু নির্বাচনকে তারা (সরকার ও নির্বাচন কমিশন) সম্পূর্ণভাবে পরিত্যক্ত, অগ্রহণযোগ্য ও হেয় করে ফেলেছে।
আমাদের নির্বাচন কমিশন (ইসি) বলে- ‘আওয়ামী লীগ জিতলেই নির্বাচন সুষ্ঠু!’ নির্বাচনের পরিবেশ কেমন ছিলো, ভোটার ভোট দিতে গেলো কি গেলো না সেটি তাদের কাছে বিবেচ্য নয়।’

দেশের গণতন্ত্র এখন মুমূর্ষু অবস্থায় আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের নামে নাটক করছে।’

রবিবার (১৮ অক্টোবর) সকালে শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করেন। নেতৃবৃন্দ জিয়ার মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান এবং কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।

পরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করেন। মোনাজাতে নেতাকর্মীদের সুস্থতা ও দেশের সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।

মোনাজাত পরিচালনা করেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমন্বয় কমিটির সদস্য সচিব দেলোয়ার হোসেন। অসুস্থ থাকায় জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা: ফরহাদ হালিম ডোনার অনুষ্ঠানে আসতে পারেননি।

মাজার জিয়ারত শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘শনিবার ঢাকা এবং নওগাঁয় দুটি সংসদীয় আসনে উপনির্বাচন হয়েছে। ঢাকার আসনে ভোট পড়েছে ১০ শতাংশ। ঢাকা শহরে ১০ শতাংশ ভোট পড়বে এটা কী করে হয়? আমাদের কোনও এজেন্টকে কেন্দ্রে ঢুকতেই দেয়নি।’

তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র এখন মুমূর্ষু অবস্থায় আছে। সারা দুনিয়ার মানুষ আজ কোভিড নামক মহামারিতে আক্রান্ত। আর বাংলাদেশ কোভিডের পাশাপাশি দুর্নীতি, অনাচার, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং দলীয়করণ এ ধরনের আরও কয়েকটা মহামারিতে আক্রান্ত। এতো মহামারি থেকে আল্লাহ যেন দেশটাকে হেফাজত করেন, সেজন্য দোয়া করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশটাকে স্বাধীন করেছিলাম গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও ন্যায়ের জন্য। বৈষম্য দূর করার জন্য, শান্তি ও সমৃদ্ধিতে বাস করার জন্য যুদ্ধ করেছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্য আজকে স্বাধীনতার ৫০ বছরেও দেশে এসব কিছুই নেই।’

বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, ‘আজকে সরকার গর্ব করে যে দেশের প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। কার প্রবৃদ্ধি? দেশের প্রবৃদ্ধি তো হলো একটা গড়। হাতে গোনা কিছু মানুষ বিপুল বৈভবের মালিক হচ্ছে। আর মানুষের বিরাট অংশ গরিব হচ্ছে। নতুন করে আরও ১ কোটি ৬৪ লাখ মানুষ গরিব হয়েছে।

বাংলাদেশে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে, কিন্তু মানুষ কেমন আছে? সুখে আছে নাকি দুঃখে আছে?