ঢাকা, আজ বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২০

সূরা ফাতেহা সব রোগের মহাওষুধ

প্রকাশ: ২০২০-০৭-১০ ১৬:০৯:৩৪ || আপডেট: ২০২০-০৭-১০ ১৬:০৯:৩৪

মুফতি নূর মুহাম্মদ রাহমানী: সূরা ফাতেহা পবিত্র কোরআনুল কারিমের প্রথম সূরা। সূরাটি কোরআনের নির্যাস। কোরআনের বাকি ১১৩টি সূরা আসলে সূরা ফাতেহারই ব্যাখ্যা। পুরো কোরআনে মূলত তিনটি বিষয় আলোচনা করা হয়েছে।
null

null

null
আল্লাহতায়ালার পরিচয়, আল্লাহপাকের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক, আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টি লাভের জন্য মানুষের করণীয় ও বর্জনীয়। সূরা ফাতেহায় এ তিনটি বিষয় খুব চমৎকারভাবে বলে দেয়া হয়েছে।

হজরত আবু হুরাইরা (রা.) বলেন, রাসূল (সা.) একদিন উবাই ইবনে কাব (রা.)কে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কীভাবে নামাজে কোরআন পড়?null

null

null তিনি সূরা ফাতেহা পড়ে শুনালেন। তখন রাসূল (সা.) বললেন, কসম সেই আল্লাহর, যার হাতে আমার জীবন, সূরা ফাতেহার মতো কোনো সূরা না তওরাতে নাজিল হয়েছে, না ইঞ্জিলে, না জাবুরে আর না কোরআনে নাজিল হয়েছে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস ২৮৭৫; মিশকাত, হাদিস ২১৪২)।null

null

null

হজরত আবদুল মালেক ইবনে ওমায়ের (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সূরা ফাতেহা সব রোগের মহাওষুধ।’- (সুনানে দারেমি, হাদিস ৩৪১৩; মিশকাত, হাদিস ২১৭০)।

মিশকাত শরিফের ব্যাখ্যাকার মোল্লা আলী কারী (রহ.) মিরকাতুল মাফাতিহে বলেন, ‘সূরা ফাতেহার অক্ষর, শব্দ পড়াতে যেমন শেফা আছেnull

null

null তেমনি লেখাতেও শেফা আছে। যে কোনো ধরনের রো’গ চাই দ্বিনী হোক কিংবা পার্থিব, অনুভবযোগ্য হোক বা না হোক সব কিছু এ সূরা পড়া বা লেখার বরকতে আল্লাহর ইচ্ছায় আরো’গ্য হবে।’

হজরত আবু সাঈদ ইবনে মুআল্লা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.)-এর কয়েকজন সাহাবি আরবের এক গো’ত্রে এলেন। গো’ত্রের লোকেরা null

null

nullতাদের কোনো মেহমানদারি করল না। হঠাৎ ওই গো’ত্রের নেতাকে সাপে কা’টে। তখন তারা এসে বলল, আপনাদের কাছে কি কোনো ওষুধ আছে?

তারা উত্তর দিলেন, হ্যাঁ, আছে। তবে তোমাদের আমাদের মেহমানদারি করতে হবে। আমরা প্রচ’ণ্ড ক্ষু’ধা’র্ত। তারা মেহমানদারি করতে রাজি হল। এ ছাড়া আমরা তাদের কাছে একপাল বকরি চাইলাম। তখন একজন সাহাবি উম্মুল কোরআন অর্থাৎ সূরা ফাতেহা পড়ে মুখে থুথু জমা null

null

nullকরে সে ব্যক্তির ক্ষ’তে মে’খে দিলেন। ফলে বি’ষ নে’মে গেল এবং সে সুস্থ হয়ে গেল।

সাহাবিরা খাওয়া-দাওয়া করে নবী করিম (সা.)-এর কাছে বকরিসহ ফিরে এলেন। তারা রাসূল (সা.)-এর কাছে জানতে চাইলেন তাদের এ null

null

nullধরনের কাজ ঠিক হল কি না। নবী (সা.) শুনে মুচকি হাসলেন এবং বললেন, তোমরা কীভাবে জানলে যে, সূরা ফাতেহায় শেফা রয়েছে। ঠিক আছে বকরিগুলো নিয়ে যাও এবং তাতে আমার জন্যও একটি অংশ রেখে দিও।’ (বুখারি, হাদিস ৫০০৬।)
null

null

null
সূরা ফাতেহা যে কোনো রোগের জন্য ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। করোনা মহামা’রীতে বিশ্ব আজ স্থ’বির নিস্ত’ব্ধ। বিশ্বের সেরা সেরা বিজ্ঞানী এবং চিকিৎসক মিলেও এ রোগের ওষুধ আবিষ্কার করতে পারছে না। তাই চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরামর্শগুলো মে’নে চলার পাশাপাশি আমরা সূরা ফাতেহার আমলও করতে পারি।

লেখক : মুহাদ্দিস, জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম বাগে জান্নাত, নারায়ণগঞ্জ