ঢাকা, আজ বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২০

আমি বাঁচতে চাই ! সকলের কাছে আনুরোধ এই ছবিটি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিন ।

প্রকাশ: ২০২০-০৬-২৯ ১৮:২৮:০৩ || আপডেট: ২০২০-০৬-২৯ ১৮:২৮:০৩

সকলের কাছে আনুরোধ এই ছবিটি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিন ।কোন ড. এর নজরে আসলে ছেলে টি যেন চিকিৎসা হতে পারে। amin

ইসলাম গ্রহন করলেন বাবরি মসজিদ ভাঙতে প্রথম শাবল চালানো শিবসেনা কর্মী বলবীর সিং
null

null

null
ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংসে নেতৃত্বদানকারী শিবসেনা কর্মী বলবীর সিং ইসলাম গ্রহণ করে এখন মুহম্মদ আমীর। তিনি তার কর্মের প্রায়শ্চিত্ত করতে সংস্কার কর চলেছেন একের পর এক মসজিদ। দুই যুগ আগে অযোধ্যায় বাবরি মসজিদের গম্বুজে উঠে শাবলের ঘা মারা শিবসেনার সক্রিয় কর্মী বলবীর সিং এখন মোহাম্মদ আমির।
null

null

null
আল্লার নাম জপেন সব সময়। ভোরে আজান দেন। লম্বা দাড়ি রেখে তিনি এখন পুরো দস্তুর মৌলভি। প্রায়শ্চিত্ত করতে ভেঙে পড়া শ’খানেক মসজিদ সংস্কার করতে চান তিনি। এক সময় শিবসেনার সক্রিয় কর্মী বলবীর সিংহ বাবরির মাথায় শাবল চালিয়ে সব খুইয়েছিলেন। বাবা বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলেন।
null

null

null
স্ত্রীও শোনেননি তার কথা,তার হাত ধরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেননি। বাবার মৃত্যুর পর বাড়ি ফিরে শুনেছিলেন- বাবা নাকি বলে গিয়েছিলেন তার দ্বিতীয় সন্তানের (বলবীর) মুখ যেন বাড়ির কেউ আর না দেখেন। এমনকী বলবীরকে যেন তার বাবার মুখাগ্নিও করতে না দেয়া হয়। বলবীরের বন্ধু যোগেন্দ্র পালেরও একই দশা। ২৫ বছর আগে যিনি বলবীরের সঙ্গেই উঠেছিলেন বাবরির মাথায়।
null

null

null
শাবলের ঘায়ে ভেঙেছিলেন মসজিদ। বহু দিন আগে তিনিও হয়ে গেছেন পুরোদস্তুর মুসলিম। বলবীর জানান, তার পরিবার কোনও দিনই উগ্র হিন্দু ছিলেন না। ইতিহাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান আর ইংরেজি, এই তিনটি বিষয়ে এমএ ডিগ্রি পাওয়া বলবীর তার মা, বাবা, ভাই, বোনদের নিয়ে ছোটবেলায় থাকতেন পানিপথের কাছে খুব ছোট্ট একটা গ্রামে। বলবীরের বয়স যখন ১০, তখন তিনি ও তার ভাইদের পড়াশোনার জন্য বলবীরের বাবা দৌলতরাম তাদের নিয়ে চলে যান পানিপথে।

null

null

null
তার বাবা বরাবরই গান্ধীবাদে বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি দেশভাগ দেখেছিলেন। তার যন্ত্রণা বুঝেছিলেন। তাই আমাদের আশপাশে যে মুসলিমরা থাকতেন, উনি তাঁদের আগলে রাখতেন সব সময়। কিন্তু পানিপথের পরিবেশটা ছিল অন্য রকম। হরিয়ানার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে আসা লোকজনরা তেমন মর্যাদা পেতেন না পানিপথে। ফলে একটা গভীর দুঃখবোধ সব সময় তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াত বলবীরকে।
null

null

null
সেই পানিপথেই একেবারে অচেনা, অজানা আরএসএসের একটি শাখার কর্মীরা বলবীরকে দেখা হলেই ‘আপ’ ‘আপ’ (আপনি, আপনি) বলে সম্বোধন করতেন। বলবীর বলছেন, সেটাই আমার খুব ভালো লেগেছিল। সেই থেকেই ওদের (আরএসএস ) সঙ্গে আমার ওঠবোস শুরু হয়। শিবসেনা করতে করতেই বিয়ে করি। এমএ করি রোহতকের মহর্ষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।
null

null

null
ওই সময় প্রতিবেশীরা ভাবতেন আমি কট্টর হিন্দু। কিন্তু বাবা কোনও দিনই মূর্তি পূজায় বিশ্বাস করতেন না। আমরা কোনও দিনই যেতাম না মন্দিরে। বাড়িতে একটা গীতা ছিল ঠিকই, কিন্তু আমি বা আমার ভাইয়েরা কেউই সেটা কখনও পড়িনি। পানিপথে কেউ বাঁ হাতে রুটি খেলেও তখন তাকে ‘মুসলিম’ বলে হেয় করা হয়। শিবসেনার লোকজনদের কাছ থেকে ‘সম্মান’ পেয়ে তাদের ভালো লেগে যায় বলবীরের।
null

null

null
শিবসেনাই তাকে অযোধ্যায় পাঠিয়েছিল বাবরি ভাঙতে। পাঠিয়েছিল বলবীরের বন্ধু যোগেন্দ্র পালকেও। তারা হয়ে যান করসেবক। বলবীর জানিয়েছেন, বাবরি ভেঙে পানিপথে ফিরে যাওয়ার পর সেখানে তাকে ও যোগেন্দ্রকে তুমুল সংবর্ধনা জানানো হয়। তারা যে দু’টি ইট এনেছিলেন বাবরির মাথায় শাবল চালিয়ে, সেগুলি পানিপথে শিবসেনার স্থানীয় অফিসে সাজিয়ে রাখা হয়।
null

null

null
কিন্তু বাড়িতে ঢুকতেই তেড়ে আসেন বলবীরের বাবা দৌলতরাম। বলবীরের কথায়, বাবা আমাকে বললেন, হয় তুমি এই বাড়িতে থাকবে, না হলে আমি। তো আমিই বেরিয়ে গেলাম বাড়ি থেকে। আমার স্ত্রীও বেরিয়ে এল না। থেকে গেল বাড়িতেই। ওই সময় ভবঘুরের মতো জীবন কাটিয়েছেন বলবীর। লম্বা দাড়িওলা লোক দেখলেই ভয়ে আঁতকে উঠতেন তখন। বেশ কিছু দিন পর বাড়িতে ফিরে জানতে পারেন, বাবা মারা গিয়েছেন।
null

null

null
তিনি বাবরি ভাঙায় যে দুঃখ পেয়েছিলেন বাবা, তাতেই নাকি তার মৃত্যু হয়েছে। এর পর পুরনো বন্ধু যোগেন্দ্রের খোঁজখবর নিতে গিয়ে আরও মুষড়ে পড়েন বলবীর। জানতে পারেন, যোগেন্দ্র মুসলিম হয়ে গেছেন। যোগেন্দ্র নাকি তখন বলবীরকে বলেছিলেন, বাবরি ভাঙার পর থেকেই তার মাথা বিগড়ে গিয়েছিল। যোগেন্দ্রর মনে হয়েছিল পাপ করেছিলেন বলেই সেটা হয়েছে। প্রায়শ্চিত্ত করতে গিয়ে তাই মুসলিম হয়ে যান যোগেন্দ্র।
null

null

null
এর পরেই আর দেরি না করে সোনেপতে গিয়ে প্রখ্যাত আলেম মাওলানা কালিম সিদ্দিকির কাছে মুসলিম ধর্মে দীক্ষা নেন বলবীর। হয়ে যান মহম্মদ আমির। ‘প্রায়শ্চিত্ত’ করতে বলবীর সিং ওরফে মহম্মদ আমির ভেঙে পড়া শ’খানেক মসজিদকে মেরামত করতে চান। বলবীরের দাবি, ১৯৯৩ থেকে ২০১৭, এই ২৪ বছরে উত্তর ভারতের বিভিন্ন জায়গায়, বিশেষ করে মেওয়াটে বেশ কিছু ভেঙে পড়া মসজিদ খুঁজে বের করে সেগুলির মেরামত করেছেন তিনি। উত্তরপ্রদেশের হাথরাসের কাছে মেন্ডুর মসজিদও স্থানীয় মুসলমানরে নিয়ে নাকি সংস্কার করেছেন বলবীরই।

২০০৯ সালের ৯ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার থানারপাড়া থানার অন্তর্গত নতিডাঙ্গা অমীয় স্মৃতি বিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠে এক ইসলামিক ওয়াজ মাহফিলে এসেছিলেন তিনি। সেখানে হাজার হাজার মানুষের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তিনি। আপনি কেন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন? -আমি বাবরি মসজিদ ধ্বংস করার পর পাগল হয়ে গিয়েছিলাম। ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে জানার জন্য উদগ্রীব হয়ে পড়ি। অবশেষে শান্তিতলে এলাম।
null

null

null
আপনার পরিবার? -আমরা তিন ভাই। সবাই ইসলাম গ্রহণ করেছি। আর আমার ছেলেমেয়ে? মুসলিম ঘরের ছেলেমেয়েরা আবার মুসলিম না হয়ে কী হবে। কতজন মিলে বাবরি মসজিদ ভেঙেছেন? -মিডিয়া তো লাখ লাখ বলছে। কিন্তু আমরা বিভিন্ন ভাগে ছিলাম। ৫০০ জন নিয়ে দল। ৭০০ জন নিয়ে দল এভাবে। আমি ওদের নেতৃত্বে ছিলাম। প্রশাসন? -পুলিশ প্রশাসন নীরব ছিল। তারা আমাদের মসজিদ ভাঙার কাজে সাহায্য করেছিল।
null

null

null
সেখানে কোনো মুসলিম যায়নি? -মুসলমান যাওয়ার উপায় ছিল না। হিন্দু সেজে গেলেও তাকে উলঙ্গ করে পরীক্ষা করা হতো। বাবরি মসজিদ ব্যাপারে আপনি এখন কী ভাবছেন? -ওটা সম্পূর্ণ সুপ্রিম কোর্টের বিচারাধীন। সুপ্রিম কোর্ট কী রায় দেয় তা দেখার জন্য দেশবাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। হিন্দু ও মুসলিম ভাইদের জন্য আপনার মেসেজ কী? -সব ধর্মগ্রন্থে ইসলাম ধর্মের কথা আছে।
null

null

null