ঢাকা, আজ শুক্রবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২০

মুসলিম ব্যক্তির হৃৎপিণ্ডে জীবন ফিরে পেলেন হিন্দু যুবক!

প্রকাশ: ২০২০-০৬-২৬ ২৩:০২:৪৮ || আপডেট: ২০২০-০৬-২৬ ২৩:০২:৪৮

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের প্র’তিবাদে মুসলিমদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাস্তায় নেমেছেন হিন্দুরাও। জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, তিনি মুসলিম নন, তাও সিএএ-র বি’রোধ করছেন। এমন সময়ে একটু ভিন্ন কারণে ভিন্ন ধর্মের মধ্যে ঘটে গেল সম্প্রীতির আদানপ্রদান।
null

null

null
শনিবার রাতে সড়ক দু’র্ঘটনায় গুজরাটের ভাবনগর জেলার চোরভাদালা গ্রামের বাসিন্দা ৩৬ বছরের এক মুসলিম ব্যক্তির মস্তিষ্কের মৃত্যু ঘটে। ওই ব্যক্তির হৃৎপিণ্ড দান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আলোচনার পর সেই হৃৎপিণ্ড জামনগরের ৪৯ বছরের এক হিন্দু ব্যক্তির শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়।
null

null

null
আমেদাবাদের সিআইএমএস হাসপাতালের ধীরেন শাহ জানান, ‘দুটি গ্রিন করিডোরের মাধ্যমে প্রায় ১৮০ কিমির পথ ৮২ মিনিটে অতিক্রম করে ভাবনগর জেলা থেকে আনা হয় দাতার হৃৎপিণ্ড। তারপর সেটি গ্রহীতার শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়।’ ধীরেন শাহের দাবী অনুযায়ী এটি গুজরাটে প্রথম হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপন সার্জারি।
null

null

null
সূত্রের খবর, দাতা ভাবনগর সরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাতার নাম ও অন্যান্য তথ্য জানাতে অস্বীকার করে। পরে জানা যায় দাতা মুসলিম ধর্মের ও গ্রহীতা হিন্দুধর্মের ব্যক্তি। যে সময়ে এক ধর্মের মানুষের রক্ত নিতে অস্বীকার করে অন্য ধর্মের মানুষ, সেখানে এই সম্প্রীতির নিদর্শন সত্যিই নাড়া দিয়ে যায়। সুত্র: নিউজ পোল
null

null

null
বিরোধীদের চিঠি দিয়ে ঐক্যের ডাক মমতার!

ভারতজুড়ে নয়া নাগরিকত্ব আইন আর এনআরসি-র বি’রুদ্ধে নাগরিক প্র’তিবাদ চলছিলই। তারই মধ্যে ঝাড়খণ্ডে বিজেপির হারের পরে বিরোধী শিবির বুঝছে, এ বার কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগোতে হবে। সেই পথে প্রথম পদক্ষেপ করে আজ তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী শিবিরকে এক মঞ্চে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘‘বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ ভাবে এক মঞ্চে আসতে হবে।’’
null

null

null
মমতা আজ সমস্ত বিজেপি-বিরোধী দলের প্রধান এবং অ-বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রীদের চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে তাঁর যুক্তি, ‘‘আজ, আগের থেকে অনেক বেশি করে আমাদের একত্রিত হয়ে এই নির্মম সরকারের বি’রুদ্ধে দাঁড়াতে হবে।’’ মমতা এই চিঠি লিখেছেন তৃণমূল নেত্রী হিসেবে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নয়।
null

null

null
সনিয়া গাঁধী থেকে শরদ পওয়ার, ডিএমকে-প্রধান স্ট্যালিন থেকে অখিলেশ যাদবকে বৈঠকে বসার ডাক দিয়ে মমতার আহ্বান, ‘‘আসুন, আমরা দেখা করে আমাদের গণতন্ত্রকে রক্ষা করা ও প্র’তিবাদের সম্মিলিত পরিকল্পনা তৈরি করি।’’
null

null

null
এক সময় কংগ্রেস-মুক্ত ভারতের ডাক দিয়েছিল বিজেপি। কিন্তু গত দু’বছরে বিজেপির হাত থেকেই একের পর এক রাজ্য হাতছাড়া হয়েছে। ২০১৭-র ডিসেম্বরে দেশের ৭১ শতাংশ এলাকায় বিজেপির শাসন ছিল। এখন তা ৩৫ শতাংশে নেমে এসেছে।
null

null

null
দু’বছর আগে জনসংখ্যার ৬৮ শতাংশ মানুষ বিজেপিশাসিত রাজ্যে বাস করতেন। এখন তা ৪৩ শতাংশে নেমে এসেছে। বিরোধী শিবিরের মতে, বিজেপির এ বার উল্টো গতি শুরু হয়েছে। এ বার বিরোধীদের একসঙ্গে থাকতে হবে। একে অপরের জন্য জায়গা ছেড়ে দিতে হবে।
null

null

null
আজ ঝাড়খণ্ডের ফল প্রকাশের পর এনসিপি-সুপ্রিমো শরদ পওয়ার বলেন, ‘‘এই ফল স্পষ্ট বলছে, মানুষ অ-বিজেপি দলগুলির সঙ্গে রয়েছে। রাজস্থান, ছত্তীসগঢ়, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্রের পর এ বার ঝাড়খণ্ডেও মানুষ বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে দূরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’’
null

null

null
কংগ্রেস নেতা গুলাম নবি আজাদ বলেন, ‘‘ভবিষ্যতেও যে সব রাজ্যে ভোট হবে, সেখানেও ফলাফল বিজেপির বি’রুদ্ধে যাবে। কারণ গত ছ’বছরে প্রধানমন্ত্রী দেশকে বোকা বানানোর চেষ্টা করেছেন। কোনও প্রতিশ্রুতিই পূরণ করেননি।’’
null

null

null
নয়া নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসি-র বি’রুদ্ধে মমতাই প্রথম সরব হয়েছিলেন। পশ্চিমবঙ্গে নাগরিকত্ব আইন, এনআরসি হতে দেওয়া হবে না বলে তিনিই প্রথম সিদ্ধান্ত নেন। ক্রমে কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নও সে পথে হেঁটেছেন।
null

null

null
আজ দিল্লির রাজঘাটে কংগ্রেসশাসিত রাজ্যের মন্ত্রীরা জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁদের রাজ্যগুলিতেও তাঁরা নয়া নাগরিকত্ব আইন-এনআরসি হতে দেবেন না। মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী কমলনাথ, রাজস্থানের অশোক গহলৌত, ছত্তীসগঢ়ের মন্ত্রী টি এস সিংহদেও এ কথা জানানোর পরে মহারাষ্ট্রে কংগ্রেসের মন্ত্রী বালাসাহেব থোরাটও উদ্ধব সরকারের হয়ে ঘোষণা করেছেন, মহারাষ্ট্রেও নয়া নাগরিকত্ব আইন-এনআরসি হবে না।
null

null

null
মমতার যুক্তি, নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসি-র ফলে জাত-ধর্ম নির্বিশেষে দেশের প্রান্তিক মানুষ আতঙ্কিত। সনিয়া-পওয়ারকে পাঠানো চিঠিতে মমতা লিখেছেন, ‘‘আমার বয়োজ্যেষ্ঠ নেতানেত্রী ও সব রাজনৈতিক দলের কাছে সনির্বন্ধ অনুরোধ, এর বি’রুদ্ধে এক সুরে, একজোট হয়ে রুখে গাঁড়াতে হবে।’’
null

null

null
বিরোধী শিবিরের মতে, সিএএ সমর্থন করলেও নীতীশ কুমার, নবীন পট্টনায়ক, জগন্মোহন রেড্ডিরা কিন্তু এনআরসি-র বি’রুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। ফলে মোদী সরকার প্যাঁচে। লোকসভা ভোটের আগেও মমতার রণকৌশল ছিল, যার যেখানে শক্তি রয়েছে, সে সেখানে লড়বে। বাকিরা তাকে সমর্থন জানাবে।
null

null

null
আজও মমতা বলেছেন, ‘‘যার যেখানে জোর রয়েছে, সে সেখানে প্র:তিবাদ করছে। এখন সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কারণ কেন্দ্রের শাসক দল প্রশাসনিক ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে গণতান্ত্রিক আ’ন্দোলনের উপরে বুলডোজার চালাচ্ছে।’’
null

null

null
সূত্রের খবর, ঝাড়খণ্ডের ভোটের পর কংগ্রেসও এখন জোট বাঁধার প্রয়োজন বুঝতে পারছে। মহারাষ্ট্রে রাহুলের ইচ্ছার বি’রুদ্ধে গিয়েই শিবসেনার সঙ্গে জোট বাঁধার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সনিয়া গাঁধী। শিবসেনা নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাশের সময় সংসদে পুরোপুরি কংগ্রেসের পাশে থাকেনি।
null

null

null
বিলের বি’রুদ্ধে ভোট দেয়নি। আজ ঝাড়খণ্ডের ভোটের ফলের পরে কিন্তু সেই শিবসেনার মুখপাত্র সঞ্জয় রাউতই মন্তব্য করেছেন, ‘‘মোদী-শাহ জনসভায় নয়া নাগরিকত্ব আইন নিয়ে অনেক কথা বলেছেন। হিন্দু-মুসলমান করেছেন। কিন্তু ওখানকার গরিব-আদিবাসী সবাই মিলে বিজেপিকে দূরে রেখেছে।’’
null

null

null
সূত্র: আনন্দবাজার