ঢাকা, আজ বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

পালা’ক্রমে ধ’র্ষণের পর হ’ত্যার রো’মহ’র্ষক বর্ণনা দিল ব্য’র্থ প্রেমিক

প্রকাশ: ২০২০-০৬-০৫ ০৯:১৩:১০ || আপডেট: ২০২০-০৬-০৫ ০৯:১৩:১০

নাইদহ থেকে : ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের দাদপুর গ্রামে তিন বন্ধু মিলে ধ’র্ষ’ণ করে নববধূ কেয়াকে। পরে লা’শ মাটিচা’পা দেয় ব্য’র্থ প্রেমিক মিলন ও তার সহযোগীরা। লা’শ উ’দ্ধারের তিন মাস পর হ’ত্যার এমন রো’মহ’র্ষক বর্ণনা দেয় নি’হ’তের ব্য’র্থ প্রেমিক ও অপর দুই ধ’র্ষ’ক।

এ ঘটনায় ঘা’তক তিনজনকে গ্রে’ফতার করা হয়েছে। যারা আদালতে হ’ত্যার দা’য় স্বী’কার করে স্বী’কারোক্তিমূলক জ’বানব’ন্দি দিয়েছেন। গ্রে’ফতাররা হলেন- কালীগঞ্জের ত্রীলোচনপুর গ্রামের সলেমান হোসেনের ছেলে মিলন হোসেন (২৬), একই গ্রামের আসাদুল ইসলামের ছেলে ইসরাফিল (২৫) ও আজগর আলীর ছেলে আজিম (২৬)।

জানা যায়, চলতি বছরের ১৩ মার্চ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার দাদপুর গ্রামের একটি রাস্তার পাশ থেকে মাথার চুলসহ ক্লি’প ও একটি স্যান্ডেল পাওয়া যায়। যার সূ’ত্র ধ’রে ওই গ্রামের মাঠের মধ্যে থেকে কলাগাছ ও গাছের পাতার নিচে মাটিতে পুঁ’তে রাখা গ’লিত লা’শ উ’দ্ধা’র করা হয়। পরে লা’শটি কালীগঞ্জ উপজেলার ত্রীলোচনপুর গ্রামের আব্দুস সামাদের মেয়ে কেয়া খাতুনের বলে শ’না’ক্ত করে নিহ’তের স্বজনরা। যিনি ১৭ দিন ধ’রে নি’খোঁ’জ ছিলেন।

ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান বলেন, লা’শ উ’দ্ধারের পর হ’ত্যার মো’টিভ উ’দ্ধা’র ও হ’ত্যাকারীদের গ্রে’ফতারে তদ’ন্ত শুরু করে পুলিশ। ঘ’টনাস্থ’ল থেকে হ’ত্যাকা’রীদের কোনো আলামত না পেয়ে ক্লু’-লে’স এ মামলার ত’দ’ন্তে কিছুটা বে’গ পেতে হয়। পরে কেয়ার বিয়ের আগে ও পরে নানা বিষয়ে প’র্যালো’চনা করা হয়। এতে জানা যায়, কেয়ার সঙ্গে তিন বছর আগে থেকে একই গ্রামের সলেমানের ছেলে মিলন হোসেনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু পরিবার থেকে একই উপজেলার নরেন্দ্রপুর গ্রামের মাইক্রোবাস চালক সাবজাল হোসেনের সঙ্গে কেয়ার বিয়ে দেয়া হয়।

কেয়ার বিয়ের পর মিলন হোসেন প্রেমে ব্য’র্থ হয়ে এ ঘ’টনা ঘ’টাতে পারে এমন স’ন্দে’হে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর এলাকায় ছ’দ্মবে’শে অ’ভিযান শুরু করে পুলিশ। অ’ভিযানের একপ’র্যায়ে গত ১৬ মার্চ জীবননগরের হাসাদাহ এলাকা থেকে মিলনকে আ’টক করা হয়। জিজ্ঞা’সাবাদের একপর্যায়ে মিলন হ’ত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বী’কার করে। পরে সে আদালতে স্বী’কারো’ক্তিমূলক জবানব’ন্দি দেয় এবং সঙ্গে ইসরাফিল ও আজিম জড়িত বলে জানায়।

মিলন গ্রে’ফতার হওয়ার পর আসামি ইসরাফিল ও আজিম গাঢাকা দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করতে থাকে। তথ্যপ্রযু’ক্তি ব্যবহার করে ইসরাফিলকে ২৭ মার্চ গ্রে’ফতার করলে সেও হ’ত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বী’কার করে।

আলাদা জিজ্ঞা’সাবাদে দুজনের বক্তব্য একই রকম হওয়ায় ইসরাফিল হ’ত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি পুলিশ নি’শ্চিত হয়। সেই সঙ্গে আজিমও জড়িত বলে নি’শ্চিত হওয়া যায়। দুজনকে গ্রে’ফতার করা হলেও তৃতীয় আসামি আজিমকে গ্রে’ফতার করা যাচ্ছিল না। দীর্ঘ প্রায় তিন মাসের চেষ্টায় গত মঙ্গলবার (০২ জুন) কালীগঞ্জের বালিয়াডাঙ্গা এলাকা থেকে আজিমকে গ্রে’ফতার করা হয়। সেও হ’ত্যার দা’য় স্বী’কার করে আদালতে স্বী’কারো’ক্তিমূলক জ’বানব’ন্দি দিয়েছে।

হ’ত্যার দিনের ঘটনার বিষয়ে পুলিশ সুপার বলেন, আসা’মিদের আলাদা আলাদা জিজ্ঞা’সাবাদে তারা জানিয়েছে, ঘটনার দিন ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টার দিকে কেয়া খাতুনকে তার বাবার বাড়ি থেকে মিলন ফু’সলিয়ে নিয়ে যায়। বাড়ি থেকে ২ কিলোমিটার দূরে মাঠের মধ্যে নিয়ে প্রথমে মিলন তাকে ধ’র্ষ’ণ করে। পরে পা’লাক্র’মে আজিম ও ইসরাফিল ধ’র্ষ’ণ করে।

পুলিশ সুপার বলেন, ধ’র্ষণের পর মিলন বাঁশ দিয়ে কেয়ার মাথায় আ’ঘা’ত করে হ’ত্যা করে। পরে সেখানে পাশের বাড়ি থেকে একটি কোদাল এনে রাস্তার পাশে মাটি চা’পা দিয়ে কলাগাছ ও কলাগাছের পাতা দিয়ে ঢেকে রেখে পা’লিয়ে যায়। প্রেমে ব্য’র্থ হয়েই মিলন অন্য সহযোগীদের নিয়ে এ ঘ’টনা ঘ’টিয়েছে।

1 0 Google +0 0 0