ঢাকা, আজ রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০

এক অবাক করা মহিয়সী নারী-মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও প্রবাসিকে বিয়ে করে মুসলিম হওয়া লিজা

প্রকাশ: ২০২০-০৫-৩০ ২০:২৫:১৯ || আপডেট: ২০২০-০৫-৩০ ২০:২৫:১৯

সিনেমা বা গল্পের কোনো নায়িকার কথা লিখছি না। লিখছি বাস্তবজীবনের এক অবাক করা মহিয়সী নারীকে নিয়ে…. অপুর নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও স্বামীর সেবা করতে তাকে বিয়ে করে বিস্ময়কর নারী এলিজাবেথ (লিজা)
null

null

null
বাংলাদেশের নরসিংদীর মধ্যবিত্ত এক পরিবারের ছেলে সামসুল আলম অপু। বেশ নম্র ভদ্র ও উত্তম স্বভাবের একজন মানুষ। জার্মানিতে যার কর্মস্থল।
null

null

null
সেখানেরই এক তরুণি এলিজাবেথ ( লিজা) অপুর ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে অপুকে পছন্দ করে ফেলে। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই যেন কালো মেঘের ছায়ায় ওদের সব পবিত্র পরিকল্পনা ছেয়ে যায়।
null

null

null
ডাক্তার অপুকে বলেঃ অপুর ব্রেইন টিউমার! লিজাও জেনে যায় অপু আর বেশিদিন বাঁচবেনা। কিন্তু তা জেনেও লিজা ভালোবাসার মানুষটিকে ছেড়ে ফেলে দূরে সরে যায়নি।
null

null

null
দিনকে দিন অসুস্থতায় অপু অন্ধ হয়ে যায়। তবুও লিজা ছায়ার মতো তার পাশে ছিলো। সে অপুকে ছাড়তেই চাচ্ছিলো না। জীবনের শেষ সময়ে এসে অপু আগের তুলনায় আরো বেশি ধার্মিকে পরিণত হয়। ইসলামের প্রতি লিজার জমে থাকা আকর্ষণে লিজাও ইসলাম ধর্মের প্রতি বেশ অনুরক্ত হয়ে যায়।
null

null

null
‘লিজা’ ছিলো ‘এলিজাবেথ’ নামে অন্য ধর্মের মেয়ে। অপুর এই অন্ধ অবস্থায়ই লিজা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। ‘এলিজাবেথ’ থেকে সে হয়ে গেলো আমাদের ‘লিজা’। তারপর সে স্বামীর সেবায় ব্রত হয়ে অসুস্থ-অন্ধ অপুকে বিয়ে করার অবাক করা সিদ্ধান্ত নেয়।
null

null

null
অপুকে বিয়ে করার সময় ডাক্তারসহ সেখানকার দেশি কমিউনিটি লিজাকে পরিষ্কারভাবে জানালোঃ অপু সর্বোচ্চ আর তিন মাস বেঁচে থাকতে পারবে।লিজার ভালোবাসা একটুও কমেনি। লিজা তবুও তার সিদ্ধান্তে অটল রইলো। সে বললো অপুর শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত সে অপুর সাথে একসাথে থাকতে চায়।

শেষমেশ ইসলামি শরীয়ত মতেই অপুর সাথে লিজার বিয়ে হয়। অন্ধ হওয়ায় অপু কিছুই করতে পারতো না। তখন লিজাই অপুর সবকাজ করতো। কোনো সহকারী ছাড়াই রাতদিন ২৪ঘন্টা সে নিজহাতে অপুর সব কাজ করতো। লিজার কথা ছিলো স্বামীর সেবা স্ত্রীই তো করবে।
null

null

null
কিছুদিন যেতে না যেতেই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে অপু চলে যায় না ফেরার দেশে। এলিজাবেথ ইসলাম ধর্ম ও বাংলাদেশের প্রতি এতোটাই অনুরক্ত ছিলো যে, অপুর মৃত্যুর পর সে তার দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে চলে আসে। সোজা অপুর গ্রামের বাড়িতে এসে অপুর পরিবারের ‘বধু’ হিসেবে নিজেকে জড়িয়ে নেয়। অপুর পরিবারও যথারীতি তাকে আপন করে নেয়।
null

null

null
অপুর গ্রামের লোকজন, অপুর মা এবং পরিবারে সবাই লিজাকে দেখে অবাক হয় বারবার। হারানো ছেলে অপুকেই যেন লিজার মধ্যে খুঁজে পায় তারা। বর্তমানে লিজা অপুর স্মৃতিকে আঁকড়ে ধরে অপুর গ্রামের বাড়ি নরসিংদীতে আছে। বাঙালি বধু হিসেবে সে এমনভাবে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছে যে, বিশ্বাসও করতে পারবেন না। কুরআন পাঠ করাও শিখেছে লিজা। পড়ছে নামাজ। রাখছে রোযাও!
null

null

null
নামাজ, রোযাসহ ইসলামের প্রতিটি বিধান মানতে সে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। স্বামীর পরিবার, শাশুড়ির সেবায় তার কোনো জুড়িই নেই। ইসলাম ধর্মের অনুশাসন মানা, ধর্মের দীক্ষা নেবার পাশাপাশি রান্নাবান্না, কৃষিকাজ কিছুই করতে সে কুণ্ঠাবোধ করছে না।
null

null

null
.লিজা তার শাশুড়িকে গায়ে জড়িয়ে নিয়ে “This is my MAA” বলে নিজের মায়ের মতোই পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে। আর অপুর মা লিজাকে পরিচয় করাচ্ছেঃ “এইডা আমার পোলা” বলে। বউ-শাশুড়ির মধ্যে কী চমৎকার নয়ন জুড়ানো পবিত্র ভালোবাসা! লিজা বলেঃ সে তার বাকি
null

null

null
জীবনটা স্বামীর জন্য কুরআনা পাঠ করে, নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করে করেই কাটিয়ে দিতে চায়।
ইসলাম ধর্মের প্রতি এতো অগাধ বিশ্বাস আজকাল কয়জনের মধ্যে পাওয়া যায়?স্বামীভক্ত এমন নারীর ভালোবাসা তো সিনেমার গল্পকেও হার মানায়!শাশুড়ি ও স্বামীর পরিবারকে নিজের পরিবার মনে করে মন উজাড় করে দেয়া এমন নারী কয়জনা আছে আজকের এ জামানায়?
null

null

null
এমন নারীকে ‘বিস্ময়কর-মহীয়সী নারী’ বলবো না তো কী বলবো? ইউরোপের জৌলুস জীবনকে ছেড়ে ইসলাম ধর্মের জন্য, স্বামীর ভালোবাসার জন্য ইউরোপ ছেড়ে যে মেয়ে এমনভাবে নিজের পবিত্র ভালোবাসা ও বিশ্বাসের জানান দেয় —তার প্রতি তো অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে দোয়া
null

null

null
আসতে বাধ্য। লিজার বাস্তব জীবনের এই কথামালা থেকে সবার অনেক কিছু শিখার আছে। প্রাণভরে লিজার জন্য দোয়া করি। আল্লাহ তাঁকে দুনিয়া-আখিরাতে সুখী করুন। আল্লাহ লিজাকে উত্তম জাযা’ দান করুন। আমীন… ছুম্মা আমীন.. কাম্রুল ইসলাম জিসান

null

null

null