ঢাকা, আজ সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

সব বেচে টাকা পাঠাও, আমারে বাঁচাও: লিবিয়া থেকে মাকে ফোন যুবকের!

প্রকাশ: ২০২০-০৫-৩০ ২০:২১:৫৭ || আপডেট: ২০২০-০৫-৩০ ২০:২১:৫৭

যা আছে সব বিক্রি করে টাকা পাঠাও। আমি বাঁচতে চাই। আমারে বাঁচাও। ওরা প্রতিদিন মা’রধর করে। কারেন্টে শক দেয়। মা আমি বাঁচতে চাই। ’ বাচাঁর জন্য মোবাইল ফোনে এমনই আকুতি করেছিল মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার ইশিবপুর ইউনিয়নের ২৩ বছরের যুবক সজিব null

null

nullবেপারী। Horizontal Ad কিন্তু বাঁচতে পারেননি। সবকিছু বিক্রি করে দালালের কাছে টাকা দেয়ার পরও স;ন্ত্রাসীদের গু;লিতে প্রা;ণ হারায় সজিব। শুধু সজিব নয় এমন ১১ জন নি’হত হয়েছে মাদারীপুরের বিভিন্ন এলাকায়। আ’হত হয়েছে আরও ৪জন। সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্বপ্ন পূরণের আশায় স্থানীয় দালালদের আশ্বাসে বিদেশে পাড়ি null

null

nullজমিয়েছিল মাদারীপুরের বেশ কিছু যুবক। কিন্তু সেই আশায় গুঁড়েবালি। তাদেরকে লিবিয়া নেওয়ার পর দালালরা জিম্মি করে দফায় দফায় টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে না পারায় দফায় দফায় চলে নি’র্যাতন। অনেকেই আবার দাবিকৃত টাকা দিয়েও রক্ষা পায়নি। স্থানীয় দালালদের কাছে টাকা দিলেও লিবিয়ায় অবস্থানরত মাফিদাদের কাছে টাকা নাnull

null

null পৌঁছানোয় তাদের এক পর্যায়ে গু’লি করে হ’ত্যা করা হয়। মৃতদেহ দেশে ফিরিয়ে দেয়ার দাবি করেছেন নি’হতদের পরিবার। আর দোষীদের শাস্তির দাবি করেছেন ভুক্তভোগি পরিবার। প্রশাসনও দালালদের শাস্তির আওতায় আনার চেষ্টা করছেন বলে দাবি করছেন। জানা গেছে, দুই দিন আগে নি’র্মম নি’র্যাতনের করুণ আকুতি জানিয়েছিলেন সদর null

null

nullউপজেলার কুনিয়ার মনির আকন। তার কথা শুনে পরিবারও দালালদের দাবি করা ৭ লাখ টাকা সংগ্রহের চেষ্টা করছিল। কিন্তু এখন আর খোঁজ মিলছে না মনির আকনের। বিষয়টি জানাজানি হলে পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন স্বজনরা। মনিরের স্ত্রী মেরিনা বেগমের দাবি, স্থানীয় দালাল নূর হোসেনের মাধ্যমে পাঁচ মাস আগে null

null

nullইতালি যাওয়ার কথা বলে সাড়ে চার লাখ টাকা নিয়েছিল। এখন মৃত্যুর সংবাদ গা-ঢাকা দিয়েছে নুর হোসেন। আমরা এর বিচার চাই। এদিকে নি’হত সজিব বেপারী স্ত্রী নুরনাহার বেগম বার বার মুর্ছা যাচ্ছিলেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার সন্তানের বয়স ৫ মাস। ও বাবার মুখটাও দেখেনি। সুখের আশায় দালালের প্রলোভনে পারি জমিয়েছিল লিবিয়া। সেখানে দালালরা তাকে জিম্মি করে। প্রথম দফায় রেজাউল দালাল সাড়ে ৪ লক্ষ টাকা নেয়। পরে জিম্মি করে আরো ৫ লক্ষ টাকা null

null

nullনেয়। এরপর মাফিয়ারা তাকে গু’লি করে হ’ত্যা করে। সব টাকা দিয়েছি ধার দেনা করে। এখন কেমন করে এই দেনা পরিশোধ করবো। ’ স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশিসহ অভিবাসীদের মিজদা শহরের একটি জায়গায় টাকার জন্য জিম্মি করে রাখে মানবপাচারকারী চক্র। এ নিয়ে এক পর্যায়ে ওই চক্রের সঙ্গে মারামারি হয় অভিবাসী শ্রমিকদের। এতে null

null

nullএক মানবপাচারকারী মারা যায়। তারই প্রতিশোধ হিসেবে ২৮ মে বৃহস্পতিবার রাত ৯টারদিকে ২৬ বাংলাদেশিসহ ৩০ অভিবাসী শ্রমিককে গু’লি করে হ’ত্যা করে মানবপাচারকারী চক্রের এক সদস্যের সহযোগী ও স্বজনরা। নি’হতরা হলেন সদর উপজেলার জাকির হোসেন, জুয়েল হোসেন, ফিরোজ ও শামীম, রাজৈর উপজেলার বিদ্যানন্দী গ্রামের null

null

nullজুয়েল হাওলাদার, একই গ্রামের মানিক হাওলাদার (২৮), টেকেরহাট এলাকার আসাদুল, মনির হোসেন ও আয়নাল মোল্লা, ইশিবপুর এলাকার সজীব ও শাহীন। আ’হতরা হলেন, সদরের ফিরোজ বেপারী, ইশিবপুরের সম্রাট খালাসী ও কদমবাড়ীর মো. আলী। মাদারীপুর জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুল ইসলাম দোষীদের শাস্তির আশ্বাস দেন। তিনি null

null

nullমৃতদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান। বিডি প্রতিদিন/হিমেল