ঢাকা, আজ শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কিটের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল স্থগিত ওষুধ প্রশাসনের অনুরোধে

প্রকাশ: ২০২০-০৫-২৬ ০৯:৫২:১৮ || আপডেট: ২০২০-০৫-২৬ ০৯:৫২:১৮

ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের অনুরোধে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র উদ্ভাবিত জিআর কোভিড-১৯ টেস্ট কিটের ট্রায়াল স্থগিত করা হয়েছে।

সোমবার (২৫ মে) রাতে জিআর কোভিড-১৯ ডট ব্লোট প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর ডা. মুহিব উল্লাহ খন্দকারের সই করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ট্রায়াল স্থগিতের বিষয়টি সময় সংবাদকে জানান।
null
null
null
জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা আগামীকাল থেকে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। সেভাবে প্রস্তুতিও ছিল। কিন্তু আজ ওষুধ প্রশাসনের অনুরোধে আমরা ট্রায়াল বাতিল করেছি। তারা আমাদের আজকে একটি চিঠি দিয়ে অনুরোধ করেছে। আমাদেরকে বলা হয়েছে, অনুগ্রহ করে এ পরীক্ষা বন্ধ করতে, আমরা তাদের অনুরোধ রেখেছি।’
null
null
null
এসময় ওষুধ প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা এটা বলতে চাই, গত বছর ডেঙ্গু আক্রমণ হয়, তখনও গণস্বাস্থ্যের ডেঙ্গু কিট অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল কোনও রকম পরীক্ষা ছাড়াই। এ বছরও কোনও পরীক্ষা ছাড়াই সাতদিনে রেমডিসিভিরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে আমাদের অনুরোধ থাকবে, আমরা কার্যক্রম স্থগিত করেছি। এরইমধ্যে বিএসএএমইউ তিনশ’ কিট পরীক্ষা করেছে। আমরা বিভিন্নসূত্রে জেনেছি, এই ট্রায়ালে কিটের কার্যকারিতা পেয়েছে। ফলে, প্রয়োজনে সেগুলোর রিপোর্ট নিয়ে আমাদের অনুমোদন দিতে পারেন। সাময়িকভাবেও হলেও তো দিতে পারেন। আমি জানি না, কেন তারা করছেন না।’
null
null
null
জাফরুল্লাহ চৌধুরী জানান, ‘ওষুধ অধিদফতরের চিঠির জবাব সোমবার রাতেই দিয়েছি। বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষা করছে, তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই আমাদের কিটে করোনা পরীক্ষার অনুমোদন দিয়ে দিন। অন্ততপক্ষে সাময়িক অনুমোদন দেন আমাদের। আমরা এটাও বলেছি চিঠিতে, অন্যদেরকে পরীক্ষা ছাড়াই অনুমোদন দিয়েছেন, আর আমরা কার্যকারিতা প্রমাণ করলেও দিচ্ছেন না।’
null
null
null
এদিকে রাতের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র কর্তৃক মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জিআর কোভিড-১৯ টেস্ট কিটের ট্রায়ালের জন্য ৫০ জনের নমুনা সংগ্রহের জন্য যে কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছিল ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের অনুরোধে তা স্থগিত করা হলো। সরকারের অনুমোদন পেলেই পুনরায় পরবর্তী কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
null
null
null
এর আগে দুপুরের দিকে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, মঙ্গলবার (২৬ মে) থেকে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র উদ্ভাবিত কিটের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হবে। আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে প্রতিদিন ৫০ জন ব্যক্তির ওপর এই ট্রায়াল চালানো হবে।
null
null
null
জিআর কোভিড-১৯ ডট ব্লোট প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর ডা. মুহিব উল্লাহ খন্দকারের সই করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বিভিন্ন মিডিয়াতে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র তাদের জি আর কোভিড ১৯ র‌্যাপিড ডট ব্লট কিটের পরীক্ষা শুরু করবে বলে যে খবর বেরিয়েছে, তা সঠিকভাবে উল্লেখ করা হয়নি।’
null
null
null
তিনি বলেন, ‘বিএমআরসি অনুমোদিত নিয়মে, আগে আসলে আগে নেওয়া হবে। এই ভিত্তিতে লালা এবং রক্ত উভয় বা যেকোনো একটি নমুনা সংগ্রহ করা হবে। এই নমুনা সংগ্রহ গবেষণার অংশ, কোনো সেবা বা রোগ নির্ণয় নয়।’প্রসঙ্গত, ১৭ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের পরীক্ষার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণায় কিট উৎপাদনের কথা জানায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। ১৯ মার্চ কিট উৎপাদনে যায় প্রতিষ্ঠানটি। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের গবেষক ড. বিজন কুমার শীলের নেতৃত্বে ড. নিহাদ আদনান, ড. মোহাম্মদ রাঈদ জমিরউদ্দিন, ড. ফিরোজ আহমেদ এই কিট তৈরি করেন।
null
null
null
২৫ এপ্রিল গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের কাছে করোনা টেস্টের কিট হস্তান্তর করা হয়। বেশ কিছু দিন কিট পরীক্ষা নিয়ে বিতর্কের পর ৩০ এপ্রিল ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের থেকে বিএসএমএমইউ বা আইসিডিডিআর,বিতে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উদ্ভাবিত কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর ২ মে কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য বিএসএমএমইউ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. শাহীনা তাবাসসুমকে প্রধান করে ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।
null
null
null