ঢাকা, আজ রোববার, ১১ এপ্রিল ২০২১

ওমানে ভালো নেই বাংলাদেশি শ্রমিকরা

প্রকাশ: ২০১৯-০৭-১০ ১১:৪৫:২৭ || আপডেট: ২০১৯-০৭-১০ ১১:৪৫:২৭

ওমানে প্রায় ৮ লাখের মতো বাংলাদেশি শ্রমিক কর্মরত রয়েছে। বিদেশি শ্রমিকদের মধ্যে বাংলাদেশির সংখ্যা এখন সবচেয়ে বেশি। কাজের জন্য বেশিরভাগ শ্রমিকের থাকতে হচ্ছে শহরের বাইরে বা মরুভূমিতে। যদিও তাদের অধিকাংশেরই রুম থাকে হামরিয়াতে।এদিকে বাংলাদেশের বেশিরভাগ শ্রমিকই ফ্রি ভিসায় পাড়ি জমাচ্ছে ওমানে। ফলে থাকছে না কাজের কোন নিশ্চয়তা। নিজেদের কাজের সন্ধান করতে হচ্ছে নিজেদেরই।

ওমানের হামরিয়াকে দ্বিতীয় বাংলাদেশ বলা হলেও এখন আর সেই আগের মতো ভিড় লক্ষ্য করা যায় না। আগে যেখানে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর বিভিন্ন কোম্পানি থেকে শ্রমিক নিতে আসতো এই হামরিয়াতে। এখন তেমন কাজের সন্ধান মিলছে না। দালালদের খপ্পরে পরে অবৈধ ভিসায় মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়ার ফলে এই ধরনের ঘটনা ঘটছে।কুমিল্লার মুহাম্মাদ দেলোয়ার, দুই বছর আগে দালালের লোভনীয় কথায় ফ্রি ভিসা নিয়ে ওমানে এসেছিলেন, এয়ারপোর্টে কাজ দেয়ার কথা থাকলেও ওমান আসার পর কাজ মিলে মরুভূমিতে। এখন ৪৮ ডিগ্রির তাপমাত্রায় কাজ করতে হচ্ছে দেলোয়ারকে। আশেপাশে শুধু মরুভূমি ছাড়া আর কিছুই নাই। ৩ লাখ টাকা দিয়ে ওমানে এসেছিলেন তিনি। ব্যাংকের ঋণ ও পরিবারের কথা চিন্তা করে নিজের ভাগ্যকে মেনে নিয়ে এখন ওমানের মরুভূমিতে কন্সট্রাকশনের কাজ করেন। তিনি বলেন, সারাদিন কাজ করে ক্লান্ত শরীরে রাতে একটু শান্তিতে ঘুমাতে পারিনা। মাঝেমধ্যেই পুলিশি চেকিং হয়, ধরা পরলেই দেশে পাঠিয়ে দেয়। এই ভয়ে একটু শান্তি-মতো ঘুমাতেও পারি না।

মোবেলা সানাইয়া সহরে বিল্ডিং কনস্ট্রাকশনে কাজ করেন ফরিদপুরের মোবারক, চার বছর আগে এলাকার এক পরিচিত লোকের মাধ্যমে ওমানে এসে প্রথমে মালিকের কাজ করলেও এখন অবৈধ। চুক্তি অনুযায়ী বেতন না দেওয়া এবং মাস শেষে বেতন না পাওয়ার কারণে মালিকের থেকে পালিয়ে এখন অবৈধ হয়ে কাজ করছেন তিনি। ৪৮ ডিগ্রি তাপমাত্রায় ও কঠোর পরিশ্রম করছেন মোবারক। সারাদিন কাজের মধ্যে পার করলেও রাত কাটে নানা দুশ্চিন্তায়।একদিকে পরিবারের চিন্তা অপরদিকে যে কোনো সময় পুলিশের হাতে গ্রেফতারের ভয়।প্রতি শুক্রবারই সন্ধ্যার পর পুলিশের চেকিং হয় এই হামরিয়াতে। পুলিশ আসার খবরে বাংলাদেশি শ্রমিকরা বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে যায়। যারা পুলিশের হাতে আটক হয় তাদের বেশিরভাগকে দেশে চলে আসতে হয়। অন্যথায় জেল খাটতে হয়, আর যাদের আরবাব (ওমানি স্পন্সর) ভালো, তাদের আরবাব থানায় এসে জরিমানা দিয়ে তাদের ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন।

সাধারণত গালফের অন্য দেশের তুলনায় ওমানিরা বাংলাদেশিদের বেশি সম্মান দেয়। সেই সাথে বিশ্বের অন্য দেশের তুলনায় ওমানে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীও বেশি। বর্তমানে দেশটির বাংলাদেশি শ্রমিকরা তেমন ভালো নেই, সেই সাথে যারা ব্যবসা বাণিজ্য করছেন, তাদের ব্যবসাও অনেক মন্দা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির বিশিষ্ট বাংলাদেশী ব্যবসায়ী মুহাম্মাদ ইয়াসিন চৌধুরী সিআইপি।