ঢাকা, আজ শুক্রবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২০

‘আমার ছেলেকে বাঁচান, শুধু ওকে বাঁচান’ শেষ আকুতি করে নিজে ডুবলেন সাগরে!

প্রকাশ: ২০২০-০৫-২১ ১৭:৩৭:২১ || আপডেট: ২০২০-০৫-২১ ১৭:৩৭:২১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ‘আমার ছেলেকে বাঁচান, শুধু ওকে বাঁচান’ শেষ আকুতি করে নিজে ডুবলেন সাগরে! এটাই ছিল সাবেক রেসলার শাড গ্যাসপার্ডের শেষ কথা। গত রোববার সমুদ্রে ভেসে গেছেন ডব্লু ডব্লুইর সাবেক তারকা গ্যাসপার্ড (৩৯ বছর)। পরিবার তিনদিন ধরে আশায় ছিল, লড়াকু গ্যাসপার্ড হইয়তো কোনো না কোনোভাবে টিকে রয়েছেন। কোনো আশ্রয় খুঁজে নিয়ে ঠিকই ফিরে আসবেন পরিবারের কাছে। কিন্তু সে আশাও শেষ হয়ে গেছে কাল। বুধবার সকালে সমুদ্র তীরে খুঁ’জে পাওয়া গেছে গ্যাসপার্ডের শরীর। ক্যালিফোর্নিয়ার ভেনিস null
null
null
সমুদ্র সৈকতে গত রবিবার দুর্ঘটনায় পড়েন গ্যাসপার্ড ও তাঁর ছেলে আরিয়েহ। লকডাউনের পর এই প্রথম আবার সৈকত উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছিল। গ্যাসপার্ড ও তাঁর ছেলে কোমর পানিতে সাতার কাটছিলেন। কিন্তু হঠাৎ তীব্র এক স্রোত এসে দুজনকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। তীর থেকে প্রায় ৭৫ গজ দূরে এ দুজনকে দেখে একজন লাইফগার্ড তাঁদের বাঁ’চানোর জন্য যান। ২ মিটারের বেশি উঁচু ঢেউয়ের মাঝে দুজনকে বাঁ’চানোর জন্য ‘রেসকিউ ক্যান’ বাঁধার চেষ্টা করেন ওই লাইফ গার্ড। কিন্তু ১০ বছরের আরিয়েহ কোনোভাবেই বাঁধতে পারছিল না সেটা। তখনই গ্যাসপার্ড আগে ছেলেকে বাঁ’চানোর অনুরোধ করেন। সৈকতের ওই অংশের লাইফগার্ড প্রধান কেনিচি হ্যাসকেট ওই সময়ের অসহায়’ত্বের কথাnull
null
null জানিয়েছেন এভাবে, ‘ওই লাইফগার্ড তীর থেকে ৭৫ গজ দূরে দুজন মানুষকে বাঁ’চানোর লক্ষ্যে নেমেছিল। ভদ্রলোকের শারীরিক গঠন (সাড়ে ৬ ফিট উচ্চতা, ১২৩ কেজি) ও পানির অবস্থায়… এটা বোজা গিয়েছিল দুজনকে একবারে ফেরানো সমভব নয়… এমন সিদ্ধান্ত আমরা কখনোই তে চাই না। গ্যাসপার্ডের শেষ কথাটি ছিল “আমার ছেলেকে বাঁচান, শুধু ওকে বাঁচান।”’ লাইফগার্ড আরিয়েহকে তীরে এনেই আবার গিয়েছিলেন গ্যাসপার্ডের জন্য। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি, ‘৬০ সেকেন্ডেরnull
null
null মধ্যে লাইফগার্ড ফিরেছিল শাডকে আনার জন্য। তাঁকে দেখেছিল কিন্তু একটা ঢেউ এসে ধাক্কা দিল পানির নিচে পাঠিয়ে দিল শাডকে।’ শাড আর মাথা তোলেননি। তবিবারে এই ঘটনার পর থেকে তাঁর খোঁজে সাতটি উ’দ্ধার অভিযান চালানো হয়েছিল। কিন্তু সারে ১৬৫ ঘন্টার অ’ভিযান ও ৭০ নটিক্যাল মাইল এলাকা খুঁ’জেও তাকে না পাওয়ায় অভিযান বন্ধ করে দেওয়া হয়। গতকাল সকালে সাগর থেকে ভেসে আসা একজনের মৃ’তদেহ খুঁজে পাওয়ার পর এক পুলিশ কর্তৃপক্ষকে null
null
nullজানায়। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সেটা গ্যাসপার্ডের বলে নিশ্চিত করেছে। ডব্লুডব্লুইর ক্রাইম টাইম জুটির অংশ ছিলেন গ্যাসপার্ড। ২০০৮ সালে জন সেনার সঙ্গে কিছুদিন জোট বেধেছিল ক্রাইম টাইম। ২০১০ অবসর নেওয়ার পর অভিনেতা হিসেবে ক্যারিয়ার গড়েছিলেন গ্যাসপার্ড।-প্রথম আলোহুমায়ুন কবির ভূঁইয়া মা গো, কেমন আছিস, গুড্ডু বাবা আমার? ওপারের বিষয়টা তো বাবা ভালোভাবে জানি না রে মা। তবে, জানতে চেষ্টা করছি। তুই কি দেখতে পারছিস যে তোকে null
null
nullছাড়াই আমরা দু’টো দিন স্বাভাবিকভাবেই কাটিয়ে দিলাম? তুই কি শুনতে পারছিস তোকে নিয়ে আমরা কিসব বলছি? তুই কি বুঝতে পারছিস তোকে সবাই কতো ভালবাসে? তুই কি দেখছিস সবাই কি সীমাহীন মমতায় তোর জন্য দোয়া করছে? তুই কি জানিস তোর বয়সের একটা মেয়ে, যাকে আমি চিনি না, আমাকে মেসেজ পাঠিয়েছে আমার মেয়ে হতে চেয়ে? শুধু তাই নয়, মমতাময়ী মেয়েটা আমাকে বাবা ডেকেছে। তুই কি দেখছিস তোর চাপা ভাইটা একদম নিশ্চুপ হয়ে গেছে? তুই কি null
null
nullদেখছিস তোর পাগলী মা টা কেমন করছে? তুই কি দেখছিস তোর বুড়া বুবুটা কেমন করছে? তুই কি দেখছিস তোর নানা, নানু, ফুপি, চাচ্চু, খালা, মামা ও তোর ভাই বোনেরা কি রকম করছে? তুই কি দেখছিস, আম্মা, তোর বাবা, যাকে তুই সারা পৃথবীর সবচেয়ে ভালো বাবা বলতি, সে কেমন স্বাভাবিক আচরণ করছে? হ্যা রে, আমার কাওলা বাবা, আমি স্বাভাবিকই আছি এবং থাকবো। আমাকে যে থাকতেই হবে তোর জন্য দোয়া করার জন্য এবং তোর হয়ে এই সুন্দর দেশটার জন্য সামর্থ্য null
null
nullঅনুযায়ী কিছু করার জন্য। তুই চলে গেলি আগে আগে এজন্য আমার তোর উপর কোনও রাগ নেই কারণ এতে তোর কোনও দোষ নেই। সব দোষ বাবার। বাবা তোকে ঠিক মতো বড় করতে পারিনি। যদি পারতাম তাহলে তো তুই এই পথ বেছে নিতি না। অক্ষম বাবাটাকে ক্ষমা করে দিস, মা। তোর মতো মেয়ে পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। যতদিন বেঁচে থাকবো প্রতিদিন মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করবো উনি যেনো তোর আ’ত্মহন’নের ও অন্যান্য অপরাধ ক্ষমা করে দিয়ে তোকে বেহেশতে স্থান দেন এবং তোর কবরের আজাব মাফ করেন। জানি না রে মা, ওপারে তোর সাথে দেখা হবে কি-না। যদি দেখা হয় তোকে কিছুই নাnull
null
null বলে খুব শক্তভাবে অনেকক্ষণ জড়িয়ে ধরে রাখবো যেটা তুই আমাকে ছোটবেলায় একটু পরপর করতি বিগ হাগ বলে। এদিকে যে আরেকটা ঝামেলায় পরে গেলাম রে, মা। তুই পরশু চলে গেলি। আর, আজ তোর ২৩তম জন্মদিন। কি করবো বল তো, মা? এমনিতেই করোনার জন্য এবার তেমনভাবে কিছু করা যেতো না। তাই ঠিক করেছি করোনা চলে গেলে এমন ব্যবস্থা করবো যেন অনেকগুলো মেয়ে তোর জন্মদিন পালন করে। শুভ জন্মদিন, মা। তোকে তোর জন্মদিনে উইশ করছি:null
null
null যে শান্তির জন্য তুই এতো তাড়াতাড়ি পৃথিবী ছেড়ে গেলি সে শান্তি যেন পরম করুণাময় তোকে দান করেন। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ট ক্ষমাশীল ও দয়ালু। তোর এই প্রস্থানের ব্যাপারে আমার অবস্থান খুবই স্পষ্ট গো, আম্মা: তোর থাকার জায়গার পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু, আমার হৃদয়ে তুই ছিলি, আছিস এবং থাকবি যতদিন না এর স্পন্দন থেমে যাবে। আজ আর লিখছি না রে, মা। ভালো থাকিস। তোর গুড্ডু বাবা। (লেখকের ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)