ঢাকা, আজ বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০

আম্পানের প্রভাবে বিদ্যুৎহীন ৫৫ লাখ মানুষ

প্রকাশ: ২০২০-০৫-২১ ১০:০৬:৫৩ || আপডেট: ২০২০-০৫-২১ ১০:০৬:৫৩

ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ অতিক্রম করছে ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’। ঝড়ের তীব্রতা কিছুটা কমে আসলেও বিভিন্ন স্থানে জোয়ারের পানিতে সৃষ্টি হয় জলোচ্ছ্বাস। এর প্রভাবে বিভিন্ন স্থানে ভেঙে গেছে বেড়িবাঁধ।উপড়ে পড়েছে গাছপালা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘরবাড়ি ও ফসল। রাত পৌনে ৩টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড় আম্পান ঝিনাইদহে অবস্থান করছে। এদিকে রাত দুইটায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত গাছ ও দেয়ালচাপায় এবং নৌকাডুবিতে বিভিন্ন স্থানে ১০ জনের মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। প্রায় ৪০০ কিলোমিটার ব্যাসের ঘূর্ণিঝড় আম্পানের null
null
nullকেন্দ্র মোটামুটি চার ঘণ্টা সময় নিয়ে স্থলভাগে আঘাত হানে বুধবার (২০ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে। সাতক্ষীরা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় শুরু হয় প্রবল ঝড়ো বাতাসের দাপট। উপকূল অতিক্রম করার সময়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ একশ ৫৫ কিলোমিটার বেগে বয়ে যায় দমকা হাওয়া। স্থলভাগে উঠে আসার পর বৃষ্টি ঝরিয়ে কমতে শুরু করে ঝড়ের শক্তি। তবে সারারাতই দেশের উপকূলীয় জেলার পাশাপাশি মধ্যাঞ্চল ও উত্তরের বেশ কয়েকটি জেলায়ও হালকা ও মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়। ঝড়ের কারণে দেশের বিভিন্ন জেলায় ভেঙে গেছে শহররক্ষা ও বেড়িবাঁধ। এতে প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চল। জোয়ারের পানি লোকালয়েও ঢুকে পড়ে। মোংলাnull
null
null ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান-এর প্রভাবে বুধবার দিনভর ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি হয়েছে বাগেরহাটের মোংলায়। মধ্যরাতে ঝড়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় অনেক ঘরবাড়ি। দুর্যোগে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছুটে যান তারা। প্রশাসনের সতর্কতা মেনে আগেভাগে সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় না নেয়ায় এমন দুর্ভোগের শিকার হন উপকূলের বাসিন্দারা। এদিকে, বরিশালেও দিনরাত বৃষ্টি ও ঝড়ো হওয়া বয়ে যায়। বিভাগের সব জেলায় ছিল একই চিত্র। আম্পানের ঝুঁকি এড়াতে নদীতীরবর্তী বাসিন্দারা null
null
nullআগেভাগেই আশ্রয় নেন সাইক্লোন শেল্টারে। বাঁধ ভেঙে এবং জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাওয়ার খবর মিলেছে বরগুনা শহরের অনেক এলাকায়। পটুয়াখালী বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে পটুয়াখালীতে। ঝড়ের কারণে উড়ে গেছে গলাচিপার বেশকিছু দোকান। পায়রা নদীর পানির তোড়ে শহররক্ষা বাঁধ ভেঙে কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালির ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়। রাতে জেলা শহররক্ষা বাঁধ ভেঙে নিউ মার্কেটসহ পৌরশহরের কয়েকটি এলাকায় পানি ঢুকে পড়ে। এতে তলিয়ে গেছে নিচু এলাকার null
null
nullরাস্তাঘাট। ভেসে গেছে মাছের ঘেরও। বাগেরহাট ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারণে রাতভর বৃষ্টি ও ঝড়ো হওয়া বয়ে গেছে খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, ভোলা, নোয়াখালী, ফেনীসহ উপকূলীয় এলাকাগুলোতে। এতে ফসলি জমি, মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হাতিয়াসহ কয়েকটি চর এলাকায় ১০ ফুট পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাসের কথা জানায় আবহাওয়া অফিস। এদিকে, গাছপালা উপড়ে পড়ায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে অনেক উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ। ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিদ্যুতের খুঁটি।null
null
null এ কারণে ঝুঁকি এড়াতে উপকূলীয় অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে বিদ্যুতহীন হয়ে পড়েছেন প্রায় ৫৫ লাখ মানুষ। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সবশেষ বুলেটিন বলছে, সাতক্ষীরাসহ দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল থেকে অগ্রসর হয়ে বৃষ্টি ঝরতে ঝরতে তা রাজশাহী অঞ্চল পেরিয়ে আরও দুর্বল হয়ে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হবে। এতে বৃহস্পতিবারও দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বয়ে যাওয়ার পাশাপাশি উত্তাল থাকবে সাগর।ঈদের ধাক্কায় করোনা সংক্রমণ কয়েকগুণ বেড়ে যেতে পারে বলে শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। তারা বলছেন, ঘরে ফেরার ঢল রুখতে হবে উৎসমুখেই, আর নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে ঈদের জামাতে। সেক্ষেত্রে লকডাউন বাস্তবায়নে প্রয়োজনে কারফিউয়ের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়ার পক্ষে মত তাদের।
null
null
null
এদিকে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে এই চাপ নিয়ন্ত্রণে ছক কষছেন তারা।সংখ্যাটা হাজার ছাড়িয়েছে ১১ মে। এরপর ক্রমে বেড়েই চলেছে শনাক্তকৃত রোগীর সংখ্যা। গত পাঁচদিনে গড়ে প্রতিদিন শনাক্ত প্রায় তেরো’শ। এরই মধ্যে মহাসড়কে বাড়ছে ভিড়, বাড়ছে বাড়ি ফেরার চাপ।এমন বাস্তবতায় আসছে দুই সপ্তাহে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা জনস্বাস্থ্যবিদের মনে। তারা বলছেন, সামাল দিতে হবে ঘরমুখো মানুষের চাপ। আর নজর রাখতে হবে ঈদ কেন্দ্রিক সমাগমের দিকে নয়তো এই চাপে আক্রান্তের সংখ্যা হতে পারে কয়েক লাখ।
null
null
null
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বে-নজীর বলেন, এমনভাবে পরিকল্পনা করতে হবে যেন উৎস মুখেই মানুষদের যাতায়াত বন্ধ করা যায়। ন্যূনতম এক লাখ মানুষের জামাত হতে পারে, উপসর্গহীন রোগী আছে, তারা যদি থাকেও বোঝা যাবে না। এদের মাধ্যমে দুজন করে ছড়ালেও দুই লাখ সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা আছে।
null
null
null
এই অবস্থায় আর ঢিলেমি নয়, কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়ার পক্ষে মত দিচ্ছেন তারা।অধ্যাপক ডা. রিদওয়ানুর রহমান বলেন, সংক্রমণের যে ঊর্ধ্বমুখী দেখা যাচ্ছে, চট্টগ্রাম ও ঢাকাসহ দেশব্যাপী এটাকে যদি নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, তাহলে কঠোর লকডাউনে যেতে হবে। লকডাউন কঠোরভাবে না দিলে প্রয়োজনে কারফিউ দেয়া যেতে পারে।স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও বলছে, ঈদের ধাক্কা সামলে নিতে কঠোর সিদ্ধান্তের কথা ভাবছেন তারা।
null
null
null
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব বলেন, সরকার যেখানে বলে দিয়েছে যে কর্মস্থলে সব চাকরিজীবী থাকতে হবে। সরকার তো বল প্রয়োগ করতে চায় না। তারপরও যদি মানুষ মানতে না চায় পদক্ষেপ তো নিতে হবে।পাশাপাশি টেস্টের পরিসর আরো বাড়ানোর কথাও ভাবছে সরকার।