ঢাকা, আজ রোববার, ১ নভেম্বর ২০২০

আম্পান: মোংলা ও পায়রায় ১০ নম্বর ‘মহাবিপদ সংকেত’

প্রকাশ: ২০২০-০৫-২০ ০৮:০৭:৪১ || আপডেট: ২০২০-০৫-২০ ০৮:০৭:৪১

প্রবল বেগে ঘূর্ণিঝড় আম্পান বাংলাদেশ উপকূলের ৪০০ কিলোমিটারের মধ্যে চলে এসেছে। যে কারণে মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত নামিয়ে ১০ নম্বর ‘মহাবিপদ সংকেত’ দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর। উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে। তবে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার বন্দরকে আগের মতই ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।null
null
null উপকূলীয় জেলা নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৬ নম্বর সংকেতের আওতায় থাকবে। আবহাওয়ার সর্বশেষ বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়েছে, বুধবার বিকাল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে সুন্দরবনের কাছ দিয়ে এ সুপার সাইক্লোন পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এ সময় ঝড়টির বাতাসের বেগ ঘণ্টায় প্রায় দেড়শ কিলোমিটার বা তার বেশি থাকতে পারে। আবহাওয়াবিদ আব্দুল হামিদ বুধবার সকালে গণমাধ্যমকে বলেন, ঝড়ের null
null
nullসময় উপকূলীয় জেলার দ্বীপ ও চরের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ১০-১৫ ফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে। আবহাওয়ার বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৬টায় ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে; কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে; মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৪১০ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করছিল। তখন ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৮৫ null
null
nullকিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ২২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছিল।পাঁচ শর্তের সম্মিলিত রূপের নাম পূর্ণাঙ্গ মুসলমান। কালিমা, নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাত। জাকাত দেয়ার সামর্থ্য আছে, কিন্তু জাকাত দিচ্ছেন না; তা হলে আপনি খাঁটি মুসলমানের সিরিয়াল থেকে ছিটকে পড়লেন। আশা করি বুদ্ধিমান হলে এমনটি করবেন না। সময়মতো জাকাত দিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি null
null
nullঅর্জনে অগ্রসর হোন। নাজাতের এই দিনে জাকাত দিয়ে মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে নিন। নাজাতের জন্য এর থেকে ভালো আর আকর্ষণীয় পন্থা এ মুহুর্তে কিছুই হতে পারে না। কেন ফরজ হলো জাকাত? আল্লাহতায়ালা জীবনের প্রতিটি স্তরে ভারসাম্যতা পছন্দ করেন। তার কাছে বাড়াবাড়ি আর ছাড়াছাড়ি একদম অপছন্দ। জগৎসংসারে যদি আপনি গভীরভাবে খেয়াল করেন তা হলে সব কিছুতেই ভারসাম্যতা আপনার নজর কাড়বে। সমস্যা সেখানেই দেখবেন যেখানে ভারসাম্যতা রক্ষা হয়null
null
null না। এ সমাজের সবাই যদি কোটিপতি হয়ে যায় তা হলে সমাজের ভারসাম্য রক্ষা হবে না। আবার সবাই দরিদ্র হয়ে গেলে প্রত্যেকেই না খেয়ে বেঘোরে প্রাণ হারাবে। কেননা সবাই তো এখন ফকির। না খেয়ে মরা ছাড়া উপায় আছে? সুতরাং সমাজ বাঁচাতে, দেশ বাঁচাতে এবং পৃথিবী বাঁচাতে সবখানেই ভারসাম্যতা দরকার। আজ কোথাও ভারসাম্যতা নেই অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হচ্ছে যে, আমরা ঠিকমতো আল্লাহর হুকুম জাকাত আদায় না করে দেশে অভাবী মানুষের সংখ্যা বাড়িয়ে null
null
nullফেলছি। কোরআন হাদিসের সুরে সুর মিলিয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট সুন্দর বলেছেন, আজ যদি সম্পদশালীরা ঠিকমতো তাদের সম্পদের জাকাত দিত, তা হলে পৃথিবীতে কোনো দরিদ্র থাকত না। পাঠক! কখনও কাককে ভাত ছিটিয়েছেন? আজকাল ঠিক এভাবেই আমরা জাকাত ছিটাই। রমজানের শেষ বেলায় আখেরি নিবেদন এই যে, সম্পদশালীরা পাই টু পাই হিসাব করে জাকাত দিয়ে দাও– নাজাত লাভে ধন্য হও। আজ ২৬ রোজা, রমজানের ২৭তম রাত। প্রচলিত ধারণায় আজ শবেকদর। কিন্তু হাদিসের ভাষ্যমতে, রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতের কোনো একটিতে কদরের নেয়ামতnull
null
null লাভ হয়। যারা ওই রাতে ইবাদত বন্দেগিতে কাটান তারা তা পেতে পারেন। যেহেতু রাতটি নির্দিষ্ট নয়, তাই আমাদের বুজুর্গদের নিয়ম হল, শেষ দশক ইতেকাফে কাটানো। যাতে শবেকদরের ফজিলত অর্জন করা যায়। এর ফজিলত সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, লাইলাতুল ক্বাদরি খাইরুম মিন আল ফি শাহরিন। শবেকদর হাজার মাস থেকে (মর্যাদার দিক দিয়ে) উত্তম। মানে এক রাতের বন্দেগিতে হাজার মাসের বন্দেগির সওয়াব। অনেকে হাজার মাস বলতে ৮৩ বছর ৪ মাস বুঝিয়ে থাকেন। কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়। কেননা, আরবরা সর্বোচ্চ পরিভাষা হিসেবে আলফা আলফা মাররা বলে থাকে। যেমন আমরা লাখ লাখ বলে থাকি। ইমামnull
null
null বুখারির বর্ণনা মতে তাহরিরু লাইলাতাল ক্বাদরি ফিল আশারিল আওয়াখির মিন রামাদান। রমজানের শেষ দশকে শবেকদর তালাশ করো। ইমাম মুসলিমের বর্ণনা- ফাত্বলুবুহা ফী বিতরি মিনহা, তা শেষ দশকের বিজোড় রাতে তালাশ করো। হজরত আবু হুরায়রা (রা.)-এর বর্ণনা- নবীজি (সা.) বলেন, মান ক্বামা লাইলাতুল ক্বাদরি ঈমানান ওয়া ইহতিসাবান গুফিরা লাহু মা তাক্বাদ্দামা মিন জাম্বিহি। শবেকদরে যে ব্যক্তি ইমান ও বিশ্বস্ততার সঙ্গে ইবাদতে দাঁড়াল তার পেছনের গোনাহ মাফ করে দেয়া হয়। এখানে দাঁড়ানো অর্থ নামাজে দাঁড়ানো, তেলাওয়াতে রত থাকা, জিকির-মোনাজাত এবং সেজদায় রাত পার করে দেয়া বোঝায়। তবে শর্তnull
null
null হল এহতেসাব বা ইখলাসের সঙ্গে ইবাদত বন্দেগিতে রাত কাটানো, কোনো বাড়াবাড়ি বা লোক দেখানোর জন্য নয়। শবেকদর হারানো মানে জীবনের সবকিছু হারানোর মতো। আমরা কি বিষয়টি ভেবে দেখেছি? রমজানের এক মাসে ডাবল বেতনের জন্য ৮ ঘণ্টার ডিউটি ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত করি, কিন্তু প্রায় ৮৩ বছরের নেয়ামত এক রাত জেগে থেকে যদি হাসিল না করতে পারি তার চেয়ে কপাল পোড়া আর কে আছে! নবীজি (সা.) বলেছেন হুব্বুদ্দুনিয়া রা’সু কুল্লু খাত্ত্বায়িন। দুনিয়ায় ভালোবাসার আধিক্য সব পাপের মূল। যদি খোদাপ্রেমের স্বাদ পেতাম এক রাত কেন হাজার রাত খোদাপ্রেমের সুধা পান করে জেগে কাটাতাম। কবির null
null
nullভাষায়- ‘উলফত মে বরাবর হায় ওফা হো কেহ জফা হু / হার চিজ মে লজ্জত হায় আগার দিল মে মজা হু’ (প্রেমের প্রশ্নে সবই সমান নন্দিত বা নিন্দিত/সকল কিছুই মজা লাগে ভালো থাকে যদি চিত্ত)। যে শিকারি মৃগনাভির খোঁজে বনে যায় তাকে রাত জেগে কাটাতে হয় গাছের ফাঁকে, কখন আসবে মৃগয়া কচি পাতার লোভে। তেমনি যারা আল্লাহর রহমত পেতে চায় তার কাছে শুধু শবেকদর কেন কোনো রাত্রি জাগরণ কোনো ব্যাপারই নয়। আল্লাহ আমাদের সহিহ বুঝ দিন। আমিন। Email : mueenchishty@gmail.com