ঢাকা, আজ শুক্রবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২০

বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুদ করা হয়েছিল ২ মণ মরা মুরগীর মাংস

প্রকাশ: ২০২০-০৫-১৯ ১১:২৯:১৬ || আপডেট: ২০২০-০৫-১৯ ১১:২৯:১৬

পাবনার চাটমোহরে পৌর সদরের খেয়াঘাট এলাকায় সোমবার দুপুরে অভিযান চালিয়ে ২ মণ মরা মুরগীর মাংস জব্দ করা হয়েছে। সেইসাথে মুরগীর মাংস ব্যবসায়ী স্বপন আলীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

চাটমোহর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. ইকতেখারুল ইসলাম এ অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় উপজেলা সহকারী প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা (ভিএস) ডা. মো. রোকুনুজ্জামান, উপজেলা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক মো. আবুল কালাম আজাদ দুলাল ও চাটমোহর থানা পুলিশের এএসআই বাবুল আকতার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে উপস্থিত ছিলেন।
null
null
null
ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. ইকতেখারুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পৌর সদরের খেয়াঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিলচলন ইউনিয়নের কুমারগাড়া গ্রামের মৃত আবু সাঈদের ছেলে মো. স্বপন আলীকে আটক করে ভ্রাম্যমান আদালত।

পরে তার দেয়া স্বীকারোক্তিতে উদ্ধার করা হয় ২ মন বা ৮০ কেজি মরা মুরগীর মাংস। পরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন আইনে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৩ মাসের কারাদন্ডাদেশ দেওয়া হয়। পরে জরিমানার টাকা দিয়ে মুক্তি পান ব্যবসায়ী স্বপন আলী। জব্দকৃত মাংস নষ্ট করে ফেলা হয়।সাতক্ষীরা: যতই দিন যাচ্ছে দেশের করোনা পরিস্থিতি ততই খারাপ হচ্ছে। ইতোমধ্যে সারাদেশে ২২ হাজার ২৬৮ জন করোনা রোগী শনা’ক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৩২৮ জন। আর এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৪ হাজার ৩৭৩ জন।ইতোমধ্যে দেশের সব জেলায় ছ’ড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘা’তী এই ভাইরাসের সং’ক্রমণ।
null
null
null
এদিকে, এতদিন সাতক্ষীরা জেলায় করোনাভাইরাস সং’ক্রমণ ভালোভাবে প্রতিরো’ধ করেছিল স্থানীয় প্রশাসন। কিন্তু রবিবার হঠাৎ পাল্টে যায় সেখানকার করোনা পরিস্থিতির চি’ত্র। একসঙ্গে ২৪ জনের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। করোনা আক্রা’ন্তরা করেছেন ঈদের কেনাকাটাও।
১ মে নারায়ণগঞ্জ থেকে একটি ট্রাকে সাতক্ষীরার দেবহাটায় ফে’রেন ২৪ জন ইটভাটা শ্রমিক। তাদের দেবহাটা খানবাহাদুর আহসানউল্লাহ কলেজের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। সেখানে ৫ মে এক যুবকের শরীরে করোনা শনা’ক্ত হয়। এরপর বাকিদের নমু’না সংগ্রহ করা হয়। বাকি ২৩ শ্রমিকের উপসর্গ না থাকায় ১৪ মে কোয়ারেন্টাইন থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু দুইদিন পর ২৩ শ্রমিকের সবার করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে।
null
null
null
জানা গেছে, আক্রা’ন্ত ২৩ শ্রমিকের মধ্যে এক পরিবারের দুই শিশু ও তার মা-বাবার করোনা পজিটিভ এসেছে। তারা দেবহাটার খান বাহাদুর আহসান উল্লাহ কলেজে কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন। তাদের বাড়ি সাতক্ষীরা সদরের ধূলিহর এলাকায়। কোয়ারেন্টাইনমু’ক্ত হয়ে তারা দেবহাটা থকে সাতক্ষীরার বাড়িতে ফেরেন। আক্রা’ন্তদের মধ্যে দেবহাটা সদর ইউনিয়নের একজন গ্রাম পুলিশও রয়েছেন। বাকি আক্রা’ন্তদের বাড়ি দেবহাটা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে।

দেবহাটা উপজেলার বাসিন্দা মাহমুদুল হাসান শাওন গণমাধ্যমকে বলেন, কোয়ারেন্টাইন থেকে ১৪ মে মুক্তির পর এসব শ্রমিক পরিবারের জন্য ঈদের কেনাকাটা করাসহ বাজারে ঘুরেছেন। কেউ ভ্যান চালিয়েছেন। আক্রা’ন্তরা এলাকায় চ’ষে বেড়িয়েছেন। মা’রাত্মক ঝুঁ’কির মধ্যে পড়ছে দেবহাটা উপজেলা। হঠাৎ এ খবর পাওয়ার পর আত’ঙ্ক ছ’ড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র।
null
null
null
দেবহাটা থানা পুলিশের ওসি বিপ্লব কুমার সাহা গণমাধ্যমকে বলেন, ট্রাকে এসব শ্রমিক ১ মে দেবহাটায় ফে’রার পর প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়। তবে আমাদের না জানিয়ে তাদের কোয়ারেন্টাইন থেকে ছে’ড়ে দেওয়া হয়েছে। আক্রা’ন্ত সবার বাড়িই লকডাউন করা হবে।

দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া আফরীন বলেন, প্রশাসনের ন’জর এ’ড়িয়ে করোনা আক্রা’ন্তদের এলাকায় ঘু’রে বেড়ানো অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে বিষয়টি আগে কেউ প্রশাসন বা পুলিশকে জানায়নি। করোনা আক্রা’ন্ত সবার বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা পেলে করোনা ছ’ড়িয়ে পড়া ইউনিয়নগুলোও লকডাউন করা হবে।
null
null
null
সাতক্ষীরার সিভিল সা’র্জন ডা. মো. হুসাইন সাফায়াত বলেন, রবিবার বিকালে হাতে পাওয়া রিপোর্টে ২৪ জনের করোনা পজিটিভ এসেছে। এর মধ্যে দেবহাটা উপজেলার ২৩ জন। আর আশাশুনি উপজেলার একজন। দেবহাটা উপজেলার সবাই ইটভাটা শ্রমিক। তারা প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন। সেখানে ২৪ জন ইটভাটা শ্রমিক ছিলেন। প্রথমে একজনের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ ধ’রা পড়ে। এরপর বাকিদের নমু’না সংগ্রহ করে পাঠানো হয়।

তিনি বলেন, কোয়ারেন্টাইনে একত্রে থেকে একজন থেকে বাকি ২৩ জনের শরীরেও ছ’ড়িয়ে পড়েছে করোনা। হাঠাৎ সাতক্ষীরার করোনা পরিস্থিতির চি’ত্র এ’লোমে’লো হয়ে গেছে। তাদের সং’স্পর্শে কারা এসেছিলেন তাদের খুঁ’জে বের করার চেষ্টা করছি। প্রয়োজনে দেবহাটা উপজেলা লকডাউন করা হবে।
null
null
null
এদিকে, রবিবার বিকাল পর্যন্ত সাতক্ষীরায় করোনা শনা’ক্ত ছিল তিনজন। যশোরের শনা’ক্ত হওয়া এক স্বাস্থ্যকর্মী ছিলেন সাতক্ষীরায়। এছাড়া ঢাকা থেকে পা’লিয়ে এসেছেন একজন আক্রা’ন্ত নারী। সব মিলিয়ে এখন সাতক্ষীরায় করোনা আক্রা’ন্তের সংখ্যা ২৯ জন। সুস্থ হওয়া ব্যক্তি যশোরের ওই স্বাস্থ্যকর্মী।বিডি প্রতিদিন