ঢাকা, আজ বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

হজের জমানো টাকা করোনায় অসহায়দের মাঝে দান করলেন পুলিশ কর্মকর্তা

প্রকাশ: ২০২০-০৫-১৬ ১৯:১৪:৩৭ || আপডেট: ২০২০-০৫-১৬ ১৯:১৪:৩৭

মুহাম্মদ গাজী তারেক রহমান ।।করোনার দুর্দিনে সমস্যাগ্রস্তদের সাহায্যে এগিয়ে আসতে হজ্জের জন্য জমানো টাকা অসহায় মানুষের মাঝে বিলিয়ে দিয়েছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা।

বাংলাদেশ পুলিশের রাঙ্গামাটি ড্রিস্ট্রিক্ট স্পেশাল ব্রাঞ্চ (ডিএসবি)এ কর্মরত এস আই জহির উদ্দিন নিজ জন্মস্থান নোয়াখালী জেলার কবিরহাট উপজেলাসহ লক্ষীপুর জেলার রামগঞ্জের কয়েকশ’ পরিবারের মাঝে উপহার স্বরূপ প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী ও নগদ অর্থ প্রদান করেছেন।

জানা যায়, পুলিশ কর্মকর্তা এস আই জহির উদ্দীন দীর্ঘ চাকুরী জীবনে পবিত্র হজ্জের জন্য জমানো প্রায় দুই লক্ষ টাকা চলমান করোনায় অভাবগ্রস্থ মানুষদের সহায়তায় দান করেছেন। নিজ জন্মস্থান নোয়াখালী জেলার কবিরহাটে ২০০টি পরিবার, কর্মস্থল লক্ষীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার প্রায় ৫০টি দুঃস্থ পরিবার ও বর্তমান কর্মস্থল রাঙ্গামাটিতে করোনা পজিটিভ রোগীদের মাঝে মোট দুই লক্ষ টাকার খাদ্য সামগ্রী বিতরণ ও নগদ অর্থ পৌছে দেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

মানব সেবায় উদাহরণ সৃষ্টিকারী এস আই জহির উদ্দীন এ ব্যাপারে বলেন, ‘টাকাগুলো হজ্জের জন্য সঞ্চয় করেছিলাম। ভেবেছিলাম পরিবার নিয়ে হজ করব। কিন্তু, করোনাভাইরাসের কারণে চোখের সামনে মানুষজন যেভাবে কষ্ট পাচ্ছে তা কিছুতেই সহ্য হচ্ছিল না। তাই সিদ্ধান্ত নিলাম এই টাকাগুলো দিয়ে অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াই। এতে খেটে-খাওয়া মানুষগুলোর কিছুটা হলেও কষ্ট লাঘব হবে।’

তিনি বলেন, ‘মূলত করোনার এই দুর্দিনে আমি আমার জায়গা থেকে চেষ্টা করেছি আশপাশের পরিচিত-অপরিচিত সমস্যাগ্রস্থ মানুষগুলোর জন্য কিছু একটা করার। যাতে তারা ক্ষুধার কষ্টে না মারা যায়। করোনাভাইরাস সমস্যা একটা সময় ঠিকই চলে যাবে। কিন্তু, অভাবের তাড়নায় যদি অসহায় মানুষগুলো চোখের সামনে ছটফট করে মারা যায় তাহলে আল্লাহর কাছে কি জবাব দিব? হজ্জের টাকা অসহায় মানুষদের পেছনে ব্যয় করেছি। আল্লাহ খুশি থাকলে আগামীতে তিনিই আমার ও আমার পরিবারের হজ্জের ব্যবস্থা করে দিবেন।’

উল্লেখ্য যে, এস আই জহির উদ্দীন লক্ষীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে অত্র অঞ্চলের একাধিক পঙ্গু ও অসহায় মানুষের চিকিৎসার ব্যয় নির্বাহ, ঘর নির্মাণ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণসহ নানাভাবে দুঃস্থদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। ফলে রামগঞ্জ উপজেলায় মানবতার ফেরিওয়ালা নামেও ডাকা হয় এই পুলিশ কর্মকর্তাকে।

আর তাই দেশের করোনার দুর্যোগকালেও নিজের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে সমাজের অসহায় মানুষজনের পাশে দাঁড়িয়েছেন জনগণের বন্ধু তথা পুলিশ কর্মকর্তা এস আই জহির উদ্দীন।

২৫শ টাকার সরকারি সহায়তার তালিকায় মেম্বারের মোবাইল নং ২০০ বার!

করোনা পরিস্থিতিতে কর্মহীন হয়ে পড়া নিম্নমধ্যবিত্ত ও হতদরিদ্রদের প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত আর্থিক সহায়তা দিতে তালিকা হচ্ছে।

যেহেতু, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এই অর্থ প্রদান করা হবে, তাই এই সুযোগে এক ইউপি সদস্য তার নিজের মোবাইল নম্বরটি জুড়ে দিয়েছে ৪০ জন সুবিধাভোগীর নামের পাশে।

এ ছাড়া, তালিকায় চৌকিদার, সরকারি বিভিন্ন সুবিধাভোগকারী ও স্বচ্ছল ব্যক্তির নাম রয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বাগেরহাটের শরণখোলায় এ ঘটনা ঘটে। তবে এসব অনিয়ম ধরা পড়ার পর তা সংশোধনে মাঠে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন।

জানা গেছে, ইউনিয়নে পরিষদের মাধ্যমে প্রস্তুতকৃত চূড়ান্ত তালিকা উপজেলা পরিষদে জমা দেয়ার পর তা যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে অনিয়ম ধরা পড়ে।

উপজেলার চারটি ইউনিয়নের মধ্যে খোন্তাকাটা ইউনিয়নে অনিয়মের মাত্রা একটু বেশি বলে জানায় সংশ্লিষ্টরা।

সুফলভোগীদের নামের পাশে তাদের প্রত্যেকের মোবাইল নম্বর সংযুক্ত করার কথা থাকলেও কিছু ইউপি সদস্য অসৎ উদ্দেশ্যে সেখানে তাদের নিজেদের মোবাইল নম্বর দিয়ে রেখেছে।

মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা প্রদানের ব্যবস্থা করায় তারা এই অপকৌশলের আশ্রয় নেয়। তা ছাড়া, তালিকায় অপেক্ষাকৃত স্বচ্ছল ও সরকারি অন্যান্য সুবিধাভোগীদের নামও দেয়া হয়।

এসব অনিয়ম ধরা পড়ার পর সরকারি কর্মকর্তাদের বাড়ি বাড়ি পাঠিয়ে তালিকা সংশোধন করা হচ্ছে।

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে প্রস্তুতকৃত তালিকায় সুবিধাভোগীদের নামের পাশে বেশ কয়েকজন ইউপি সদস্যদের ফোন নম্বর ছিল।

এক মেম্বরের ফোন নম্বর ছিল ৪০ জনের নামের পাশে। এ ছাড়া, স্বচ্ছল ও সরকারের অন্যান্য সুবিধা ভোগ করছে এমন ব্যক্তিদের নামও ছিল তালিকাতে।

এসব অনিয়ম নজরে আসার পর সরকারি কর্মকর্তাদের দিয়ে সঠিক তালিকা করা হয়েছে। আগামী ১৭ মে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তা পাঠানো হবে।

অনিয়মকারী ইউপি সদস্যদের ব্যাপারে ইউএনও বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তসাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ইসলাম ডেস্ক : সবচেয়ে বেশি তাসবিহ পড়ার মাধ্যমে যে নামাজ পড়া হয়, তাই সালাতুত তাসবিহ।

নামাজের বিভিন্ন রোকনে ধাপে ধাপে প্রত্যেক রাকাআতে ৭৫ বার তাসবিহ আদায় করতে হয়। এভাবে রাকআত নামাজে ৩০০ বার তাসবিহ পড়ার মাধ্যমে এ নামাজ আদায় করতে হয়। এটি সালাতুত তাসবিহ নামে পরিচিত।

সালাতুতু তাসবিহর অন্যতম ফজিলত হলো- মানুষের বিগত জীবনের গোনাহ মাফ এবং অনেক সাওয়াব লাভ হয়। রমজানে এ নামাজ পড়ার ফজিলত অন্য সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। রমজানের জুমআর দিনে এ নামাজে পাওয়া যায় অতিরিক্ত সাওয়াব। এ নামাজে سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلهِ وَلَا اِلهَ اِلَّا اللهُ وَاللهُ اَكْبَرُ – সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার’ তাসবিহটি ৩০০ বার পড়তে হয়।

সালাতুত তাসবিহ পড়ার নিয়ম
প্রত্যেক রাকাআতে সুরা ফাতেহা পড়া। প্রতি রাকাআতেই একটি সুরা মেলানো। প্রত্যেক রাকাআতে سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلهِ وَلَا اِلهَ اِلَّا اللهُ وَاللهُ اَكْبَرُ অর্থাৎ সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদু লিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার-এ তাসবিহটি ৭৫ বার পড়তে হবে। প্রতি রাকাআতে নিচে উল্লেখিত নিয়ে ৪ রাকাআত নামাজ আদায়ের মাধ্যমে সাতালাতুত তাসবিহ আদায় করতে হয়। নিয়ম হলো-

– নামাজের নিয়ত বেঁধে তাকবিরে তাহরিমার পর সুরা ফাতেহা পড়ার আগে এ তাসবিহ- سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلهِ وَلَا اِلهَ اِلَّا اللهُ وَاللهُ اَكْبَرُ – ১৫ বার পড়া।

– সুরা ফাতেহা ও অন্য সুরা মিলানোর পর রুকুতে যাওয়ার আগে এ তাসবিহ سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلهِ وَلَا اِلهَ اِلَّا اللهُ وَاللهُ اَكْبَرُ – ১০ বার পড়া।
– রুকুতে গিয়ে- سُبْحَانَ رَبِّىَ الْعَظِيْم পড়ার পর এ তাসবিহ- سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلهِ وَلَا اِلهَ اِلَّا اللهُ وَاللهُ اَكْبَرُ – ১০ বার পড়া।
– রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে رَبَّنَا وَ لَكَ الْحَمْد পড়ার পর এ সাতবিহ- سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلهِ وَلَا اِلهَ اِلَّا اللهُ وَاللهُ اَكْبَرُ – ১০ বার পড়া।
– সেজদায় গিয়ে- سُبْحَانَ رَبِّىَ الْأَعْلَى পড়ার পর সেজদাতেই এ তাসবিহ- سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلهِ وَلَا اِلهَ اِلَّا اللهُ وَاللهُ اَكْبَرُ – ১০ বার পড়া।
– দুই সেজদার মাঝে বসে اَللّهُمَّ اغْفِرْلِيْ وَارْحَمْنِي وَاهْدِنِيْ وَعَافِنِيْ وَارْزُقْنِيْ (পারলে) পড়ার পর বসা অবস্থায় এ তাসবিহ- سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلهِ وَلَا اِلهَ اِلَّا اللهُ وَاللهُ اَكْبَرُ – ১০ বার পড়া।
– দ্বিতীয় সেজদায় গিয়ে- سُبْحَانَ رَبِّىَ الْأَعْلَى পড়ার পর সেজদাতেই এ তাসবিহ- سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلهِ وَلَا اِلهَ اِلَّا اللهُ وَاللهُ اَكْبَرُ – ১০ বার পড়া।

একই নিয়মে দ্বিতীয় রাকাআতেও নির্ধারিত তাসবিহ ৭৫ বার পড়া। দুই রাকাআত পড়ার পর তাশাহহুদ পড়ে দাঁড়িয়ে বাকি দুই রাকাআত একই নিয়মে বাকি নামাজ সম্পন্ন করা।

মনে রাখতে হবে
তাসবিহ পড়ার সময় যদি কোনো স্থানে নির্দিষ্ট সংখ্যার চেয়ে কম তাসবিহ পড়া হয় তবে, পরবর্তী যে রোকনে তা স্মরণ হবে সেখানেই তা পড়ে নিলেই হবে। আর কোনো কারণে যদি এ নামাজে সাহু সেজদার প্রয়োজন হয় তবে ওই সাহু সেজদায় এবং সাহু সেজদার মাঝে বসার সময়ও এ তাসহিব পড়তে হবে না। তাসবিহ পড়ার ক্ষেত্রে স্মরণ রাখার জন্য আঙুলের কর গণনা করা যাবে না তবে আঙুল চেপে তাসবিহ এর সংখ্যা স্মরণ রাখা যাবে।

সালাতুত তাসবিহ-এর ফজিলত সম্পর্কে হাদিসের বর্ণনায় এসেছে-
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ‘একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (আমার পিতা) হজরত আব্বাসকে বললেন, ‘হে আব্বাস! হে চাচাজান! আমি কি আপনাকে দেব না? আমি কি আপনাকে দান করব না? আমি কি আপনাকে সংবাদ দেব না? আমি কি আপনার সঙ্গে ১০টি সৎকাজ করব না? (অর্থাৎ ১০টি উত্তম তাসবিহ শিক্ষা দেব না) যখন আপনি তা (আমল) করবেন-
তখন আল্লাহ আপনার আগের, পরের, পুরাতন, নতুন, সবধরনের গোনাহ মাফ করে দেবেন। ইচ্ছাকৃত কিংবা অনিচ্ছাকৃত গোনাহ মাফ করে দেবেন। সগিরা ও কবিরা (ছোট ও বড়) গোনাহ মাফ করে দেবেন। গোপন ও প্রকাশ্য গোনাহ মাফ করে দেবেন।

(হে চাচা!) আপনি ৪ রাকাআত নামাজ পড়বেন এবং প্রত্যেক রাকাআতে সুরা ফাতেহা পাঠ করবেন এবং যে কোনো একটি সুরা মেলাবেন। (অর্থাৎ প্রত্যেক রাকাআতে এ তাসবিহটি ৭৫ বার করে আদায় করতে হবে।)

(অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হে চাচা!) এভাবে যদি প্রতিদিন একবার এ নামাজ পড়তে সক্ষম হন; তবে তা পড়বেন। আর যদি সক্ষম না হন, তবে প্রত্যেক জুমআর দিনে একবার পড়বনে। তাও যদি না পারেন, তবে প্রত্যেক মাসে একবার পড়বেন। তাও যদি না পারেন তবে প্রত্যেক বছর একবার পড়বেন, আর যদি তাও না পারেন তবে আপনার জীবনে অন্তত একবার পড়বেন। (তিরমিজি, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, মিশকাত)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে রমজান মাস এবং জুমআর দিনে সর্বাধিক তাসবিহ সম্বলিত নামাজ পড়ে উল্লেখিত ফজিলত লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।