ঢাকা, আজ সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর বিনামূল্যের ‘এক মিনিটের বাজার’

প্রকাশ: ২০২০-০৫-১৬ ১৪:৩৯:৩৬ || আপডেট: ২০২০-০৫-১৬ ১৪:৩৯:৩৬

চট্টগ্রামে চালু হলো সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত ১ মিনিটের বাজার। মাত্র ৬০ মিনিটে এক হাজারের বেশি মানুষ বিনামূল্যে চালসহ নিজেদের প্রয়োজনীয় বাজার থেকে পণ্য তুলে নিলেন । চলতি মাসের মধ্যে অন্তত ২০ হাজার অসহায় মানুষ এই সুবিধার আওতায় আসবে। একজন এক মিনিট সময় পেয়েছেন তার বাজার নিতে।

সেনাবাহিনী জানিয়েছে, করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি এড়ানোর পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রাখতেই এই উদ্যোগ।

পুরোপরি সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে মাত্র এক ঘণ্টায় এক হাজারের বেশি অসহায় মানুষ নিয়ে গেছে তাদের পছন্দনীয় বাজার। যেখানে টেবিলে সাজানো ছিল চাল-আলুসহ নানা ধরণের সবজি। বাদ ছিলো না মাস্ক এবং সাবান’ও। নগরীর জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় জামে মসজিদের বিশাল চত্বরে পরিকল্পিতভাবে সাজানো হয় পুরো বাজার।

বাজারে ঢুকতে সবাইকে আগে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে জীবানুমুক্ত করা হয়েছে। এরপর প্রথম টেবিলেই রাখা ছিল মাস্ক এবং বাজারের ব্যাগ। বাকি সব টেবিলে সাজানো নানা ধরণের সবজি। অসহায় মানুষগুলো’ও নিজেদের পছন্দনীয় সবজি ভরে নিচ্ছেন ব্যাগে।

৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনষ্ট্রাকশন ব্রিগেড মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভীর মাজাহার সিদ্দিকী বলেন, আমরা এটা কোনো ত্রাণ কার্যক্রম করছি না, এটা একটা মডেল দাঁড় করাচ্ছি।

গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে প্রস্তুতি চলছিল এই এক মিনিটের বাজার কার্যক্রম শুরুর। নানাভাবে যাছাই-বাছাই করে ১ হাজার জনের তালিকা তৈরি করা হয়। এভাবে চলতি মাসে আরো কয়েকটি বাজার বসাবে সেনাবাহিনীর এই ইউনিট।

৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনষ্ট্রাকশন ব্রিগেড উপ মহাপরিচালক কর্নেল আবুল হাসনাত মোহম্মদ সায়েম বলেন, আমরা সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে এসব কিনে এনেছি এতে তারাও লাভবান হবে।

আঘোষিত লকডাউনের কারণে আয়-উপার্জন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকটা বিপর্যকর অবস্থায় ছিল এই মানুষগুলো। আর তাই বিনামূল্যে পছন্দনীয় সবজি পেয়ে তারাও উচ্ছ্বসিত। এর মধ্যে শারীরিক প্রতিবন্ধী ছিল তুলনামূলক বেশি।

এক মিনিটের নিয়মিত সবজি বাজার ছাড়াও আরো তিনটি ঈদ বাজারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষদের কাপড়সহ নানা উপকরণ তুলে দেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সেনাবাহিনীর ৩৪ কনষ্ট্রাকশন ব্রিগেড।করোনার দুর্দিনে সমস্যাগ্রস্তদের সাহায্যে এগিয়ে আসতে হজ্জের জন্য জমানো টাকা অসহায় মানুষের মাঝে বিলিয়ে দিয়েছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা।

বাংলাদেশ পুলিশের রাঙ্গামাটি ড্রিস্ট্রিক্ট স্পেশাল ব্রাঞ্চ (ডিএসবি)এ কর্মরত এস আই জহির উদ্দিন নিজ জন্মস্থান নোয়াখালী জেলার কবিরহাট উপজেলাসহ লক্ষীপুর জেলার রামগঞ্জের কয়েকশ’ পরিবারের মাঝে উপহার স্বরূপ প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী ও নগদ অর্থ প্রদান করেছেন।

জানা যায়, পুলিশ কর্মকর্তা এস আই জহির উদ্দীন দীর্ঘ চাকুরী জীবনে পবিত্র হজ্জের জন্য জমানো প্রায় দুই লক্ষ টাকা চলমান করোনায় অভাবগ্রস্থ মানুষদের সহায়তায় দান করেছেন। নিজ জন্মস্থান নোয়াখালী জেলার কবিরহাটে ২০০টি পরিবার, কর্মস্থল লক্ষীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার প্রায় ৫০টি দুঃস্থ পরিবার ও বর্তমান কর্মস্থল রাঙ্গামাটিতে করোনা পজিটিভ রোগীদের মাঝে মোট দুই লক্ষ টাকার খাদ্য সামগ্রী বিতরণ ও নগদ অর্থ পৌছে দেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

মানব সেবায় উদাহরণ সৃষ্টিকারী এস আই জহির উদ্দীন এ ব্যাপারে বলেন, ‘টাকাগুলো হজ্জের জন্য সঞ্চয় করেছিলাম। ভেবেছিলাম পরিবার নিয়ে হজ করব। কিন্তু, করোনাভাইরাসের কারণে চোখের সামনে মানুষজন যেভাবে কষ্ট পাচ্ছে তা কিছুতেই সহ্য হচ্ছিল না। তাই সিদ্ধান্ত নিলাম এই টাকাগুলো দিয়ে অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াই। এতে খেটে-খাওয়া মানুষগুলোর কিছুটা হলেও কষ্ট লাঘব হবে।’

তিনি বলেন, ‘মূলত করোনার এই দুর্দিনে আমি আমার জায়গা থেকে চেষ্টা করেছি আশপাশের পরিচিত-অপরিচিত সমস্যাগ্রস্থ মানুষগুলোর জন্য কিছু একটা করার। যাতে তারা ক্ষুধার কষ্টে না মারা যায়। করোনাভাইরাস সমস্যা একটা সময় ঠিকই চলে যাবে। কিন্তু, অভাবের তাড়নায় যদি অসহায় মানুষগুলো চোখের সামনে ছটফট করে মারা যায় তাহলে আল্লাহর কাছে কি জবাব দিব? হজ্জের টাকা অসহায় মানুষদের পেছনে ব্যয় করেছি। আল্লাহ খুশি থাকলে আগামীতে তিনিই আমার ও আমার পরিবারের হজ্জের ব্যবস্থা করে দিবেন।’

উল্লেখ্য যে, এস আই জহির উদ্দীন লক্ষীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে অত্র অঞ্চলের একাধিক পঙ্গু ও অসহায় মানুষের চিকিৎসার ব্যয় নির্বাহ, ঘর নির্মাণ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণসহ নানাভাবে দুঃস্থদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। ফলে রামগঞ্জ উপজেলায় মানবতার ফেরিওয়ালা নামেও ডাকা হয় এই পুলিশ কর্মকর্তাকে।

আর তাই দেশের করোনার দুর্যোগকালেও নিজের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে সমাজের অসহায় মানুষজনের পাশে দাঁড়িয়েছেন জনগণের বন্ধু তথা পুলিশ কর্মকর্তা এস আই জহির উদ্দীন।

-এটি