ঢাকা, আজ শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০

বানর ও ইঁদুরে সফল অক্সফোর্ডের তৈরি করোনা ‘ভ্যাকসিন’

প্রকাশ: ২০২০-০৫-১৬ ১৪:৩৪:১১ || আপডেট: ২০২০-০৫-১৬ ১৪:৩৪:১১

যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের তৈরি নভেল করোনাভাইরাসের একটি ভ্যাকসিন বানরের দেহে প্রয়োগে আশাব্যঞ্জক ফল মিলেছে। মানবদেহে পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা এই ভ্যাকসিন বানরের ওপর কেমন প্রতিক্রিয়া দেখায় সেটা জানতে পরীক্ষা চালানো হয়।

ভ্যাকসিন দেয়ার পর বানরের শরীরে করোনাভাইরাস ব্যাপকভাবে প্রবেশ করানো হলেও সেটি সংক্রমণ ঘটাতে পারেনি বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

গবেষকরা সম্ভাব্য করোনাভাইরাস ভ্যাকসিনটি স্বল্প সংখ্যক বানরে পরীক্ষা করে আশাব্যঞ্জক লক্ষণ দেখতে পেয়েছেন। ছয়টি রিসাস মাকাককে বানরের শরীরে বর্তমানে মানুষের মধ্যে পরীক্ষা করা ভ্যাকসিনের অর্ধ ডোজ দেওয়া হয়েছিল।

এছাড়া, ইঁদুরের শরীরের ভ্যাকসিনটি প্রয়োগ করা হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে কয়েকটি প্রাণী টিকা দেওয়ার ১৪ দিনের মধ্যে ভাইরাসটির বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি করেছিল এবং ২৮ দিনের মধ্যে সবকটির মধ্যেই অ্যান্টিবডি তৈরির প্রমাণ পাওয়া যায়।

গবেষণা প্রতিবেদন অনুসারে, একক টিকাদানের ডোজও প্রাণীগুলোর ফুসফুসের ক্ষতি প্রতিরোধে কার্যকর ছিল। করোনাভাইরাসের সংক্রমণে যে অঙ্গগুলো মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হতে পারে টিকাদানের পরে সেগুলোতে ক্ষতি হতে দেখা যায়নি।

গবেষকরা লিখেছেন, ‘আমরা অন্য প্রাণীদের তুলনায় সার্স-কোভি -২ এর সাথে চ্যালেঞ্জ করা ভ্যাকসিন দেওয়া প্রাণীদের মাঝে ব্রঙ্কোয়েলভোলার ল্যাভেজ ফ্লুইড এবং শ্বাস নালীর টিস্যুগুলোতে ভাইরাসটির উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাওয়া লক্ষ্য করেছি এবং টিকা নেওয়া রিসাস ম্যাকাকসে কোনো নিউমোনিয়ার লক্ষণও দেখা যায়নি।

গুরুত্বপূর্ণভাবে, টিকা দেওয়া প্রাণীগুলোতে ভাইরাল চ্যালেঞ্জের পরে প্রতিরোধ ক্ষমতা-বাড়ানোয় রোগের কোনো প্রমাণ পরিলক্ষিত হয়নি।’

গবেষকরা আরো দেখতে পেয়েছেন যে, নিম্ন শ্বাসযন্ত্রের সিস্টেমে ভাইরাসের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। শ্বাস নালীর নীচে ভাইরাসের প্রতিলিপি তৈরি প্রতিরোধের করতেই টিকা দেওয়া হয়। তবে ফুসফুসে ভাইরাসের বংশ বিস্তার রোধ করা গেলেও নাক থেকে ভাইরাল বর্ষণ কমানো লক্ষ্য করা যায়নি।

লন্ডন স্কুল অফ হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিকাল মেডিসিনের ফার্মাকোসপিডেমিওলজি বিভাগের অধ্যাপক স্টিফেন ইভান্স বলেছেন, ‘ফলাফলগুলো খুবই স্পষ্টভাবে একটি সুসংবাদ দিচ্ছে। আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সন্ধানটি হল ভাইরাল লোড এবং পরবর্তী নিউমোনিয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট কার্যকারিতার সংমিশ্রণ।

তবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর কোনো প্রমাণ নেই।

তিনি আরো বলেন, যে মাকাকের ফলাফলগুলো মানুষের মধ্যে একইভাবে প্রতিফলিত হবে কিনা তা জানা যায়নি, তবে এই ফলাফলগুলো দেখে উৎসাহিত হওয়াই যায়। অক্সফোর্ডে তৈরি এই ভ্যাকসিনের পরীক্ষা মানুষের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার বিষয়ে সতর্ক আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।

সূত্র- সায়েন্স ফোকাস।কিয়ামতের দিন রোজাদারদের আল্লাহ তায়ালা পানি পান করাবেন
কিয়ামতের দিন রোজাদারদের আল্লাহ তায়ালা পানি পান করাবেন
ইসলাম ডেস্ক: রোজার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে মিলে প্রতি’দানের অফুরন্ত সওয়াব। নেকি-পুন্যে ভারি হয় আমলের থলি। প্রতি’টি রোজা পালনের মাঝ দিয়ে আল্লাহর আনুগ’ত্যের পরিচয় দেয় বান্দা।

এর বিনিময়ে দয়া, অনুগ্রহ, রহমত, বরকতে পরিপূর্ণ করে দেয়া হয় আনুগত্যশীল বান্দাকে। রোজা শুধু আল্লাহর জন্য এবং তিনিই এ রোজার আমলের প্রতিদান দান করবেন ম’র্মে এক হাদিসে কুদ’সিতে ইরশাদ করেছেন, মানুষের প্রতিটি কাজ তার নিজের জন্য, কিন্তু রোজা এর ব্যতিক্রম তা শুধু আমার জন্য, আমিই তার প্রতিদান দেব। (মুসলিম -২৭৬০)।

এ হাদিস দ্বা’রা আমরা অনুধাবন করতে পারি, যাবতীয় নেক আমলের মাঝে রোজা রাখার গুরুত্ব আল্লাহর কাছে এতো বেশি যে, তিনি নিজেই রোজার প্রতিদান প্রদানের প্রতি’শ্রুতি দিয়েছেন। আর এ জন্যই বি’খ্যাত সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) যখন বলেছিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে অতি উত্তম কোনো নেক আমলের নির্দেশ দিন। রাসূল (সা.) বলেছিলেন, তুমি রোজা রাখো। কারণ এর সমমর্যাদার আর কোনো আমল নেই। (নাসায়ি-২৫৩৪)।

এছাড়া রাসূল (সা.) বলেছেন, মানব সন্তানের প্রতিটি নেক আমলের প্রতিদান ১০ থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। আ’ল্লাহ তায়ালা বলেন, কিন্তু রোজার বিষয়টি ভিন্ন। কেননা, রোজা শুধু আমার জন্য, আমিই তার প্রতিদান দেব। (মুসলিম-১৫৫১)।

রোজা জাহান্নাম থেকে বাঁচার ঢাল স্বরুপ : হাদিসে এসেছে, রোজা হলো ঢাল ও জা’হান্না’মের আগুন থেকে বাঁচার মজবুত দুর্গ।(মুসনাদে আহমদ-৯২১৪)। আরো বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য এক দিন রোজা রাখবে, আল্লাহ তার থেকে জাহান্নামকে এক খরিফ (৭০ বছরের) দূরত্বে সরি’য়ে দেবেন। (মুসলিম-২৭৬৯)।

জান্নাত লাভের মাধ্যম হলো রোজা : রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, জান্নাতের একটি দরজা রয়েছে। যার নাম রাইয়ান। কিয়া’মতের দিন রোজাদাররাই শুধু সে দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে। তাদের ছাড়া অন্য কেউ সে দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। সেদিন ঘোষণা করা হবে, রোজাদাররা কোথায়? তখন তারা দাঁড়িয়ে যাবে এবং সে দ’রজা দিয়ে প্রবেশ করবে। যখন তাদের প্রবেশ শেষ হবে, তখন দরজা বন্ধ করে দেয়া হবে। ফলে তারা ছাড়া অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। (বুখারি-১৭৯৭)।

রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মেশকের চেয়েও উত্তম : নবী করিম (সা.) বলেন, যার হাতে মুহাম্মাদ (সা.) এর জীবন, সে স’ত্তার শপথ, রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহ তায়ালার কাছে মেশকের ঘ্রাণ থেকেও প্রিয়। (বুখারি-১৭৯০)।

কিয়ামতের দিন রোজা সুপারিশ করবে : আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন, রোজা ও কোরআন কিয়ামতের দিন মানুষের জন্য এভাবে সু’পারিশ করবে যে রোজা বলবে, হে প্রতিপালক! আমি দিনের বেলা তাকে পা’নাহার ও সহবাস থেকে বিরত রেখেছি। তাই তার ব্যা’পারে তুমি আমার সুপারিশ কবুল করো। কোরআন বলবে, হে প্রতিপালক! আমি তাকে রাতে নিদ্রা থেকে বিরত রে’খেছি, তাই তার ব্যাপারে তুমি আমার সুপারিশ কবুল করো। তিনি বলেন, ‘এরপর উভয়ের সুপারিশই কবুল করা হবে।(মুসনাদে আহমদ-৬৬২৬)।

রোজার মাধ্যমে গুনাহ মাফ হয় : মানুষ যখন পরি’বার-পরিজন, প্রতিবেশী ও ধন-সম্পদের কারণে গুনাহ করে ফেলে, তখন নামাজ, রোজা, সদকা সে গুনাহগুলোকে মিটিয়ে দেয়। (বুখারি-১৭৯৫)। অন্য হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, যে রমজান মাসে ঈমান ও ইহতিসাবের সঙ্গে রোজা রাখবে, তার অতীতের গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। (বুখারি-২০১৪)।

কিয়ামতের দিন রোজাদারদের আল্লাহ তায়ালা পানি পান করাবেন : হজরত আবু মুসা (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহ তায়ালা নিজে’র ওপর অবধারিত করে দিয়েছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য গ্রীষ্মকালে (রোজা রাখার কারণে) পিপাসার্ত থেকেছে, তিনি তাকে তৃষ্ণার দিন (কিয়ামতের দিন) পানি পান করাবেন।

রোজাদারের দোয়া কবুল হয় : হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) হতে বর্ণিত, নবী (সা.) ইরশাদ করেন, ইফতারের সময় রোজাদার যখন দোয়া করেন তখন তার দোয়া ফিরিয়ে দেয়া হয় না। অর্থাৎ দোয়া কবুল কর হয়। (সুনানে ইবনে মাজাই, ১৭৫৩)।

এমাসে শয়তানকে শিকলবন্দী করা হয় : হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘যখন রমজান মাসের আগন ঘটলো, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন, তোমাদের নিকট বরকতময় মাস রমজান এসেছে। আল্লাহ তায়ালা তোমাদের জন্য এ মাসের রো’জা ফরজ করেছেন। এ মাসে জান্নাতের দরজা’সমূহ খুলে দেয়া হয় এবং জা’হান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। আর শয়তানদেরকে শিকলে বন্দী করা হয়। এ মাসে এমন একটি রাত আছে, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। যে এর কল্যান থেকে বিরত হলো, সে তো প্রকৃতপক্ষেই বিরত। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস-৭১৪৮ সুনানে নাসায়ী-হাদিস-২৪১৬)।

রমজানের চেয়ে উত্তম কোনো মাস নেই : হজরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ তায়ালার কসম! মুসলমানদের জন্য রমজানের চেয়ে উত্তম কোনো মাস আসেনি এবং মুনাফিকদের জন্য রমজান মাসের চেয়ে অধিক ক্ষতির মাসও আর আসেনি। কেননা, মুমিনগণ এ মাসে (গোটা বছরের জন্য) ইবাদতের শক্তি ও পাথেয় সংগ্রহ করে। আর মুনাফিকরা তাতে মানুষের উদাসীনতা ও দোষত্রুটি অন্বেষণ করে। এ মাস মুমিনের জন্য গনীমত আর মুনাফিকের জন্য ক্ষতির কারণ। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস ৮৩৬৮)।

মুহাদ্দিসীনে কেরাম বলেন, মুমিন বান্দারা যাতে রমজান মা’সের অতি মূল্যবান ও বরকতপূর্ণ সময় নেক কাজে ব্যয় করতে পারে এবং মুনা’ফিকদের মতো খায়ের ও বরকত থেকে বিরত না থাকে, তাই আল্লাহ তায়ালা এ মাসের শুরু থেকেই সৃষ্টিজগতে এমন আবহ সৃষ্টি করেন, যা পুরো পরিবেশকেই রহমত-বরকত দ্বারা আচ্ছাদিত করে দেয় এবং মুমিনদের ইবাদত-বন্দেগি ও নেক আমলের উৎসাহ-উদ্দীপনা জোগাবে।

তাদের পূণ্য ও প্রতিদানের সুসংবাদ দিতে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয় এবং পাপাচার ও খারাপ কাজ হতে বিরত রাখতে জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয়। সব ধরনের ফিতনা-ফাসাদ ও অনিষ্ট হতে রক্ষা করতে কুমন্ত্রণাদাতা দুষ্টু জিন ও শয়তানদেরকে শিকল লাগিয়ে আবদ্ধ করা হয়। তারপর কল্যাণের পথে অগ্রগামী হওয়ার ও অন্যায় থেকে নিবৃত্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়।

আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনায় একদিন রোজা রাখা : হজরত হুযায়ফা (রা.) বলেন, আমি আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমার বু’কের সঙ্গে মিলিয়ে নিলাম, তারপর তিনি বললেন, যে ব্য’ক্তি লাইলাহা ইল্লাল্লাহু’ বলে মৃত্যুবরণ করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে, যে ব্য’ক্তি আল্লা’হর সন্তুষ্টি কামনায় একদিন রোজা রাখবে, মৃত্যু পরে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। যে ব্যক্তি আল্লাহর স’ন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো দান-সদকা করে; মৃ’ত্যু পর সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ২৩৩২৪)।