ঢাকা, আজ মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর ২০২০

অস্ট্রেলিয়ায় মুসলিম স্বাস্থ্যকর্মীদের রোজা পালনে সহযোগিতা করেন সহকর্মীরা

প্রকাশ: ২০২০-০৫-১৬ ১৪:৩০:২৪ || আপডেট: ২০২০-০৫-১৬ ১৪:৩০:২৪

অস্ট্রেলিয়ার অনেক মুসলমান স্বাস্থ্যকর্মী রোজা রাখার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত আছেন।

ব্রিসবেনে ওয়েসলে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের একজন রেজিস্ট্রার ডায়াং ইস্কান্দার বলেন, শিশু ওয়ার্ডে রোগী ভর্তির পরিমাণ কমে যাওয়ায় সেখানে তার ডিউটি কমিয়ে দিয়ে কর্তৃপক্ষ তাকে করোনা রোগীদের চিকিৎসার ভার দিয়েছেন।

তিন সন্তানের জননী ডা. ইস্কান্দারকে মাঝে মাঝে আইসিইউতেও ডিউটি করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, আমার একটাই ভয়- করোনা রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে যদি আমিও আক্রান্ত হয়ে পরিবারের কাছে ফিরে যেতে না পারি!

বয়স্কদের সেবায় নিয়োজিত আরেকজন কর্মী সারি বুই বলেন, আমি আমার অধীনস্থদের নিয়ে সংক্রমণের আশংকায় রয়েছি। তাই আমি কাজে আসার সময় সতর্কতামূলক সবসময় বাসা থেকে নিজের তাপমাত্রা মেপে আসি।

এভাবে নিজের স্বাস্থ্যসচেতনতার মাধ্যমে আমি তাদেরকেও সংক্রমণ থেকে নিরাপদ রাখতে পারছি।

রোজা ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের অন্যতম। এ মাসে মুসলমানরা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা পালন করে। তবে অসুস্থ, গর্ভবতী ও অপারগদের জন্য ছাড় রয়েছে।

আত্মসংযমের এই পবিত্র মাসে মুসলমানরা সিয়াম সাধনা পালন করার মাধ্যমে ধৈর্য্য ও তাকওয়া অবলম্বন করতে শেখে।

মেলবোর্নের একটি সরকারি হাসপাতালের নার্স রাইসিয়াদ আবমার তার দায়িত্ব ও রোজার মধ্যকার সাদৃশ্য তুলে ধরে বলেন, নার্সিং ও রোজা- দুটির উদ্দেশ্যই অভিন্ন।

তিনি বলেন, নার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যেরকম রোগীদের প্রতি সমবেদনা থাকতে হয়, তেমনি রোজার উদ্দেশ্যও হলো গরীব-অসহায়দের প্রতি সমবেদনাসম্পন্ন হওয়া।

এদিকে মিস বুই বলেন, বয়স্কদের সেবা করার প্রধান যোগ্যতা হলো ধৈর্য্যশীল হওয়া। ধৈর্য্যশীল না হলে, বয়স্কদের দেখাশোনা করা অসম্ভব।

তিনি বলেন, আমি মনে করি, মুসলিম হিসেবে বয়স্কদের সেবা করা ও বাড়ি ফিরে এসে পরিবারের জন্য খাবার বানানো এবং বাচ্চাদের সঙ্গে সময় কাটানোও একটা ইবাদাত।

মিস বুই বলেন, এক্ষেত্রে আমাকে দ্বিগুণ ধৈর্যের পরিচয় দিতে হয়। কেননা একে তো আমি বয়স্কদের সেবায় নিয়োজিত, অন্যদিকে তাদের অনেকেই স্মৃতিভ্রংশ জটিলতায় ভুগছেন।

তিনি আরও বলেন, নিজের পিতামাতার মতো মনে না করলে এধরনের বয়স্কদের দেখাশোনা করা সম্ভব নয়। তাদের সেবা করার সময় আমি মনে করি যেনো নিজের পিতামাতারই সেবা করছি। আর তাই আমি তাদের সঙ্গে যথাযথ শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখে সহানুভূতিশীল আচরণ করি।

সহকর্মীদের সার্বিক সহযোগিতা

করোনা মহামারীতে চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত অনেক মুসলমান স্বাস্থ্যকর্মী রোজা রেখে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজেদের যত্ন নিতে হিমশিম খাচ্ছেন।

আবমার জানান, এই প্রথমবার তিনি রোজা রেখে দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি বলেন, কাজ শেষে ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফিরে আমি ঘুমিয়ে পড়ি।

‘করোনার কারণে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বাড়ি ফিরেও আমি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে পারি না। এটি অত্যন্ত কঠিন একটি ব্যাপার। সত্যিই আমি আমার পরিবারকে ভীষণ মিস করি’।

তিনি আরো বলেন, বাড়ি ফিরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ইফতারে অংশগ্রহণ করতে পারি না। ফলে নিজে নিজেই ইফতার সেরে নিতে হয়।

কিন্তু আবমার তার সহকর্মীদেরকে অত্যন্ত সহায়ক উল্লেখ করে বলেন, আমি আমার সহকর্মীদের সবসময় পাশে পাই। যেকোনো পরিস্থিতিতে তারাই আমাকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়।

ডা. ইস্কান্দারও একই রকম অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন।

তিনি বলেন, সেহরির সময় আমি যখন আইসিইউতে ডিউটি করতে যাই, তখন আমার সহকর্মীরা আমাকে দ্রুত খাবার তৈরি করতে সহযোগিতা করে। যার ফলে আমি সময়মতো সেহরি সম্পন্ন করতে পারি।

ডা. ইস্কান্দার জানান, আমি তাদের কাছ থেকে এরকম সহানুভূতিশীল আচরণ আশা করিনি। আসলেই আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।

এবিসি নিউজ থেকে ফরহাদ খান নাঈমের অনুবাদইসলাম ডেস্ক : সবচেয়ে বেশি তাসবিহ পড়ার মাধ্যমে যে নামাজ পড়া হয়, তাই সালাতুত তাসবিহ। নামাজের বিভিন্ন রোকনে ধাপে ধাপে প্রত্যেক রাকাআতে ৭৫ বার তাসবিহ আদায় করতে হয়। এভাবে রাকআত নামাজে ৩০০ বার তাসবিহ পড়ার মাধ্যমে এ নামাজ আদায় করতে হয়। এটি সালাতুত তাসবিহ নামে পরিচিত।

সালাতুতু তাসবিহর অন্যতম ফজিলত হলো- মানুষের বিগত জীবনের গোনাহ মাফ এবং অনেক সাওয়াব লাভ হয়। রমজানে এ নামাজ পড়ার ফজিলত অন্য সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। রমজানের জুমআর দিনে এ নামাজে পাওয়া যায় অতিরিক্ত সাওয়াব। এ নামাজে سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلهِ وَلَا اِلهَ اِلَّا اللهُ وَاللهُ اَكْبَرُ – সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার’ তাসবিহটি ৩০০ বার পড়তে হয়।

সালাতুত তাসবিহ পড়ার নিয়ম
প্রত্যেক রাকাআতে সুরা ফাতেহা পড়া। প্রতি রাকাআতেই একটি সুরা মেলানো। প্রত্যেক রাকাআতে سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلهِ وَلَا اِلهَ اِلَّا اللهُ وَاللهُ اَكْبَرُ অর্থাৎ সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদু লিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার-এ তাসবিহটি ৭৫ বার পড়তে হবে। প্রতি রাকাআতে নিচে উল্লেখিত নিয়ে ৪ রাকাআত নামাজ আদায়ের মাধ্যমে সাতালাতুত তাসবিহ আদায় করতে হয়। নিয়ম হলো-

– নামাজের নিয়ত বেঁধে তাকবিরে তাহরিমার পর সুরা ফাতেহা পড়ার আগে এ তাসবিহ- سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلهِ وَلَا اِلهَ اِلَّا اللهُ وَاللهُ اَكْبَرُ – ১৫ বার পড়া।

– সুরা ফাতেহা ও অন্য সুরা মিলানোর পর রুকুতে যাওয়ার আগে এ তাসবিহ سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلهِ وَلَا اِلهَ اِلَّا اللهُ وَاللهُ اَكْبَرُ – ১০ বার পড়া।
– রুকুতে গিয়ে- سُبْحَانَ رَبِّىَ الْعَظِيْم পড়ার পর এ তাসবিহ- سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلهِ وَلَا اِلهَ اِلَّا اللهُ وَاللهُ اَكْبَرُ – ১০ বার পড়া।
– রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে رَبَّنَا وَ لَكَ الْحَمْد পড়ার পর এ সাতবিহ- سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلهِ وَلَا اِلهَ اِلَّا اللهُ وَاللهُ اَكْبَرُ – ১০ বার পড়া।
– সেজদায় গিয়ে- سُبْحَانَ رَبِّىَ الْأَعْلَى পড়ার পর সেজদাতেই এ তাসবিহ- سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلهِ وَلَا اِلهَ اِلَّا اللهُ وَاللهُ اَكْبَرُ – ১০ বার পড়া।
– দুই সেজদার মাঝে বসে اَللّهُمَّ اغْفِرْلِيْ وَارْحَمْنِي وَاهْدِنِيْ وَعَافِنِيْ وَارْزُقْنِيْ (পারলে) পড়ার পর বসা অবস্থায় এ তাসবিহ- سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلهِ وَلَا اِلهَ اِلَّا اللهُ وَاللهُ اَكْبَرُ – ১০ বার পড়া।
– দ্বিতীয় সেজদায় গিয়ে- سُبْحَانَ رَبِّىَ الْأَعْلَى পড়ার পর সেজদাতেই এ তাসবিহ- سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلهِ وَلَا اِلهَ اِلَّا اللهُ وَاللهُ اَكْبَرُ – ১০ বার পড়া।

একই নিয়মে দ্বিতীয় রাকাআতেও নির্ধারিত তাসবিহ ৭৫ বার পড়া। দুই রাকাআত পড়ার পর তাশাহহুদ পড়ে দাঁড়িয়ে বাকি দুই রাকাআত একই নিয়মে বাকি নামাজ সম্পন্ন করা।

মনে রাখতে হবে
তাসবিহ পড়ার সময় যদি কোনো স্থানে নির্দিষ্ট সংখ্যার চেয়ে কম তাসবিহ পড়া হয় তবে, পরবর্তী যে রোকনে তা স্মরণ হবে সেখানেই তা পড়ে নিলেই হবে। আর কোনো কারণে যদি এ নামাজে সাহু সেজদার প্রয়োজন হয় তবে ওই সাহু সেজদায় এবং সাহু সেজদার মাঝে বসার সময়ও এ তাসহিব পড়তে হবে না। তাসবিহ পড়ার ক্ষেত্রে স্মরণ রাখার জন্য আঙুলের কর গণনা করা যাবে না তবে আঙুল চেপে তাসবিহ এর সংখ্যা স্মরণ রাখা যাবে।

সালাতুত তাসবিহ-এর ফজিলত সম্পর্কে হাদিসের বর্ণনায় এসেছে-
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ‘একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (আমার পিতা) হজরত আব্বাসকে বললেন, ‘হে আব্বাস! হে চাচাজান! আমি কি আপনাকে দেব না? আমি কি আপনাকে দান করব না? আমি কি আপনাকে সংবাদ দেব না? আমি কি আপনার সঙ্গে ১০টি সৎকাজ করব না? (অর্থাৎ ১০টি উত্তম তাসবিহ শিক্ষা দেব না) যখন আপনি তা (আমল) করবেন-
তখন আল্লাহ আপনার আগের, পরের, পুরাতন, নতুন, সবধরনের গোনাহ মাফ করে দেবেন। ইচ্ছাকৃত কিংবা অনিচ্ছাকৃত গোনাহ মাফ করে দেবেন। সগিরা ও কবিরা (ছোট ও বড়) গোনাহ মাফ করে দেবেন। গোপন ও প্রকাশ্য গোনাহ মাফ করে দেবেন।

(হে চাচা!) আপনি ৪ রাকাআত নামাজ পড়বেন এবং প্রত্যেক রাকাআতে সুরা ফাতেহা পাঠ করবেন এবং যে কোনো একটি সুরা মেলাবেন। (অর্থাৎ প্রত্যেক রাকাআতে এ তাসবিহটি ৭৫ বার করে আদায় করতে হবে।)

(অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হে চাচা!) এভাবে যদি প্রতিদিন একবার এ নামাজ পড়তে সক্ষম হন; তবে তা পড়বেন। আর যদি সক্ষম না হন, তবে প্রত্যেক জুমআর দিনে একবার পড়বনে। তাও যদি না পারেন, তবে প্রত্যেক মাসে একবার পড়বেন। তাও যদি না পারেন তবে প্রত্যেক বছর একবার পড়বেন, আর যদি তাও না পারেন তবে আপনার জীবনে অন্তত একবার পড়বেন। (তিরমিজি, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, মিশকাত)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে রমজান মাস এবং জুমআর দিনে সর্বাধিক তাসবিহ সম্বলিত নামাজ পড়ে উল্লেখিত ফজিলত লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।