ঢাকা, আজ বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০

ভাড়াটিয়া করোনায় আক্রান্ত, আইশোলেশনের জন্য নিজের ঘর ছাড়লেন বাড়িওয়ালা

প্রকাশ: ২০২০-০৫-১৬ ১৪:২৮:৪১ || আপডেট: ২০২০-০৫-১৬ ১৪:২৮:৪১

ভাড়াটিয়া করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত, কিন্তু বাসায় নেই আইসোলেশনে থাকার পর্যাপ্ত সুবিধা। তাই বাড়িওয়ালা নিজের বাসা ছেড়ে দিয়ে শ্বশুর বাড়িতে উঠেছেন তার জন্য। করোনাকালে মানবিকতার এমন গল্পের জন্ম দিয়েছেন রাজধানীর কলাবাগানের এক বাড়ির মালিক।

গল্পটা সেই যে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া দম্পতির বাড়ির এক কিলোমিটারের মধ্যে, একই এলাকায়। এ দম্পতিকে বাসায় তুলতে কলাবাগান থানার যে পুলিশ সদস্যরা কাজ করেছেন, তাদেরই একজন এবার করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত।

নর্থ সার্কুলার রোডের ৫ নম্বর বাড়ি। ৪ তলায় থাকেন পুলিশের এএসআই মাসুদ রানা। করোনা পজেটিভ রিপোর্ট আসার পর হোম আইসোলেশনে। বাসায় স্ত্রী আর দুই শিশুসন্তানসহ বাস। একটি মাত্র টয়লেট, তাই কার্যত আইসোলেশন কার্যকর করা সম্ভব নয়। এ অবস্থায় এগিয়ে আসেন বাড়িওয়ালা। নিজের পুরো বাসা মাসুদের আইসোলেশনের জন্য ছেড়ে দেন তিনি।

কলাবাগান থানা এএসআই মাসুদ রানা বলেন, বিশাল একটা টেনশনের মধ্যে পরিবার নিয়ে ছিলাম। এসময় বাড়িওয়ালা ফোন দিয়ে বললেন, আপনি দোতলায় এসে থাকেন। আমার থাকার ফ্ল্যাটটি আমি ছেড়ে দিচ্ছি। সেখানে আমাকে আইশোলেশনে থাকতে বললেন।

বাড়ির মালিক মনে করছেন, সময়টা এখন এগিয়ে আসার।

বাড়িওয়ালা জাফরুল ইসলাম বলেন, যেহেতু আমার আছে, তাই সহযোগিতা করাই যায়।

মানবিকতার ছোট্ট এ গল্প ছুঁয়ে গেছে স্থানীয়দের মন। তারা মনে করছে, এভাবে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কাটিয়ে উঠা যাবে এ দুঃসময়।কিয়ামতের দিন রোজাদারদের আল্লাহ তায়ালা পানি পান করাবেন
কিয়ামতের দিন রোজাদারদের আল্লাহ তায়ালা পানি পান করাবেন
ইসলাম ডেস্ক: রোজার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে মিলে প্রতি’দানের অফুরন্ত সওয়াব। নেকি-পুন্যে ভারি হয় আমলের থলি। প্রতি’টি রোজা পালনের মাঝ দিয়ে আল্লাহর আনুগ’ত্যের পরিচয় দেয় বান্দা।

এর বিনিময়ে দয়া, অনুগ্রহ, রহমত, বরকতে পরিপূর্ণ করে দেয়া হয় আনুগত্যশীল বান্দাকে। রোজা শুধু আল্লাহর জন্য এবং তিনিই এ রোজার আমলের প্রতিদান দান করবেন ম’র্মে এক হাদিসে কুদ’সিতে ইরশাদ করেছেন, মানুষের প্রতিটি কাজ তার নিজের জন্য, কিন্তু রোজা এর ব্যতিক্রম তা শুধু আমার জন্য, আমিই তার প্রতিদান দেব। (মুসলিম -২৭৬০)।

এ হাদিস দ্বা’রা আমরা অনুধাবন করতে পারি, যাবতীয় নেক আমলের মাঝে রোজা রাখার গুরুত্ব আল্লাহর কাছে এতো বেশি যে, তিনি নিজেই রোজার প্রতিদান প্রদানের প্রতি’শ্রুতি দিয়েছেন। আর এ জন্যই বি’খ্যাত সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) যখন বলেছিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে অতি উত্তম কোনো নেক আমলের নির্দেশ দিন। রাসূল (সা.) বলেছিলেন, তুমি রোজা রাখো। কারণ এর সমমর্যাদার আর কোনো আমল নেই। (নাসায়ি-২৫৩৪)।

এছাড়া রাসূল (সা.) বলেছেন, মানব সন্তানের প্রতিটি নেক আমলের প্রতিদান ১০ থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। আ’ল্লাহ তায়ালা বলেন, কিন্তু রোজার বিষয়টি ভিন্ন। কেননা, রোজা শুধু আমার জন্য, আমিই তার প্রতিদান দেব। (মুসলিম-১৫৫১)।

রোজা জাহান্নাম থেকে বাঁচার ঢাল স্বরুপ : হাদিসে এসেছে, রোজা হলো ঢাল ও জা’হান্না’মের আগুন থেকে বাঁচার মজবুত দুর্গ।(মুসনাদে আহমদ-৯২১৪)। আরো বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য এক দিন রোজা রাখবে, আল্লাহ তার থেকে জাহান্নামকে এক খরিফ (৭০ বছরের) দূরত্বে সরি’য়ে দেবেন। (মুসলিম-২৭৬৯)।

জান্নাত লাভের মাধ্যম হলো রোজা : রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, জান্নাতের একটি দরজা রয়েছে। যার নাম রাইয়ান। কিয়া’মতের দিন রোজাদাররাই শুধু সে দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে। তাদের ছাড়া অন্য কেউ সে দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। সেদিন ঘোষণা করা হবে, রোজাদাররা কোথায়? তখন তারা দাঁড়িয়ে যাবে এবং সে দ’রজা দিয়ে প্রবেশ করবে। যখন তাদের প্রবেশ শেষ হবে, তখন দরজা বন্ধ করে দেয়া হবে। ফলে তারা ছাড়া অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। (বুখারি-১৭৯৭)।

রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মেশকের চেয়েও উত্তম : নবী করিম (সা.) বলেন, যার হাতে মুহাম্মাদ (সা.) এর জীবন, সে স’ত্তার শপথ, রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহ তায়ালার কাছে মেশকের ঘ্রাণ থেকেও প্রিয়। (বুখারি-১৭৯০)।

কিয়ামতের দিন রোজা সুপারিশ করবে : আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন, রোজা ও কোরআন কিয়ামতের দিন মানুষের জন্য এভাবে সু’পারিশ করবে যে রোজা বলবে, হে প্রতিপালক! আমি দিনের বেলা তাকে পা’নাহার ও সহবাস থেকে বিরত রেখেছি। তাই তার ব্যা’পারে তুমি আমার সুপারিশ কবুল করো। কোরআন বলবে, হে প্রতিপালক! আমি তাকে রাতে নিদ্রা থেকে বিরত রে’খেছি, তাই তার ব্যাপারে তুমি আমার সুপারিশ কবুল করো। তিনি বলেন, ‘এরপর উভয়ের সুপারিশই কবুল করা হবে।(মুসনাদে আহমদ-৬৬২৬)।

রোজার মাধ্যমে গুনাহ মাফ হয় : মানুষ যখন পরি’বার-পরিজন, প্রতিবেশী ও ধন-সম্পদের কারণে গুনাহ করে ফেলে, তখন নামাজ, রোজা, সদকা সে গুনাহগুলোকে মিটিয়ে দেয়। (বুখারি-১৭৯৫)। অন্য হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, যে রমজান মাসে ঈমান ও ইহতিসাবের সঙ্গে রোজা রাখবে, তার অতীতের গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। (বুখারি-২০১৪)।

কিয়ামতের দিন রোজাদারদের আল্লাহ তায়ালা পানি পান করাবেন : হজরত আবু মুসা (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহ তায়ালা নিজে’র ওপর অবধারিত করে দিয়েছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য গ্রীষ্মকালে (রোজা রাখার কারণে) পিপাসার্ত থেকেছে, তিনি তাকে তৃষ্ণার দিন (কিয়ামতের দিন) পানি পান করাবেন।

রোজাদারের দোয়া কবুল হয় : হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) হতে বর্ণিত, নবী (সা.) ইরশাদ করেন, ইফতারের সময় রোজাদার যখন দোয়া করেন তখন তার দোয়া ফিরিয়ে দেয়া হয় না। অর্থাৎ দোয়া কবুল কর হয়। (সুনানে ইবনে মাজাই, ১৭৫৩)।

এমাসে শয়তানকে শিকলবন্দী করা হয় : হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘যখন রমজান মাসের আগন ঘটলো, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন, তোমাদের নিকট বরকতময় মাস রমজান এসেছে। আল্লাহ তায়ালা তোমাদের জন্য এ মাসের রো’জা ফরজ করেছেন। এ মাসে জান্নাতের দরজা’সমূহ খুলে দেয়া হয় এবং জা’হান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। আর শয়তানদেরকে শিকলে বন্দী করা হয়। এ মাসে এমন একটি রাত আছে, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। যে এর কল্যান থেকে বিরত হলো, সে তো প্রকৃতপক্ষেই বিরত। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস-৭১৪৮ সুনানে নাসায়ী-হাদিস-২৪১৬)।

রমজানের চেয়ে উত্তম কোনো মাস নেই : হজরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ তায়ালার কসম! মুসলমানদের জন্য রমজানের চেয়ে উত্তম কোনো মাস আসেনি এবং মুনাফিকদের জন্য রমজান মাসের চেয়ে অধিক ক্ষতির মাসও আর আসেনি। কেননা, মুমিনগণ এ মাসে (গোটা বছরের জন্য) ইবাদতের শক্তি ও পাথেয় সংগ্রহ করে। আর মুনাফিকরা তাতে মানুষের উদাসীনতা ও দোষত্রুটি অন্বেষণ করে। এ মাস মুমিনের জন্য গনীমত আর মুনাফিকের জন্য ক্ষতির কারণ। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস ৮৩৬৮)।

মুহাদ্দিসীনে কেরাম বলেন, মুমিন বান্দারা যাতে রমজান মা’সের অতি মূল্যবান ও বরকতপূর্ণ সময় নেক কাজে ব্যয় করতে পারে এবং মুনা’ফিকদের মতো খায়ের ও বরকত থেকে বিরত না থাকে, তাই আল্লাহ তায়ালা এ মাসের শুরু থেকেই সৃষ্টিজগতে এমন আবহ সৃষ্টি করেন, যা পুরো পরিবেশকেই রহমত-বরকত দ্বারা আচ্ছাদিত করে দেয় এবং মুমিনদের ইবাদত-বন্দেগি ও নেক আমলের উৎসাহ-উদ্দীপনা জোগাবে।

তাদের পূণ্য ও প্রতিদানের সুসংবাদ দিতে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয় এবং পাপাচার ও খারাপ কাজ হতে বিরত রাখতে জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয়। সব ধরনের ফিতনা-ফাসাদ ও অনিষ্ট হতে রক্ষা করতে কুমন্ত্রণাদাতা দুষ্টু জিন ও শয়তানদেরকে শিকল লাগিয়ে আবদ্ধ করা হয়। তারপর কল্যাণের পথে অগ্রগামী হওয়ার ও অন্যায় থেকে নিবৃত্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়।

আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনায় একদিন রোজা রাখা : হজরত হুযায়ফা (রা.) বলেন, আমি আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমার বু’কের সঙ্গে মিলিয়ে নিলাম, তারপর তিনি বললেন, যে ব্য’ক্তি লাইলাহা ইল্লাল্লাহু’ বলে মৃত্যুবরণ করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে, যে ব্য’ক্তি আল্লা’হর সন্তুষ্টি কামনায় একদিন রোজা রাখবে, মৃত্যু পরে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। যে ব্যক্তি আল্লাহর স’ন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো দান-সদকা করে; মৃ’ত্যু পর সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ২৩৩২৪)।