ঢাকা, আজ মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর ২০২০

ব্যাট কেনার পর মুশফিককে যা বললেন আফ্রিদি (ভিডিও)

প্রকাশ: ২০২০-০৫-১৬ ১৪:২৬:৩৫ || আপডেট: ২০২০-০৫-১৬ ১৪:২৬:৩৫

নিলাম থেকে মুশফিকুর রহিমের ব্যাট কিনে নিয়েছে পাকিস্তানি তারকা ক্রিকেটার শহীদ আফ্রিদির ফাইন্ডেশন। ২০ হাজার ইউএস ডলারে (প্রায় ১৭ লাখ টাকায়) ব্যাটটি কিনে নেয় তারা। প্রাপ্ত পুরো অর্থ ব্যয় করা হবে করোনা যুদ্ধে।

ব্যাটটি কেনার পর মুশফিকের উদ্দেশে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন আফ্রিদি। শুক্রবার রাতে মুশফিক তার ফেসবুক পেজে ভিডিওটি প্রকাশ করেন।

উর্দূ ভাষার ভিডিও বার্তায় আফ্রিদি বলেন, আফিআসসালামু আলাইকুম মুশফিক, আপনি দেশের মানুষের জন্য যা করছেন তা সত্যিই প্রশংসনীয়। সত্যিকারের নায়করাই একাজ করতে পারে। আমরা সবাই খারাপ একটা সময় পার করছি। এ সময় আমাদের একে অন্যকে সাহায্য করা জরুরী যাতে করে এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারি। অতীতে বাংলাদেশে আমি যে পরিমাণে ভালবাসা ও সম্মান পেয়েছি তা আমি সারা জীবন মনে রাখবো। পাকিস্তানের জনগণ ও শহীদ আফ্রিদি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে, আমি আপনার ব্যাটটা কিনে আপনার সঙ্গী হতে চাই এই পথ চলায়। আপনার জন্য আমার প্রার্থনা সব সময় থাকবে, আশা করছি আল্লাহ আমাদের সাহায্য করবেন এই মহামারী পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে। আপনার সাথে আবারো মাঠে আমার দেখা হবে তাড়াতাড়ি। ধন্যবাদ।

এর আগে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানের ব্যাটটি নিলামে তোলে নিবকো স্পোর্টস ম্যানেজমেন্টের সহযোগী প্রতিষ্ঠান স্পোর্টস ফর লাইভ। তারা ই-কমার্সভিত্তিক সাইট পিকাবো ডটকমের সঙ্গে চুক্তি করে। যেখানে গত ৯ মে রাতে ব্যাটটি নিলামে তোলা হয়।

গত বুধবার নিবকো এবং পিকাবো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ব্যাটটির নিলাম প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত ৫৩টি বিড হয়েছে যেখানে ব্যাটটির মূল্য সর্বোচ্চ ৪১ লাখ পর্যন্ত উঠেছে।

নিবকোর এক কর্মকর্তা বলেছিলেন, এই দাম অস্বাভাবিক। আমরা দেখেছি, কিছু বিডার কৃত্রিমভাবে দাম বাড়িয়ে নিলামকে নষ্ট করার চেষ্টা করেছে। আমরা প্রতিবারে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ানো যাবে বলে নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম। কিন্তু কেউ কেউ একবারেই ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম তুলেছে। আমরা আশঙ্কা করছি, এটা প্রকৃত বিডারদের নিরুৎসাহিত করবে।

তবে শেষ পর্যন্ত প্রকৃত আগ্রহী পাওয়া গেল। প্রায় ১৭ লাখ টাকা আসছে ব্যাটটি বিক্রি থেকে। যার পুরোটাই খবর করা হবে করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য।

পিকাবোর প্রধান নির্বাহী মনির তালুকদার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, প্রাথমিকভাবে কিছু সমস্যার মুখোমুখি হলেও শেষ পর্যন্ত তারা সঠিক বায়ার পেয়ে গেছেন। আর এটি হলো- শহীদ আফ্রিদি ফাউন্ডেশন।

তিনি বলেন, আমরা শহীদ আফ্রিদি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে অফিসিয়াল ইমেইল পেয়েছি। তারা ব্যাটটি ২০ হাজার মার্কিন ডলার দিয়ে কিনতে চায়।

২০১৪ সালে পাকিস্তানের জনপ্রিয় ক্রিকেটার শহীদ আফ্রিদি ফাউন্ডেশনটি প্রতিষ্ঠা করেন। এটি পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে জনহিতকর কাজ করছে। ক্রিকেটের স্মরণীয় ব্যাটটি সংগ্রহে রাখার জন্য কিনে রাখছে ফাউন্ডেশনটি।

এই ব্যাট দিয়ে ২০১৩ সালে গল টেস্টে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির করেছিলেন মুশফিক। নিলামে ব্যাটটির ভিত্তিমূল্য ধরা হয়েছিল ৬ লাখ টাকা।ইসলাম ডেস্ক : সবচেয়ে বেশি তাসবিহ পড়ার মাধ্যমে যে নামাজ পড়া হয়, তাই সালাতুত তাসবিহ। নামাজের বিভিন্ন রোকনে ধাপে ধাপে প্রত্যেক রাকাআতে ৭৫ বার তাসবিহ আদায় করতে হয়। এভাবে রাকআত নামাজে ৩০০ বার তাসবিহ পড়ার মাধ্যমে এ নামাজ আদায় করতে হয়। এটি সালাতুত তাসবিহ নামে পরিচিত।

সালাতুতু তাসবিহর অন্যতম ফজিলত হলো- মানুষের বিগত জীবনের গোনাহ মাফ এবং অনেক সাওয়াব লাভ হয়। রমজানে এ নামাজ পড়ার ফজিলত অন্য সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। রমজানের জুমআর দিনে এ নামাজে পাওয়া যায় অতিরিক্ত সাওয়াব। এ নামাজে سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلهِ وَلَا اِلهَ اِلَّا اللهُ وَاللهُ اَكْبَرُ – সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার’ তাসবিহটি ৩০০ বার পড়তে হয়।

সালাতুত তাসবিহ পড়ার নিয়ম
প্রত্যেক রাকাআতে সুরা ফাতেহা পড়া। প্রতি রাকাআতেই একটি সুরা মেলানো। প্রত্যেক রাকাআতে سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلهِ وَلَا اِلهَ اِلَّا اللهُ وَاللهُ اَكْبَرُ অর্থাৎ সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদু লিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার-এ তাসবিহটি ৭৫ বার পড়তে হবে। প্রতি রাকাআতে নিচে উল্লেখিত নিয়ে ৪ রাকাআত নামাজ আদায়ের মাধ্যমে সাতালাতুত তাসবিহ আদায় করতে হয়। নিয়ম হলো-

– নামাজের নিয়ত বেঁধে তাকবিরে তাহরিমার পর সুরা ফাতেহা পড়ার আগে এ তাসবিহ- سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلهِ وَلَا اِلهَ اِلَّا اللهُ وَاللهُ اَكْبَرُ – ১৫ বার পড়া।

– সুরা ফাতেহা ও অন্য সুরা মিলানোর পর রুকুতে যাওয়ার আগে এ তাসবিহ سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلهِ وَلَا اِلهَ اِلَّا اللهُ وَاللهُ اَكْبَرُ – ১০ বার পড়া।
– রুকুতে গিয়ে- سُبْحَانَ رَبِّىَ الْعَظِيْم পড়ার পর এ তাসবিহ- سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلهِ وَلَا اِلهَ اِلَّا اللهُ وَاللهُ اَكْبَرُ – ১০ বার পড়া।
– রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে رَبَّنَا وَ لَكَ الْحَمْد পড়ার পর এ সাতবিহ- سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلهِ وَلَا اِلهَ اِلَّا اللهُ وَاللهُ اَكْبَرُ – ১০ বার পড়া।
– সেজদায় গিয়ে- سُبْحَانَ رَبِّىَ الْأَعْلَى পড়ার পর সেজদাতেই এ তাসবিহ- سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلهِ وَلَا اِلهَ اِلَّا اللهُ وَاللهُ اَكْبَرُ – ১০ বার পড়া।
– দুই সেজদার মাঝে বসে اَللّهُمَّ اغْفِرْلِيْ وَارْحَمْنِي وَاهْدِنِيْ وَعَافِنِيْ وَارْزُقْنِيْ (পারলে) পড়ার পর বসা অবস্থায় এ তাসবিহ- سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلهِ وَلَا اِلهَ اِلَّا اللهُ وَاللهُ اَكْبَرُ – ১০ বার পড়া।
– দ্বিতীয় সেজদায় গিয়ে- سُبْحَانَ رَبِّىَ الْأَعْلَى পড়ার পর সেজদাতেই এ তাসবিহ- سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلهِ وَلَا اِلهَ اِلَّا اللهُ وَاللهُ اَكْبَرُ – ১০ বার পড়া।

একই নিয়মে দ্বিতীয় রাকাআতেও নির্ধারিত তাসবিহ ৭৫ বার পড়া। দুই রাকাআত পড়ার পর তাশাহহুদ পড়ে দাঁড়িয়ে বাকি দুই রাকাআত একই নিয়মে বাকি নামাজ সম্পন্ন করা।

মনে রাখতে হবে
তাসবিহ পড়ার সময় যদি কোনো স্থানে নির্দিষ্ট সংখ্যার চেয়ে কম তাসবিহ পড়া হয় তবে, পরবর্তী যে রোকনে তা স্মরণ হবে সেখানেই তা পড়ে নিলেই হবে। আর কোনো কারণে যদি এ নামাজে সাহু সেজদার প্রয়োজন হয় তবে ওই সাহু সেজদায় এবং সাহু সেজদার মাঝে বসার সময়ও এ তাসহিব পড়তে হবে না। তাসবিহ পড়ার ক্ষেত্রে স্মরণ রাখার জন্য আঙুলের কর গণনা করা যাবে না তবে আঙুল চেপে তাসবিহ এর সংখ্যা স্মরণ রাখা যাবে।

সালাতুত তাসবিহ-এর ফজিলত সম্পর্কে হাদিসের বর্ণনায় এসেছে-
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ‘একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (আমার পিতা) হজরত আব্বাসকে বললেন, ‘হে আব্বাস! হে চাচাজান! আমি কি আপনাকে দেব না? আমি কি আপনাকে দান করব না? আমি কি আপনাকে সংবাদ দেব না? আমি কি আপনার সঙ্গে ১০টি সৎকাজ করব না? (অর্থাৎ ১০টি উত্তম তাসবিহ শিক্ষা দেব না) যখন আপনি তা (আমল) করবেন-
তখন আল্লাহ আপনার আগের, পরের, পুরাতন, নতুন, সবধরনের গোনাহ মাফ করে দেবেন। ইচ্ছাকৃত কিংবা অনিচ্ছাকৃত গোনাহ মাফ করে দেবেন। সগিরা ও কবিরা (ছোট ও বড়) গোনাহ মাফ করে দেবেন। গোপন ও প্রকাশ্য গোনাহ মাফ করে দেবেন।

(হে চাচা!) আপনি ৪ রাকাআত নামাজ পড়বেন এবং প্রত্যেক রাকাআতে সুরা ফাতেহা পাঠ করবেন এবং যে কোনো একটি সুরা মেলাবেন। (অর্থাৎ প্রত্যেক রাকাআতে এ তাসবিহটি ৭৫ বার করে আদায় করতে হবে।)

(অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হে চাচা!) এভাবে যদি প্রতিদিন একবার এ নামাজ পড়তে সক্ষম হন; তবে তা পড়বেন। আর যদি সক্ষম না হন, তবে প্রত্যেক জুমআর দিনে একবার পড়বনে। তাও যদি না পারেন, তবে প্রত্যেক মাসে একবার পড়বেন। তাও যদি না পারেন তবে প্রত্যেক বছর একবার পড়বেন, আর যদি তাও না পারেন তবে আপনার জীবনে অন্তত একবার পড়বেন। (তিরমিজি, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, মিশকাত)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে রমজান মাস এবং জুমআর দিনে সর্বাধিক তাসবিহ সম্বলিত নামাজ পড়ে উল্লেখিত ফজিলত লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।