ঢাকা, আজ বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

করোনা উপসর্গ নিয়ে ছেলের মৃত্যু, খবর শুনে মারা গেলেন বাবা

প্রকাশ: ২০২০-০৫-১৫ ১৬:১৬:৪৭ || আপডেট: ২০২০-০৫-১৫ ১৬:১৬:৪৭

করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ছেলে এ খবর শুনে এক ঘণ্টা পর হার্ট অ্যাটাকে মারা গেলেন বৃদ্ধ বাবা। ঘটনাটি ঘটেছে আজ সোমবার সকালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সরদারপাড়া এলাকায়।

জানা গেছে, ছেলে রিমন সাউদের (২৪) করোনার উপসর্গ জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট থাকায় তার নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে এখনো রিপোর্ট পায়নি বলে জানিয়েছে পরিবার।

রিমন সাউদের চাচাতো ভাই মাসুম সাউদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভোর রাত ৩টায় দিকে অসুস্থ বোধ করলে আমার চাচাতো ভাই রিমন সাউদ নিজ বাড়ির দ্বিতীয় তলা থেকে পায়ে হেঁটে গাড়িতে উঠে।

পরে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যাই। কিন্তু করোনার উপসর্গ জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট থাকার কারণে কোনো হাসপাতালে ভর্তি নেয়নি। অবশেষে আমরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে ভোর ৬টার দিকে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

এদিকে, ছেলের মৃত্যুশোক সইতে না পেরে হার্ট অ্যাটাক করেন বাবা হাজী ইয়ার হোসেন (৬০)। তাকেও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে ভোর ৭টার দিকে মৃত্যু হয় তার।

হাজী ইয়ার হোসেন সিদ্ধিরগঞ্জের সরদারপাড়া মসজিদ কমিটির সভাপতি ছিলেন। এ ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জের সরদারপাড়া এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
কঠিন বিপদের সময় মুসলমানদের দু’আয় গুরুত্বপূর্ণ ‘পাওয়ার’ রয়েছে: ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, বিপদের সময় মুসলমানদের প্রার্থনার গুরুত্বপূর্ণ পাওয়ার আমি দেখেছি।

তারা বিপদের সময় নামাজ, রোজা ও কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে নিজেদের শক্তিশালী করে তোলেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে শুভেচ্ছা জানান আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, মুসলমানগণ দীর্ঘ এক মাস যাবত অনাহার যাপন করেন এবং প্রার্থনা করেন।

তারা এর মাধ্যমে নিজেদের আত্মশুদ্ধি অর্জন করেন। আমি এই মহিমান্বিত রমজান মাসে তাদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, রমজানের মাধ্যমে বিশ্বে শান্তি, সম্প্রীতি ও ঐক্য ফিরে আসবে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২০ জানুয়ারি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হোন ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি মুসলমানদের বিরুদ্ধে বেশকিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

যার মাঝে আমেরিকায় মুসলিম অভিবাসীদের নিষিদ্ধ করা অন্যতম। এছাড়াও তিনি ফিলিস্তিনে অর্থায়ন বন্ধ, জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি ও গোলান মালভূমিকে ইসরাইলের নামে লিখে দেওয়া সহ নানান মুসলিম বিরোধী কার্যক্রমে অনুমোদন দেন।

আমাদের মতো বেকুব জনগণের বেঁচে থাকার দরকারইবা কী?

ফরিদ কবির (ফেসবুক থেকে): করোনা আক্রা’ন্তের সংখ্যা সরকারি হিসেবে ১০ হাজার ছাড়ালো! বেসরকারি হিসেবে এ সংখ্যাটা কতো হতে পারে, আন্দাজ করেন তো? ২০ হাজার? ৩০ হাজার? ৪০ হাজার? আচ্ছা, ধ’রে নিচ্ছি ৩০ হাজারই। এই মে মাসে আক্রা’ন্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা যেখানে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে, সেখানে আমরা সব দরোজা-জানালা একেবারে বন্ধ করে দেয়ার বদলে খুলে দিতে শুরু করেছি!

দোকানপাট, রেস্তোরাঁ ও শপিং সেন্টারগুলি খুলে দেয়ার পর আক্রা’ন্ত ৩০ হাজার রোগীর প্রত্যেকে গড়ে ৭ দিনে ৫ জন লোককে আক্রা’ন্ত করলে এই সংখ্যা দাঁড়াবে ১ লাখ ৫০ হাজার! তারা প্রত্যেকে পরবর্তী ৭ দিনে আরো ৫ জন করে আক্রা’ন্ত করলে এই সংখ্যা দাঁড়াবে মাত্র ৭ লাখ ৫০ হাজারে! থাক, আরো কম করে বলি। ধ’রেন আক্রা’ন্তের সংখ্যা ঈদের আগেই দাঁড়ালো ৫ লাখ। ধ’রা যাক, এদের মাত্র ১০ শতাংশ মৃ’ত্যুবরণ করলো। তো, মৃত্যুর সংখ্যা কতো দাঁড়াবে?

জ্বি, এ মাসেই আক্রা’ন্তের সংখ্যা চূড়া স্পর্শ করতে পারে। এ সময়ে আমরা সামাজিক দূরত্ব না বাড়িয়ে তাকে সামাজিক ঢলাঢলিতে পরিণত করতে চলেছি। ফলে, যারা করোনায় আক্রা’ন্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করবেন বলে আমরা আশংকা করছি, সেটাকে আত্মহ’ত্যা ধরে নেয়াই সঙ্গত হবে। আপনারা দোকানপাট, শপিংসেন্টার, রেস্তোরাঁ খুলে দিলে লোকজন কি সেখানে যাবেন না? বাঙালিরা খুবই ধার্মিক প্রজাতির। তারা বিশ্বাস করেন, ‘রাখে আল্লাহ, মারে কে?’

আরো পড়ুন: বদর যুদ্ধের মতো আমাদের সাহায্য করো আল্লাহ !

বদর যুদ্ধের মতো আমাদের সাহায্য করো আল্লাহ আজ ১৭ রমজান। ঐতিহাসিক বদর দিবস। হিজরি দ্বিতীয় সনের এ দিনে বদর প্রান্তরে রাসূল (সা.)-এর নেতৃত্বে মক্কার কুফরি শক্তির বিরুদ্ধে যে সশস্ত্র যুদ্ধ হয় ইতিহাসে তাই বদর যুদ্ধ নামে পরিচিত।

ইসলামের ইতিহাসে এটি প্রথম সশস্ত্র যুদ্ধ। মক্কার কাফেররা রাসূল (সা.) এবং মুমিন বাহিনীকে মক্কা থেকে বের করে দিয়েই চুপ করে বসে থাকেনি, তারা ইসলামকে শেষ করে দেয়ার জন্য নানা ফন্দি আঁটতে থাকে।

এক পর্যায়ে আবু জাহেল আবু সুফিয়ান সিদ্ধান্ত নেয়, এখনই যদি মুহম্মদ বাহিনীকে নিঃশেষ করা না যায় তাহলে এ বাহিনীর সঙ্গে আর কুলিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। আবু জাহেল এক হাজার সুসজ্জিত প্রশিক্ষিত সৈন্য নিয়ে বদরপ্রান্তরে এসে মদিনা আক্রমণের জন্য অপেক্ষা করে।

এ খবর জানতে পেরে রাসূল (সা.) মাত্র ৩১৩ জন নিরস্ত্রপ্রায় সাহাবি নিয়ে এ বিশাল সৈন্যবাহিনীর মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত থাকেন। যুদ্ধ শুরুর আগে রাসূল (সা.) আল্লাহর কাছে দুই হাত তুলে কান্নাভেজা কণ্ঠে বলেন, ওগো আল্লাহ, আজ তোমার প্রতিশ্রুত সাহায্য বড়ই প্রয়োজন।

আজ যদি এ কয়জন মুমিন বান্দা মরে যায়, তাহলে তোমার দ্বীন প্রচারের জন্য আর কোনো মানুষ থাকবে না। তোমার দ্বীনের স্বার্থে তুমি আমাদের বিজয় দান কর। আল্লাহর রাসূলের দোয়া এমনই কবুল হয়েছে, বিশেষ ফেরেশতা নাজিল করে আল্লাহতায়ালা মুমিন বাহিনীকে সাহায্য করেছেন।

এ সাহায্যের কথা আবার সূরা আলে ইমরানে আল্লাহ উল্লেখ করেছেন, হে মুমিনরা, আল্লাহ তোমাদের বদরে সাহায্য করেছেন অথচ সেদিন তোমরা ছিলে অসহায়। বদরের এ ঘটনা থেকে মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে বড় শিক্ষণীয় বিষয় হল, মুসলিম উম্মাহ এমন একটি জাতি,

যে নীরবে নিভৃতে অত্যাচার-অনাচার-জুলুম সহ্য করাকে ভয়াবহ গোনাহ মনে করে। প্রয়োজনে জীবন দিয়ে হলেও সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে বড় কর্তব্য। আজ মুসলমানদের সামনে সেদিন এসেছে সমাজে শান্তি বজায় রাখা,

শৃঙ্খলা বজায় রাখা, ধৈর্যধারণ করা খুবই জরুরি। পাশাপাশি তাদের এ কর্তব্য পালনের জন্য আল্লাহতায়ালার সাহায্য প্রার্থনা করাও জরুরি। মুসলমান কখনও জাগতিক উপায়-উপকরণ কিংবা সম্পদের ওপর ভরসা করে না। তারা সব সময় আল্লাহর ওপর ভরসা করে। তার মানে এ নয় যে, উপায়-উপকরণ ব্যবহার করা যাবে না।

বদরের ঘটনায় দেখা যায়, মুসলিম সৈন্যবাহিনী কম থাকায় রাসূল (সা.) নানা কৌশল অবলম্বন করেছেন। রাসূল (সা.) সৈন্যদের বলেছেন, একদল সৈন্য তীর ছুড়ে পেছনে চলে আসবে। তখন পেছন থেকে আরেক দল সৈন্য সামনে গিয়ে তীর ছুড়বে। যাতে শত্রুপক্ষ বুঝতে পারে একই লোক বারবার তীর ছুড়ছে না।

বরং মুসলিম মুজাহিদের সংখ্যা মনে হবে অনেক বেশি। তারা একদলের পর একদল এসে তীর ছুড়ে যাচ্ছে। যুদ্ধের আগে রাসূল (সা.) বলেন, আমরা ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে আলাদা আলাদা রান্না করব। আলাদা আলাদা তাঁবু খাটাব। অনেক বেশি টয়লেট বানাব।

যেন শত্রুপক্ষ দূর থেকে দেখে বুঝতে পারে সংখ্যায় আমরা অনেক বেশি। একদিকে রাসূল (সা.) কান্নায় বিগলিত হয়ে মোনাজাত করেছেন, অন্যদিকে সমসাময়িক সব ধরনের যুদ্ধ কৌশলও তিনি (সা.) প্রয়োগ করেছেন। আফসোস! আজ একদল মুসলমান শুধু মোনাজাত করে বিশ্ব বদলাতে চায়।

আরেক দল মুসলমান মোনাজাত ছাড়া পৃথিবীতে নেতৃত্ব করতে চায়। ফলে কেউই সফলতার মুখ দেখছে না। মুসলমান যদি আবার তাদের হারানো বিজয় ফিরিয়ে আনতে চায়, তাহলে দোয়া এবং কৌশল দুটোই সঙ্গে করে এগোতে হবে।

হে আল্লাহ, বদরের চেতনায় মুসলমান যেভাবে বিজয়ী হয়েছিল আজকের মুসলমানদেরও সেভাবে করোনার সঙ্গে যুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করার তাওফিক দিন।

লেখক : মুফাসসিরে কোরআন; চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ মুফাসসির সোসাইটি