ঢাকা, আজ রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০

রমজানের শেষ দশকে শাইখ সুদাইসের বিশেষ নির্দেশনা

প্রকাশ: ২০২০-০৫-১৫ ১০:০৯:৪০ || আপডেট: ২০২০-০৫-১৫ ১০:০৯:৪০

পবিত্র মাহে রমজানের শেষ দশক উপলক্ষ্যে মক্কার মসজিদুল হারামে মক্কা-মদিনা বিষয়ক অধিদফতরের প্রেসিডেন্ট শাইখ আব্দুর রহমান সুদাইস গুরুত্বপূর্ণ কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন।

বুধবার এশার পর মসজিদুল হারামে রমজানের শেষ দশকের আগমনে গুরুত্বপূর্ণ নসিহত প্রদান করেন।

তার বক্তব্যের চুম্বুকাংশ যুগান্তর অনলাইনের পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো-

আল্লাহর প্রশংসা ও রাসুলের ওপর দরুদ পাঠ করছি। শেষ দশকের আগমনে সবার প্রতি আন্তরিক মোবারকবাদ রইলো। আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ এবং সুউচ্চ গুণাবলীর মাধ্যমে তার কাছে ফরিয়াদ করছি, তিনি যেন এই শেষ দশককে আমাদের সকলের জন্য বরকতের কারণ বানান।

আর আমাদের দিনের রোজা এবং রাতের নামাজকে কবুল করে নেন। সঙ্গে যেন লাইলাতুল কদরে ইবাদত ও তা পাওয়ার সৌভাগ্য দান করেন। যারা পূণ্যময় এই রজনীতে ঈমান ও সওয়াবের নিয়তে দাঁড়াবে, তাদের অর্ন্তভূক্ত করেন।

প্রিয় মুসলমানগণ!

রমজানের শেষ দশ দিনের মর্যাদার কথা আমাদের কারোরই অজানা নয়। এ সময়টি রাসুল (সা.) ইবাদতের জন্য নির্ধারণ করতেন, যেমনটি অন্য দিনকে করতেন না।

হজরত আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) রমজানের শেষ দশকে এতো পরিমাণ ইবাদত করতেন, যেমনটি তিনি অন্য সময় করতেন না। (মুসলিম: ১১৭৫)

অন্য এক হাদিসে হজরত আয়েশা (রাজি.) হতে বর্ণিত, যখন রমজানের শেষ দশকের আগমন হতো, রাসুল (সা.) সেসব রাত্রিগুলোতে বিনিদ্র থাকতেন, পরিবারের লোকদের ঘুম থেকে জাগিয়ে তুলতেন এবং (অধিক আমলের জন্য) শক্তভাবে কোমর বেঁধে নিতেন। (বুখারী: ২০২৪)

তাই, আমাদের জন্য অধিকতর সমীচিন হলো শেষ দশকের দিন-রাতের পুরো সময়কে কাজে লাগানো।

এসব রাতের মাঝে লাইলাতুল কদর নামে একটি মহিমন্বিত রাত রয়েছে, তা হাজারো মাস অপেক্ষা উত্তম। তাই এই রাতকে পেতে যথাযথভাবে রোজা পালন, নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, কল্যানমূলক কাজ, দান-সদকা এবং দোয়ার মাধ্যমে এ সময়গুলোকে মূল্যবান করতে হবে।

শেষ দশ দিনে আমরা যেন বেশি বেশি দোয়ায় আগ্রহী হই। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসুলকে জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! কোন রাতটি লাইলাতুল কদর আমি যদি তা বুঝতে পারি; তাহলে সে রাতে আমি কি দোয়া করব?

রাসুল (সা.) বললেন, তুমি এই দোয়া করবে, আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুওউন, তুহিব্বুল আফওয়া; ফা’ফু আন্নী’। অর্থাৎ হে আল্লাহ! নিশ্চয় আপনি ক্ষমাশীল-মহানুভব। আপনি ক্ষমা কতে ভালোবাসেন; তাই (অনুগ্রহপূবর্ক) আমাকে ক্ষমা করে দিন। (তিরমিজী: ৩৫১৩)

এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া। এই দোয়াটি অধিক পরিমাণে পাঠ করা উচিত। আর আমাদের উচিত হলো নিজেদের জন্য দোয়া করা এবং সব মুসলমানদের জন্য দোয়া করা; যাতে আমাদের উপর আপতিত এ মুসিবত বিদায় নেয়।

হে মুসলিমগণ! বরকতের এ দিনগুলোতে আমাদের উচিত হলো সময়ের প্রতি যত্মবান হওয়া। কারণ সময় হলো সংরক্ষণের বিবেচনায় অতি মূল্যবান বস্তু। আর আমরা খুব সহজেই তা বিনষ্ট করে ফেলি।

আজ সবচেয়ে প্রবঞ্চনা ও দূর্ভাগ্যের কারণ হলো, লোকজন আজ এমন কাজে নিজেদের সময় নষ্ট করে, যাতে তার কোন লাভ নেই। বিশেষ করে মোবাইল ফোন ব্যবহারে আমাদের আরো সতর্ক থাকা উচিত।

তাই আমাদের কোরআন তেলাওয়াত, জিকির, তাওবা, ইসতেগফার এবং দোয়ার প্রতি মনোনিবেশ করা দরকার।

আল্লাহর ইরশাদ, ‘(হে নবী) আর আমার বান্দারা যখন আমার ব্যাপারে আপনার কাছে জিজ্ঞেস করে, বস্তুত আমি তাদের সন্নিকটেই আছি। প্রার্থনাকারী যখন প্রার্থনা করে, তখন আমি তার প্রার্থনা কবুল করে থাকি। কাজেই আমার হুকুম মান্য করা এবং আমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা তাদের একান্ত কর্তব্য। যাতে তারা সৎ পথে আসতে পারে।’ (সূরা বাকারা: ১৮৬)

দোয়া মুমিনের মহান হাতিয়ার। বিশেষ করে বর্তমান বিশ্বে চলমান করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট সংকট হতে উত্তরণের জন্য।

এসব দিনে মসজিদুল হারামে লাখো মুসল্লি ইতেকাফের জন্য অবস্থান করতেন। বর্তমান প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে না আসতে পারলেও নিঃসন্দেহে তারা সেসব আমল ও সওয়াবের ভাগিদার হবেন।

আমি নিজেকে এবং সকলকে খোদাভীতি এবং বরকতের এই দিন-রাতগুলোতে অধিক পরিমাণে ইবাদতের অসিয়ত করছি।

এসবের ভেতর দিয়ে আশা করি আমরা লাইলাতুল কদর পাবো, ইনশাআল্লাহ এবং জাহান্নাম হতে মুক্তির পরোয়ানাও পেয়ে যাবো। পরিশেষে আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি, যেন তিনি আমাদের আমলসমূহকে কবুল করে নেন এবং লাইলাতুল কদর প্রাপ্তির সৌভাগ্য দান করেন।ঈদ সামনে রেখে দেশের সব মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনের ‘ঈদ উপহার’ হিসেবে আর্থিক সহায়তা করবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, এভাবে দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রের প্রতিটি মানুষই যেন কোনো না কোনোভাবে সহায়তা পান, সেটি নিশ্চিত করতে চান তিনি। আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনে এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এ তথ্য জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী জানান, করোনা পরিস্থিতিতে সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনীর আওতা বাড়ানোর মাধ্যমে আরও বেশি মানুষের কাছে সরকার সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তারই অংশ হিসেবে আজ ৫০ লাখ পরিবারের কাছে নগদ অর্থ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এর আগে দেশের ৬ হাজার ৯৫৯টি কওমি মাদরাসাকে ৮ কোটি ৩১ লাখ ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের সব মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনের জন্যও সহায়তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনার মধ্যে আমাদের মসজিদগুলো স্বাভাবিকভাবে চলছে না। এই রোজার মাসে আমাদের মসজিদগুলোতে অনেক মানুষ আসে। অনেক টাকা-পয়সা ওঠে। কিন্তু এবার তেমন সুযোগ হচ্ছে না। আমি খবর নিয়েছি, মসজিদ কমিটিতে যারা আছেন, বিত্তশালী যারা আছেন, তারা সহায়তা করছেন। তারপরও আমি ভেবেছি, আমার পক্ষ থেকে কিছু করা দরকার।

শেখ হসিনা বলেন, আমাদের কাছে ইমাম-মোয়াজ্জিনদের তালিকা আছে। এই রমজানে মসজিদ-মাদরাসা বন্ধ থাকায় তারা অসুবিধায় রয়েছে। ঈদের আগে তাদের আমরা সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করব। ঈদকে সামনে রেখে আমরা এই সহায়তা পৌঁছে দেবো।হায়দারাবাদে কাজ করতে গিয়ে লকডাউনের জেরে আটকে পড়েছিলেন ভারতের মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা রামু। সেখানে তার সঙ্গে ছিলেন অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ধন্তত্বা ও মেয়ে অনুরাগিনী।

তাদেরই নিয়ে হেঁটে মধ্যপ্রদেশের উদ্দেশে রওনা দেন রামু। পথে কোথাও বাস বা লরি পাননি। এতটা পথ হাঁটতে গিয়ে সমস্যায় হচ্ছিল ধন্তত্বার।

কাঠের পাটায় চাকা লাগিয়ে স্ত্রী-কন্যাকে বসিয়ে ৭০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মঙ্গলবার নিজের গ্রামে ফিরেছেন রামু।

ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, চাকা লাগানো কাঠের পাটাতনে মেয়ে অনুরাগিনীকে নিয়ে বসে আছেন ধন্তত্বা।

আর রামু একটি দড়ি দিয়ে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন তাদের। এ ভাবেই মধ্যপ্রদেশের বালাঘাট জেলার গ্রামে পৌঁছেছেন তিনি।

গ্রামে ফিরে আসার যাত্রা নিয়ে এক সংবাদমাধ্যমকে রামু বলেছেন, ‘প্রথমে মেয়েকে কোলে নিয়ে হাঁটছিলাম। কিন্তু পুরো রাস্তা হেঁটে আসা আমার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর পক্ষে সম্ভব ছিল না। আসার পথে জঙ্গল থেকে কাঠ জোগাড় করে ওই পাঠাতন বানাই। তাতেই স্ত্রীকে চাপিয়ে ফিরছিলাম।’

তেলঙ্গানা থেকে মহারাষ্ট্র হয়ে নিজের জেলায় ফেরেন রামু। পথে মহাকুমা শাসক নীতেশ ভার্গভের নেতৃত্বাধীন পুলিশদের দল দেখতে পান তাদের। তারাই খাবার ও পানীয় জল দেন রামুদের। রামুর মেয়ের জন্য চটিও কিনে দেন তারা।

এ ব্যাপারে নীতেশ ভার্গভ বলেছেন, ‘আমরা ওই পরিবারের শারীরিক পরীক্ষা করাই। তার পর বালাঘাটে গ্রামে যাওয়ার জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করি।’

ভারতে পরিযায়ী শ্রমিকদের এই ঘটনা বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। লকডাউনে শুরু হতেই তাদের দুর্দশার চিত্র দেখা গিয়েছে দেশজুড়ে। হেঁটে বাড়ি ফিরতে গিয়ে পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে প্রাণও হারিয়েছেন বহু শ্রমিক।