ঢাকা, আজ শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০

ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ২০২০-০৫-১৫ ০৯:৪৯:৫৬ || আপডেট: ২০২০-০৫-১৫ ০৯:৪৯:৫৬

ঈদ সামনে রেখে দেশের সব মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনের ‘ঈদ উপহার’ হিসেবে আর্থিক সহায়তা করবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, এভাবে দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রের প্রতিটি মানুষই যেন কোনো না কোনোভাবে সহায়তা পান, সেটি নিশ্চিত করতে চান তিনি। আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনে এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এ তথ্য জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী জানান, করোনা পরিস্থিতিতে সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনীর আওতা বাড়ানোর মাধ্যমে আরও বেশি মানুষের কাছে সরকার সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তারই অংশ হিসেবে আজ ৫০ লাখ পরিবারের কাছে নগদ অর্থ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এর আগে দেশের ৬ হাজার ৯৫৯টি কওমি মাদরাসাকে ৮ কোটি ৩১ লাখ ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের সব মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনের জন্যও সহায়তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনার মধ্যে আমাদের মসজিদগুলো স্বাভাবিকভাবে চলছে না। এই রোজার মাসে আমাদের মসজিদগুলোতে অনেক মানুষ আসে। অনেক টাকা-পয়সা ওঠে। কিন্তু এবার তেমন সুযোগ হচ্ছে না। আমি খবর নিয়েছি, মসজিদ কমিটিতে যারা আছেন, বিত্তশালী যারা আছেন, তারা সহায়তা করছেন। তারপরও আমি ভেবেছি, আমার পক্ষ থেকে কিছু করা দরকার।

শেখ হসিনা বলেন, আমাদের কাছে ইমাম-মোয়াজ্জিনদের তালিকা আছে। এই রমজানে মসজিদ-মাদরাসা বন্ধ থাকায় তারা অসুবিধায় রয়েছে। ঈদের আগে তাদের আমরা সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করব। ঈদকে সামনে রেখে আমরা এই সহায়তা পৌঁছে দেবো।ভারতীয় নাগরিকদের নিজ দেশের সেনাবাহিনীতে চাকরির সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তবে ভারতে ইহুদীবাদী রাষ্ট্র ইসরায়েলের মত সাধারণ নাগরিকদের জন্য সেনাবাহিনীতে যোগদান বাধ্যতামূলক করা হয়নি। ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো জানায়, দেশটির সেনাবাহিনীতে তিন বছরের জন্য কাজের সুযোগ পেতে যাচ্ছেন সাধারণ নাগরিকেরা। ‘ট্যুর অফ ডিউটি’ পরিকল্পনার আওতায় সাধারণ নাগরিকদের এই সুযোগ দিচ্ছে ভারতীয় সেনাবাহিনী।

এমন সিদ্ধান্তের ফলে এবার ভারতের সাধারণ মানুষও চাইলে তিন বছরের জন্য সেনাবাহিনীতে কাজ করার সুযোগ পাবেন। অফিসার-সহ বিভিন্ন পদমর্যাদায় কাজ করার সুযোগ পাবেন তারা। শুধুমাত্র সাধারণ মানুষ নন, আধাসেনা ও কেন্দ্রীয় বাহিনী থেকেও কর্মীদের ভারতীয় সেনায় যুক্ত করার চিন্তাভাবনা চলছে। সাত বছর সেনাবাহিনীতে কাজ করার পরে ফের নিজের নিজের জায়গায় ফিরে যাবেন তারা। তবে এ সিদ্ধান্ত ইজরাইয়েলের মত বাধ্যতামূলক নয়।

জানা গেছে, এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার আগে আলোচনা করছেন ভারতীয় সেনা, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী প্রধানরা। একবার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে গেলেই তা ঘোষণা করা হবে। এই সিদ্ধান্তের প্রধান উদ্দেশ্য হল মানুষের মধ্যে জাতীয়তাবোধ ও দেশপ্রেম আরো জাগিয়ে তোলা। সেইসঙ্গে ১৩ লাখ সেনা জওয়ানদের জীবন সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে আরো বেশি ওয়াকিবহাল করে তোলা।

বৃহস্পতিবার( ১৪ মে) ভারতীয় সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল অমন আনন্দ জানান, ‘সাধারণ মানুষকে সেনাবাহিনীতে যোগদান করানোর এই পদক্ষেপ সত্যিই নজিরবিহীন। প্রাথমিকভাবে ১০০ অফিসার ও ১০০০ কর্মীকে নিয়োগ করার কথা ভাবা হচ্ছে। এই প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ট্যুর অফ ডিউটি’ বা ‘থ্রি ইয়ার্স শর্ট সার্ভিস’। ভারতের যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে অনেকেই এমন আছেন, যারা সেনা জওয়ান হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার না গড়তে চাইলেও আর্মির জীবন উপভোগ করে দেখতে চান। তাদের জন্য এটা দূরন্ত এক সুযোগ।’

সেনা সূত্রে খবর, এই পদক্ষেপ নেওয়া হলে ভারতীয় সেনাবাহিনী আর্থিকভাবেও লাভবান হবে। কারণ বর্তমানে ১০ থেকে ১৪ বছরের জন্য জওয়ানদের সেনায় নিয়োগ করা হয়। কিন্তু তিন বছরের জন্য কাউকে নিয়োগ করা মানে তার কাজের সময় অনেকটা কম। ফলে গ্রাচুইটি, পেনশন ও অন্যান্য প্যাকেজ তিনি পাবেন না। তার জন্য অনেক কম খরচ হবে সেনাবাহিনীর।

খরচ কতটা কম হতে পারে, তা নিয়ে একটা তুলনামূলক আলোচনা করেও দেখা হয়েছে। এই মুহূর্তে একজন জওয়ান প্রশিক্ষণ নিয়ে সেনাবাহিনীতে ভর্তি হওয়ার পর ১৪ বছর পরে তার অবসরের মাঝে ভারতীয় মুদ্রায় ৫ কোটি ১২ লাখ টাকা খরচ হয় তার পিছনে। যদি কোনো অফিসার র‍্যাঙ্কের জওয়ান হন, তাহলে খরচ হয় ৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।

কিন্তু সেখানে একজন তিন বছরের জন্য যুক্ত হলে তার পেছনে মাত্র ৮০ থেকে ৮৫ লাখ টাকা খরচ হবে। এই প্রকল্পের আওতায় যদি প্রথমে ১০০০ জওয়ান নেওয়া হয়, তাহলে সেখানেই সেনাবাহিনীর ১১ হাজার কোটি টাকার খরচ বাঁচে।বদলির আদেশের দেড় মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও কর্মস্থল ত্যাগ না করে দায়িত্বভার হস্তান্তরে টালবাহানার অভিযোগ উঠেছে পাবনার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী একেএম বাদশা মিয়ার বিরুদ্ধে।

নিজ অনুসারী ঠিকাদার সিন্ডিকেটকে বিশেষ সুবিধা দিতে এবং নিজের কৃত অনিয়ম ঢাকতে যেকোনো মূল্যে আগামী জুন মাস পর্যন্ত পাবনায় থাকার পরিকল্পনায় নতুন যোগদান করা নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমানকেও দায়িত্ব বুঝিয়ে দেননি তিনি।

পাবনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ সূত্র জানায়, পাবনায় যোগদান করার পর থেকেই এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী একেএম বাদশা মিয়া নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।

নিজের অনুসারী একটি বিশেষ ঠিকাদারী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন, তাদের বিশেষ সুবিধা দিয়ে বড় বড় প্রকল্পের কাজ বাগিয়ে দেন।

এমনকি নীতি নৈতিকতার তোয়াক্কা না করে নিজ কার্যালয়ে এই বিতর্কিত ঠিকাদারদের সাথে নিয়ে থার্টি ফাস্ট পার্টি, বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবসসহ বিভিন্ন দিবসে ভোজসভার আয়োজনও করতেন তিনি।

সবশেষ, করোনায় ত্রাণ তহবিল গঠনের নামে ঐ ঠিকাদারি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চাঁদাবাজিতেও জড়িয়ে পড়েন তিনি।

অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িত থাকায় গত ২৫ মার্চ একেএম বাদশা মিয়াকে তার কর্মস্থল পাবনা থেকে এলজিইডি সদর দপ্তরে বদলি করা হয়। তার জায়গায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর মাদারীপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমানকে পদায়ন করা হয়।

লিখিত পত্রে এই আদেশ জনস্বার্থে এবং অবিলম্বে কার্যকরের কথা বলা হলেও, দীর্ঘ দেড় মাসেও দায়িত্ব হস্তান্তর করেননি একেএম বাদশা মিয়া।

এ বিষয়ে সদ্য পদায়ন হওয়া নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমান বলেন, সরকারি আদেশে যোগদান করার জন্য আমি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পাবনায় এসেছি। তবে, ১৪ মে তারিখ পর্যন্ত দায়িত্বভার বুঝে পাই নি। আশা করছি দুই এক দিনের মধ্যেই দায়িত্বভার বুঝিয়ে দেয়া হবে।

দায়িত্বভার বুঝিয়ে না দেয়া প্রসঙ্গে মুঠোফোনে বদলিকৃত নির্বাহী প্রকৌশলী একেএম বাদশা মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়টি নিয়ে পরে কথা বলবেন জানিয়ে ফোন কেটে দেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলজিইডি পাবনা কার্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, সম্প্রতি দাতাসংস্থার অর্থায়নে পাবনায় এলজিইডির তত্ত্বাবধানে বেশ কিছু বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পে বড় ধরণের অনিয়ম করেছেন একেএম বাদশা মিয়া ও তার অনুসারী ঠিকাদাররা। সে সব অনিয়ম ঢাকতে এবং তাদের কাজের বিল প্রদান করতেই যেকোন মূল্যে জুন মাস পর্যন্ত পাবনায় থেকে যাওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি।