ঢাকা, আজ মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২০

মোবাইলে পৌঁছে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তার টাকা

প্রকাশ: ২০২০-০৫-১৫ ০৫:২৭:২৮ || আপডেট: ২০২০-০৫-১৫ ০৫:২৭:২৮

করোনা সংকটে কর্মহীন ও প্রান্তিক হতদরিদ্র মানুষের সহায়তায় ৫০ লাখ প‌রিবারকে নগদ অর্থ সহায়তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এরইমধ্যে মানুষের মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পৌঁছাতে শুরু করেছে।

জানা গেছে, করোনা প‌রি‌স্থি‌তির কারণে মে এবং জুন-এই দুই মাস ৫০ লাখ প‌রিবার পাঁচ হাজার করে টাকা পাবে। বিকাশ, নগদ, রকেট ও শিওরক্যাশের মাধ্যমে প‌রিবারগু‌লোর কাছে টাকা পৌঁছানো হচ্ছে।

তালিকায় রয়েছেন- রিকশাচালক, ভ্যানচালক, দিনমজুর, নির্মাণশ্রমিক, কৃষিশ্রমিক, দোকানের কর্মচারী, ব্যক্তি উদ্যোগে পরিচালিত বিভিন্ন ব্যবসায় কর্মরত শ্রমিক, পোল্ট্রি খামারের শ্রমিক, বাস-ট্রাকসহ পরিবহন শ্রমিক, হকার। এছাড়া কর্মহীন ও নিম্ন আয়ের অনেক পেশার মানুষকেও রাখা হয়েছে।

ইতোমধ্যে এক হাজার ২৫৭ কোটি টাকা ছাড় করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। সহায়তার এ অর্থ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিনা খরচে প্রত্যেক পরিবারের হাতে ঈদের আগে পৌঁছে দেয়া হবে। তবে ঈদের আগেই এই কার্যক্রম সম্পন্ন করার জোর চেষ্টা করছে সরকার।

মূলত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এই উদ্যোগ নিয়েছে। বাস্তবায়স ও সহযোগিতা করবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলায় সারাদেশে সাধারণ ছুটি চলছে। এতে দেশের খেটে খাওয়া ও নিম্নবিত্ত মানুষগুলো বিপাকে পড়েছে। তবে এ পরিস্থিতি উত্তরণে নানা কার্যকরী পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করেছে সরকার। তার অংশ হিসেবে এই কর্মসূচীর ঘোষণা আগেই দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

পবিত্র কাবায় নামাজরত একজন মুসল্লি, তিনিই ক্লিনার

করোনার আতঙ্ক এখন গোটা বিশ্ব জুড়ে। বিশ্বর বেশিরভাগ দেশেই চলছে লকডাউন। এরই মধ্যে মক্কার ঐতিহাসিক মসজিদুল হারামের পবিত্র কাবা শরিফে চত্বরে চলাচলে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এবার এই কাবা শরিফে নামাজরত একজন ক্লিনারের চিত্রকর্ম ভাইরাল হয়েছে।

কাবা শরিফে হাটু গেড়ে বসে আছে ওই পরিষ্কার কর্মী। চারিদিকে শূন্যতা ও স্থবিরতা। এমন একটি চিত্রকর্ম করোনার সময়ে মসজিদের পরিবেশকে তুলে ধরেছে। এই চিত্রটি করোনার সংক্রমণ থেকে মানুষকে দূরে রাখার জন্য মসজিদ বন্ধ করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তকে প্রতিফলিত করে।

সৌদি চিত্রশিল্পী নাবিল আবুলযাদায়েল ছবিটি তৈরি করেছেন যার নাম দেওয়া হয়েছে ইসজদ ওয়া ইকতারেব। এ ছবি বাস্তব চিত্রকে তুলে ধরেছে বলে দাবি করেছেন চিত্রশিল্পী। তিনি বলেন এই ছবিটি আমার জন্য অনুপ্রেরণা, এ এক অভূতূপুর্ব সৃষ্টি।

আমার সৌভাগ্য হয়নি মসজিদ আল হারামে যাওয়ার। গেল মাসে বন্ধ করা হয় মসজিদের সকল কার্যক্রম। তবে পরিষ্কারকর্মী যারা আছে তারা দিনরাত আল্লাহর সেবা করছে । এই ছবি এবং ছবির পিছনের ঘটনার প্রশংসা করেছেন মুসলিম জাতি।

কোরআন ও হাদিসের মাঝেই আল্লাহ পাক ও তার মাহবুব (সা.) সুসংবাদ দিয়েছেন ওই মানুষের ব্যাপারে যারা প্রতিকূল মুহূর্তে, বৈরী পরিবেশে মোটকথা সর্বাবস্থায় ধৈর্য ধারণ করে।ধৈর্যকে নিজ জীবনের প্রতিটি সেকেন্ডে অলংকার হিসেবে ব্যবহার করে। এরা আল্লাহতায়ালার কাছে শ্রেষ্ঠ মানুষের মর্যাদা পায়। শ্রেষ্ঠত্বের মানদ’ণ্ডে উত্তীর্ণ হয়ে মাথায় পরে নানাবিধ সুসংবাদের মুকুট।

আল্লাহর পক্ষ থেকে পুরষ্কার : আল্লাহতায়ালা ধৈর্যশীলদের জন্য আল কোরআনে সুসংবাদের ডালি সাজিয়েছেন।

১. হে ঈমানদারগণ! তোমরা ধৈর্য ও নামাজ দ্বারা সাহায্য প্রার্থনা কর, নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন। (সুরা বাকারা, আয়াত নং ১৫৩) ২. এবং নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে ভ’য়, ক্ষু’ধা, ধন, প্রাণ এবং ফল-ফসলের দ্বারা পরিক্ষা করব; এবং ওইসব ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ প্রদান কর। যাদের ওপর কোন বি’পদ নিপ’তিত হলে তারা বলে, নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং অবশ্যই আমরা তার দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী। এদের ওপর তাদের রবের পক্ষ হতে শান্তি ও করুনা বর্ষিত হবে এবং এরাই সুপথগামী। (সুরা বাকারা, আয়াত নং ১৫৫-৫৭)

ধৈর্যের আলোচনা আসলেই হযরত আইয়ুব (আ.) এর ঘ’টনা সামনে চলে আসে। রাজকীয় জীবন ছিল হযরত আইয়ুব (আ.) এর। আর আল্লাহ পাক যখন তার পরীক্ষা নিলেন তখন তার অবস্থা এমন পর্যায়ে গিয়ে উপনীত হল যে, জীবন উৎসর্গকারিনী এক গুণবতী, ধৈর্যশীলা স্ত্রী বিবি রহিমা ছাড়া আর কেউ তার স’ঙ্গ দিল না।

লোকা’লয়ের আ’শ্রয় হা’রিয়ে বনে হল তার ঠিকানা। দীর্ঘ আঠারো বছর যাবত পোকা মাকড় তাকে কু’রে করে খেতে থাকল। তবে আশ্চর্যের বিষয় হল, লম্বা এ সময়ে এক সেকেন্ডের জন্য অভি’যোগ তো দুরের কথা অনুযোগের সুর পর্যন্ত আনার কল্পনা করেননি; অথচ তখনও তিনি নবি এবং জিবরাঈল আলাইহিসসালাম তার কাছে নিয়মত যাতায়াত করেন। ধৈর্যের এমন কোন পথ নেই যে পথে তিনি হাটেননি! কঠিন এ পরীক্ষায় আল্লাহর রহমতে ধৈর্যের মাধ্যমে তিনি উত্তীর্ণ হলেন।

পবিত্র কোরআনে একাধিকবার আল্লাহ তাকে উল্লেখ করে কেয়ামত পর্যন্ত জীব’ন্ত রাখলেন। ধৈর্য কেমন ধ’রতে হয়, ধৈর্যের রূ’প কেমন হয় তার সবটাই দেখালেন হযরত আইয়ুব (আ.)।তাঁর সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, আমি তাকে পেলাম ধৈর্যশীল। কত উত্তম বান্দা সে! সে ছিল আমার অভিমুখী। (সুরা সোয়াদ, আয়াত নং ৪৪)

সুবহানাল্লাহ! ধৈর্যের জন্য কি বিষ্ময়কর স্বীকৃতি!