ঢাকা, আজ শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০

করোনা কখনোই নির্মূল হবে না: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

প্রকাশ: ২০২০-০৫-১৪ ০৯:৫৮:৩৮ || আপডেট: ২০২০-০৫-১৪ ০৯:৫৮:৩৮

এইচআইভির মতো করোনাভাইরাসও একটি আঞ্চলিক কিংবা কোনো গোষ্ঠীর লোকজনের মধ্যে একটি প্রচলিত রোগ হিসেবে থেকে যেতে পারে। কাজেই রোগটির প্রাদুর্ভাব কতদিন থাকবে তা নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করা যাবে না বলে হুশিয়ারি দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

তবে কোভিড-১৯ রোগটি প্রতিরোধে ব্যাপকভিত্তিক উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জেনেভাভিত্তিক সংস্থাটির জরুরি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ মাইক রায়ান।- খবর রয়টার্সের

তিনি বলেন, জনগোষ্ঠীর মধ্যে এটি আরেকটি সাধারণ ভাইরাস হিসেবে থেকে যেতে পারে, যেটি কখনোই পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে না। এই বিষয়টি আলোচনার টেবিলে তোলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এই বিশেষজ্ঞ বলেন, এটা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ যে আমরা বাস্তববাদী এবং কাজেই কখন রোগটি সম্পূর্ণভাবে বিনাশ হয়ে যাবে, তা নিয়ে কেউ ভবিষ্যদ্বাণী দিতে পারে বলে আমি মনে করি না।

‘ভাইরাসটির মধ্যে এমন কোনো সম্ভাবনা নেই বলে আমি মনে করি, এমন কোনো তারিখও নেই। এটি একটি দীর্ঘ সমস্যা হিসেবে দেখা দিতে পারে কিংবা নাও হতে পারে।’

মাইক রায়ান বলেন, রোগটি কীভাবে সামাল দেবে, তা নিয়ে বিশ্বের এক ধরনের সক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু একটি টিকা উদ্ভাবন হলেও ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক উদ্যোগ নিতে হবে। যেটাকে চন্দ্রাভিযানের মহাযজ্ঞের সঙ্গে তুলনা করেছেন তিনি।

বিশ্বে এখন পর্যন্ত শতাধিক টিকা উদ্ভাবনের কাজ চলছে। যার মধ্যে কয়েকটির ক্লিনিক্যাল পরীক্ষাও হয়েছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা করোনার প্রতিরোধে সক্ষম টিকা উদ্ভাবনের জটিলতার দিকে বেশি জোর দিচ্ছেন।

রায়ান বলেন, হামের মতো অন্যান্য রোগের টিকা থাকলেও তা সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত হয়ে যায়নি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেবরিয়াসুস বলেন, গতিপথটি এখন আমাদের হাতে। এটা এখন সবার কাজ। বৈশ্বিক মহামারী বন্ধে আমাদের সবার অবদান রাখা উচিত।

রায়ানের মতে, ঝুঁকির খেসারত কমিয়ে আনতে ভাইরাসের ওপর উল্লেখযোগ্য নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে। জাতীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্তরে উচ্চ ঝুঁকি থাকার বিষয়েও তিনি সতর্ক করে দেন তিনি।

রয়টার্সের হিসাবে, বিশ্বজুড়ে ৪৩ লাখ লোক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। যাদের মধ্যে দুই লাখ ৯১ হাজার জনের মৃত্যু হয়েছে।

কাজেই ভাইরাসটি নিয়ন্ত্রণ করে কীভাবে অর্থনীতিকে সচল করা যায়, তা নিয়েও বিশ্বের সরকারগুলোর মধ্যে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।

মহামারীর কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া সীমান্ত ধীরে ধীরে খুলে দিতে বুধবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন জোর দিয়েছে। ইইউ বলছে, লোকজনকে নিরাপদ রেখে গ্রীষ্মকালীন পর্যটন মৌসুম রক্ষা করতে এতে খুব বেশি বিলম্ব হবে না।

কিন্তু জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন প্রাদুর্ভাব এড়াতে চরম সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। আর রায়ান বলেন, বিমান ভ্রমণে বিধিনিষেধ শিথিল করে দেয়ার চেয়ে স্থলসীমান্ত খুলে দেয়ার ঝুঁকি কম।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহামারী বিশেষজ্ঞ মারিয়া ভ্যান কেরকভ বলেন, আমাদের ধরে নিতে হবে যে এই মহামারীর শেষ দেখতে কিছুটা সময় লাগবে।পাওনা টাকা না পেয়ে করোনা সংক্রমণ ঘটাতে দেনাদারকে জাপটে ধরলেন করোনা রোগী। উত্তেজিত কণ্ঠে বললেন, করোনায় আমিও মরব, তুইও মর।

মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজার শহরতলীর লিংকরোড বাস স্টেশনে এমন ঘটনাই ঘটল।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান টিপু সুলতান জানান, তিন দিন আগে ঝিলংজা ইউনিয়নের পশ্চিম মুকতারকুল গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলমের (৩২) শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। কিন্তু তিনি লকডাউন না মেনে নিয়মিতই মোটরসাইকেল নিয়ে চলাচল করছিলেন। যা এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি করে।

চেয়ারম্যান টিপু সুলতান জানান, মঙ্গলবার লিংকরোড ষ্টেশনের ব্যবসায়ী সালামতের কাছে পাওনা টাকা চাইতে আসেন জাহাঙ্গীর। এ সময় টাকা আদায়ের কৌশল হিসাবে জাহাঙ্গীর নিজেই উত্তেজিত হয়ে সালামতকে জাপটে ধরেন ও হাতাহাতিতে লিপ্ত হন।

কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ উল্লাহ মারুফ জানান, শুনেছি এক করোনা রোগী লকডাউন অমান্য করে বাস স্টেশনে এসে লোকজনের সঙ্গে ঝগড়াঝাটি করেছেন। রাতেই তাকে রামু আইসোলেশন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

বিষয়টি শুনেছেন বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ খায়রুজ্জামান।প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সরকার শুরু থেকেই সতর্ক নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি করোনা নিয়ে সরকারের মন্ত্রীদের মন্তব্যের কড়া সমালোচনাও করেছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ফরেন পলিসিতে ‘স্বামী-স্ত্রীর কূটনীতি’ তত্ত্বের জনক পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে মোমেন আগেই বলে দিয়েছেন– ‘করোনা মারাত্মক রোগ নয়; এটি সর্দি-জ্বরের মতো’।

বুধবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

রিজভী বলেন, সরকারের দেয়া তথ্যমতে, বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম রোগী শনাক্ত হয়েছে ৮ মার্চ। করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পরও কি সরকারের কোনো বোধোদয় হয়েছিল? করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে চলতি বছরের শুরু থেকেই যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন বাংলাদেশের আদৌ কোনো প্রস্তুতি ছিল কিনা এই প্রশ্নটি এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। কারণ আমরা দেখেছি– স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতা সৃষ্টির জন্য বছরব্যাপী সরকার তথা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি পরিকল্পনা তৈরি করেছিল। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য গত ১৬ মার্চ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে একটি চিঠি ইস্যু করে ১৮ মার্চ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে একটি বৈঠক আহ্বান করা হয়। বৈঠকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিটি বিভাগের প্রধান এবং রেডিও ও টেলিভিশনের ডিজিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। ১৬ মার্চ ইস্যু করা ওই চিঠিতে বৈঠকের আলোচ্য বিষয় ছিল– যক্ষ্মা, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, নিরাপদ মাতৃত্ব ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা, অল্টারনেটিভ কেয়ার প্রচারণাসহ নানা বিষয়। প্রশ্ন হলো– ১৮ মার্চে অনুষ্ঠিত খোদ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের মিটিংয়ে এতসব বিষয় আলোচনার জন্য স্থান পেলেও করোনাভাইরাস পরিস্থিতি কেন আলোচনার জন্য স্থান পেল না?

“অথচ আমরা শুরু থেকেই সরকারকে দেশে দেশে করোনাভাইরাসের তাণ্ডব সম্পর্কে সতর্ক করে আসছিলাম। প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য আহ্বান জানাচ্ছিলাম। জনগণকে সচেতন করছিলাম। কী কী করা উচিত এবং উচিত নয়, সে পরামর্শও দেয়া হয়েছে। অথচ দেখলাম ভিন্নচিত্র। ২০ মার্চের প্রাত্যহিক পত্রিকাগুলোতে দেখবেন, নিশিরাতের সরকারের তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদ বলেছেন– ‘বিএনপি করোনা সম্পর্কে গুজব ছড়ায়’। ২১ মার্চের পত্রিকায় ওবায়দুল কাদের বলেছেন– ‘আমরা করোনার চেয়েও শক্তিশালী’। আর ফরেন পলিসিতে ‘স্বামী-স্ত্রীর কূটনীতি’ তত্ত্বের জনক পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন আগেই বলে দিয়েছেন– ‘করোনা মারাত্মক রোগ নয়; এটি সর্দি-জ্বরের মতো’। করোনাঝুঁকির সময় এই সরকার আতশবাজির আলোকোৎসব করল, ভোট করল, কোনো কোনো মন্ত্রী খুব কনফিডেন্টলি বললেন– ‘করোনা এদিকে আসবে না। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বললেন– ‘চীনের চেয়ে বড় করোনা হাসপাতাল বানাব’। এক মন্ত্রী বললেন– দুনিয়ার যে কোনো দেশের তুলনায় আমরাই সবচেয়ে ভালো প্রস্তুত”-বলেন রিজভী।

মন্ত্রীদের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, বিশ্বকে থমকে দেয়া মহামারী করোনাভাইরাসের মতো এমন ভয়াল বিপজ্জনক ঘাতক ব্যাধি নিয়ে জনবিচ্ছিন্ন এই সরকার এবং তাদের মন্ত্রীদের বক্তব্য মন্তব্যের ধরন দেখলে মনে হয় তারা এটিকেও ‘গুজব আর ষড়যন্ত্র’ বলে উড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন। এই মে মাসেই আটক করা হয়েছে আট সাংবাদিককে। আওয়ামী লীগ মনে করেছিল, জনগণকে ডাণ্ডা মেরে ঠাণ্ডা রেখে কিংবা জনগণের বিরুদ্ধে র্যাব-পুলিশ লেলিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলা করবে। তবে এতদিন পরে এসে অবশেষে ওবায়দুল কাদেররা মনে হয় পরিস্থিতির ভয়াবহতা একটু আঁচ করতে পেরেছেন। গতকাল ওবায়দুল কাদের স্বীকার করেছেন, ‘দেশের করোনা পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। যেভাবে ক্রমশ বেড়ে চলছে, আক্রান্তের সংখ্যা তাতে সামনের দিকে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার ইঙ্গিত পাচ্ছি।’ তারা যে করোনার চেয়েও শক্তিশালী, তা হলে এখন সেই শক্তি কোথায় গেল? এখন কেন তারা ঘরের ভেতর বসে শুধু অসত্য ও বিভ্রান্তির ধারা বিবরণী দিচ্ছেন?

বিএনপির এই নেতা বলেন, কোভিড-১৯ ভাইরাসে গোটা দেশ এখন বিপর্যস্ত। লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ আর মৃত্যুর হার। মাত্র দুই মাসেই ‘এশিয়ার হটস্পটে’ পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। জনতত্ত্ব-ঘনবসতি ও আক্রান্তের হার হিসাবে সংক্রমণের এ সূচক ভয়ঙ্করভাবেই স্পষ্ট। আক্রান্তের হিসাবে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত-পাকিস্তানের পেছনে থাকলেও সংক্রমণ হারে এশিয়ার অর্ধশতাধিক দেশের শীর্ষে এখন বাংলাদেশ। আমরা এক অচিন্তনীয় দুর্দিন পার করছি। মানুষের প্রতিটি মুহূর্ত কাটছে এক অজানা ভয় আর আতঙ্কে। একদিকে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের ভয়, অন্যদিকে বেশুমার পরিবারে খাদ্যাভাব। চলছে নীরব দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি। দেশে প্রতিদিনই বেড়ে চলছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। আরও অধিকসংখ্যক মানুষকে টেস্টের আওতায় আনা গেলে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেড়ে যাবে এমনটিই মনে করেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

এই সংকটে বিএনপি জনগণের পাশে আছে জানিয়ে রিজভী বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে শুরু করে সারা দেশে সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা গত একযুগ ধরে ক্ষমতাসীনদের জেল-জুলুম হয়রানি ও নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার। তার পরও জাতির এই সংকটময় মুহুর্তে জনগণের দল হিসেবে বিএনপি বসে নেই। ‘সতর্কতা-সহায়তা ও মানবিকতা’– এ চেতনায় দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আহ্বানে সারা দেশে চলছে বিএনপির মানবিক সহায়তা কর্মসূচি। তবে জনবিচ্ছিন্ন সরকার বিএনপির এই ইতিবাচক কাজ সহ্য করতে পারছে না। কোথাও কোথাও আমাদের যেমন ত্রাণ বিতরণে বাধা দেয়া হচ্ছে, তেমনইভাবে আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হচ্ছে, তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। অন্যদিকে নিরাপদ স্থানে বসে গণমাধ্যমে সরকারের মন্ত্রী ও তাদের নেতারা বিএনপির এই মহতী উদ্যোগের বিরুদ্ধে উপহাস ও তাচ্ছিল্য করে যাচ্ছেন।