ঢাকা, আজ মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০

করোনা কোন ভ’য়ানক রোগ নয়, বাংলাদেশে তেমনভাবে মৃ’ত্যু ঘটাচ্ছে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ২০২০-০৫-১৪ ০৯:৩৬:৩৮ || আপডেট: ২০২০-০৫-১৪ ০৯:৩৬:৩৮

নিউজ ডেস্ক : স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, আপনারা জানেন অনেক রোগ আছে, যে রোগে অনেক লোক মৃ’ত্যুবরণ করেন। কিন্তু পারতপক্ষে এই রোগটি, এই ভাইরাসটি; আমি মনে করি না এইভাবে কোনো ভ’য়ানক রোগ। করোনাভাইরাস বাংলাদেশে তেমনভাবে মৃ’ত্যু ঘটাচ্ছে না।

আজ বুধবার ঢাকার মহাখালীর বিসিপিএস মিলনায়তনে নতুন চিকিৎসক ও নার্সদের যোগদান অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। এসময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের অভিজ্ঞতায় আমরা দেখেছি, করোনায় প্রায় ৮০ শতাংশ রোগী এমনিতেই ভালো হয়ে যায়। অনেকের মধ্যে কোনো লক্ষণও দেখা যায় না। এই রোগে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়। স্বাভাবিক চিকিৎসাতেই তারা ভালো হয়ে যায়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সদ্য যোগদানকৃত চিকিৎসকদের উদ্দেশে বলেন, কভিডের কারণেই আপনাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সেই অর্থে এই কভিড আপনাদের ভাগ্যই খুলে দিয়েছে। কাজেই চিকিৎসা ক্ষেত্রে আক্রা’ন্ত কোনো ব্যক্তির স্বাস্থ্যসেবায় পিছপা হবেন না। আক্রা’ন্ত ব্যক্তিকে নিজ পরিবারের একজন সদস্য ভেবে সেবা দেবেন।

করোনায় বাংলাদেশে এই পর্যন্ত প্রায় ১৮ হাজার রোগী শনাক্ত হয়েছে, এর মধ্যে মা’রা গেছে ২৬৯ জন। বাংলাদেশে মোট আক্রা’ন্তের মধ্যে ১ দশমিক ৫ শতাংশ মা’রা গেছেন। অন্য অনেক দেশের তুলনায় এই হার বেশ কম। আক্রা’ন্তদের মধ্যে ফ্রান্সে ১৫ শতাংশ, যুক্তরাজ্য ও ইতালিতে ১৪ শতাংশ, স্পেনে ১১ শতাংশ, বেলজিয়ামে ১৭ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্রে ৬ শতাংশ, ভারতে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ, পাকিস্তানে ২ দশমিক ১ শতাংশের মৃ’ত্যু ঘটেছে।-কালের কণ্ঠনিউজ ডেস্ক : অনেক মানুষ আছেন, যারা নিজের জীবন বাজি রেখে নিজের সাধ্যমত চেষ্টা করেন মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়াতে। এ মুহূর্তেও আমাদের সমাজের অনেক মানুষ তাদের সাধ্যমত সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন বিপদগ্রস্ত মানুষের জন্য। খাদ্যসামগ্রী, ওষুধ-পথ্য নিয়ে হাসিমুখে হাজির হচ্ছেন সাধারণ মানুষের দরজায়। সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সজল কুমার কানুর একটি ঘটনা সত্যি আমাদের জন্য মানবতার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে।

৮ এপ্রিল, রাত তখন ১০টা পেরিয়ে গেছে। হঠাৎ সজল কুমার কানুর মোবাইলে একটি ফোন আসে। না, কোথাও কোনো খু’ন, হ’ত্যা, ডা’কাতি বা ধ’র্ষণ হয়নি। তারই থানার একেবারেই দুর্গম এলাকা কেচুটিলা গ্রাম। সেখানে এক অসহায় মা তার তিন সন্তান নিয়ে সারাদিন না খেয়ে আছেন। এ কথা শুনে ওসি কানুর ঘরে যা রান্না করা ছিল, তার সথে মেসের রান্না করা খাবার দুটি টিফিন ক্যারিয়ারে ভরে সাথে এসআই রাজীব, এএসআই সিরাজ ও মাহফুজকে নিয়ে মোটরবাইকে করে ছুটলেন প্রত্যন্ত এলাকা কেচুটিলার দিকে।

দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে যখন কেচুটিলায় সেই মায়ের দরজার সামনে তারা দাঁড়ালেন, তখন ঘড়ির কাটা বারোটা ছুঁইছুঁই। মাটির ঘরের টিনের দরজায় কড়া নাড়তেই ভেতর থেকে পরিচয় জানতে চেয়ে পুলিশ শুনে ভ’ড়কে যান। তারপরও ভ’য়-ভী’তি নিয়ে দরজা খুলে দেখেন, দুই হাতে দুই টিফিন ক্যারিয়ার নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন সজল কুমার কানু। ঘরে ঢুকে ওসি সজল কুমার কানু ক্ষু’ধার য’ন্ত্রণায় কাতর হয়ে ঘুমিয়ে যাওয়া সন্তানদের ঘুম থেকে জাগিয়ে তোলেন। এরপর নিজ হাতে খাইয়ে মায়ের হাতে নগদ পাঁচশ টাকা দিয়ে ভোর রাতের দিকে ঘরে ফেরেন।

তাই মনে হয়, আজও আমাদের এ সমাজ তথা রাষ্ট্রে যেমন গরিব মানুষের মুখের অন্ন চুরি করে নিজের পকেট ভারি করার মতো অনেক মানুষ আছে। তেমনই আছেন সজল কুমার কানুদের মতো অনেক মানবদরদী কর্মকর্তা, নেতা ও জনপ্রতিনিধি। আজও আমাদের সমাজ, রাষ্ট্র তথা বিশ্ব দাঁড়িয়ে আছে মানবতার ওপর ভর করেই। মানবতা আজও ম’রে যায়নি। দা’ফন হয়ে যায়নি। চিতার আ’গু’নেও পু’ড়ে যায়নি আমাদের মানবতা।প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সরকার শুরু থেকেই সতর্ক নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি করোনা নিয়ে সরকারের মন্ত্রীদের মন্তব্যের কড়া সমালোচনাও করেছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ফরেন পলিসিতে ‘স্বামী-স্ত্রীর কূটনীতি’ তত্ত্বের জনক পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে মোমেন আগেই বলে দিয়েছেন– ‘করোনা মারাত্মক রোগ নয়; এটি সর্দি-জ্বরের মতো’।

বুধবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

রিজভী বলেন, সরকারের দেয়া তথ্যমতে, বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম রোগী শনাক্ত হয়েছে ৮ মার্চ। করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পরও কি সরকারের কোনো বোধোদয় হয়েছিল? করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে চলতি বছরের শুরু থেকেই যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন বাংলাদেশের আদৌ কোনো প্রস্তুতি ছিল কিনা এই প্রশ্নটি এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। কারণ আমরা দেখেছি– স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতা সৃষ্টির জন্য বছরব্যাপী সরকার তথা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি পরিকল্পনা তৈরি করেছিল। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য গত ১৬ মার্চ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে একটি চিঠি ইস্যু করে ১৮ মার্চ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে একটি বৈঠক আহ্বান করা হয়। বৈঠকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিটি বিভাগের প্রধান এবং রেডিও ও টেলিভিশনের ডিজিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। ১৬ মার্চ ইস্যু করা ওই চিঠিতে বৈঠকের আলোচ্য বিষয় ছিল– যক্ষ্মা, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, নিরাপদ মাতৃত্ব ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা, অল্টারনেটিভ কেয়ার প্রচারণাসহ নানা বিষয়। প্রশ্ন হলো– ১৮ মার্চে অনুষ্ঠিত খোদ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের মিটিংয়ে এতসব বিষয় আলোচনার জন্য স্থান পেলেও করোনাভাইরাস পরিস্থিতি কেন আলোচনার জন্য স্থান পেল না?

“অথচ আমরা শুরু থেকেই সরকারকে দেশে দেশে করোনাভাইরাসের তাণ্ডব সম্পর্কে সতর্ক করে আসছিলাম। প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য আহ্বান জানাচ্ছিলাম। জনগণকে সচেতন করছিলাম। কী কী করা উচিত এবং উচিত নয়, সে পরামর্শও দেয়া হয়েছে। অথচ দেখলাম ভিন্নচিত্র। ২০ মার্চের প্রাত্যহিক পত্রিকাগুলোতে দেখবেন, নিশিরাতের সরকারের তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদ বলেছেন– ‘বিএনপি করোনা সম্পর্কে গুজব ছড়ায়’। ২১ মার্চের পত্রিকায় ওবায়দুল কাদের বলেছেন– ‘আমরা করোনার চেয়েও শক্তিশালী’। আর ফরেন পলিসিতে ‘স্বামী-স্ত্রীর কূটনীতি’ তত্ত্বের জনক পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন আগেই বলে দিয়েছেন– ‘করোনা মারাত্মক রোগ নয়; এটি সর্দি-জ্বরের মতো’। করোনাঝুঁকির সময় এই সরকার আতশবাজির আলোকোৎসব করল, ভোট করল, কোনো কোনো মন্ত্রী খুব কনফিডেন্টলি বললেন– ‘করোনা এদিকে আসবে না। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বললেন– ‘চীনের চেয়ে বড় করোনা হাসপাতাল বানাব’। এক মন্ত্রী বললেন– দুনিয়ার যে কোনো দেশের তুলনায় আমরাই সবচেয়ে ভালো প্রস্তুত”-বলেন রিজভী।

মন্ত্রীদের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, বিশ্বকে থমকে দেয়া মহামারী করোনাভাইরাসের মতো এমন ভয়াল বিপজ্জনক ঘাতক ব্যাধি নিয়ে জনবিচ্ছিন্ন এই সরকার এবং তাদের মন্ত্রীদের বক্তব্য মন্তব্যের ধরন দেখলে মনে হয় তারা এটিকেও ‘গুজব আর ষড়যন্ত্র’ বলে উড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন। এই মে মাসেই আটক করা হয়েছে আট সাংবাদিককে। আওয়ামী লীগ মনে করেছিল, জনগণকে ডাণ্ডা মেরে ঠাণ্ডা রেখে কিংবা জনগণের বিরুদ্ধে র্যাব-পুলিশ লেলিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলা করবে। তবে এতদিন পরে এসে অবশেষে ওবায়দুল কাদেররা মনে হয় পরিস্থিতির ভয়াবহতা একটু আঁচ করতে পেরেছেন। গতকাল ওবায়দুল কাদের স্বীকার করেছেন, ‘দেশের করোনা পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। যেভাবে ক্রমশ বেড়ে চলছে, আক্রান্তের সংখ্যা তাতে সামনের দিকে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার ইঙ্গিত পাচ্ছি।’ তারা যে করোনার চেয়েও শক্তিশালী, তা হলে এখন সেই শক্তি কোথায় গেল? এখন কেন তারা ঘরের ভেতর বসে শুধু অসত্য ও বিভ্রান্তির ধারা বিবরণী দিচ্ছেন?

বিএনপির এই নেতা বলেন, কোভিড-১৯ ভাইরাসে গোটা দেশ এখন বিপর্যস্ত। লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ আর মৃত্যুর হার। মাত্র দুই মাসেই ‘এশিয়ার হটস্পটে’ পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। জনতত্ত্ব-ঘনবসতি ও আক্রান্তের হার হিসাবে সংক্রমণের এ সূচক ভয়ঙ্করভাবেই স্পষ্ট। আক্রান্তের হিসাবে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত-পাকিস্তানের পেছনে থাকলেও সংক্রমণ হারে এশিয়ার অর্ধশতাধিক দেশের শীর্ষে এখন বাংলাদেশ। আমরা এক অচিন্তনীয় দুর্দিন পার করছি। মানুষের প্রতিটি মুহূর্ত কাটছে এক অজানা ভয় আর আতঙ্কে। একদিকে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের ভয়, অন্যদিকে বেশুমার পরিবারে খাদ্যাভাব। চলছে নীরব দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি। দেশে প্রতিদিনই বেড়ে চলছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। আরও অধিকসংখ্যক মানুষকে টেস্টের আওতায় আনা গেলে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেড়ে যাবে এমনটিই মনে করেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

এই সংকটে বিএনপি জনগণের পাশে আছে জানিয়ে রিজভী বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে শুরু করে সারা দেশে সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা গত একযুগ ধরে ক্ষমতাসীনদের জেল-জুলুম হয়রানি ও নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার। তার পরও জাতির এই সংকটময় মুহুর্তে জনগণের দল হিসেবে বিএনপি বসে নেই। ‘সতর্কতা-সহায়তা ও মানবিকতা’– এ চেতনায় দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আহ্বানে সারা দেশে চলছে বিএনপির মানবিক সহায়তা কর্মসূচি। তবে জনবিচ্ছিন্ন সরকার বিএনপির এই ইতিবাচক কাজ সহ্য করতে পারছে না। কোথাও কোথাও আমাদের যেমন ত্রাণ বিতরণে বাধা দেয়া হচ্ছে, তেমনইভাবে আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হচ্ছে, তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। অন্যদিকে নিরাপদ স্থানে বসে গণমাধ্যমে সরকারের মন্ত্রী ও তাদের নে