ঢাকা, আজ রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

সেনাবাহিনীর ক্ষেত্রে এটা বিরল ঘটনা, অ’পরাধ স্বীকার মিয়ানমারের

প্রকাশ: ২০২০-০৫-১৪ ০৯:৩২:২৮ || আপডেট: ২০২০-০৫-১৪ ০৯:৩২:২৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী কর্তৃক রাখাইন রাজ্যে ব’ন্দীদের উপর নি’র্যাতন চালানোর বিসয়টি বরাবরই অস্বীকার করা হয়ে থাকে। সেনাবাহিনী কর্তৃক ব’ন্দিদের চোখ বেঁ’ধে নি’র্যাতন করার একটি ভি’ডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দায় স্বীকার করেছে মিয়ানমার। দেশটির সেনাবাহিনীর ক্ষেত্রে এটা বিরল ঘটনা। খবর আল জাজিরার।

রবিবার ফাঁস হওয়া ভি’ডিওতে দেখা যাচ্ছে যে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে পাঁচ জন বন্দিকে সেনা পোশাক পরা পুরুষরা হাতকড়া ও চোখ বাঁ’ধা অবস্থায় মাথায় ঘু’ষি মা’রছে এবং লা’থি মা’রছে। আজ বুধবার দেশটির সেনাবাহিনীর ওয়েব সাইটে বলা হয়েছে, আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ থাকার অ’ভিযোগে আটক পাঁচ জনকে ২১ এপ্রিল রাখাইন রাজ্যে পাঠানো হয়। সেখানেই তাদেরকে মা’রধ’র করে সাদা পোশাকের নিরাপত্তা কর্মীরা।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী সাধারণত প্রমাণ হওয়ার পরও তাদের অ’পরাধের কথা স্বীকার করে না। কিন্তু এবার এর ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা গেছে। সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ব’ন্দিদের জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী আচরণ করা হয়নি। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তারা জানিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভি’ডিওতে দেখা গেছে, মিয়ানমারের নিরাপত্তাকর্মীরা চোখ বাঁ’ধা ও হাতক’ড়া পরানো ব্যক্তিদের মাথায় নির্ম’মভাবে আঘা’ত করছে। একজন মাথায় ঘু’ষি দিচ্ছে, আরেক জন লা’থি মা’রছে। তবে আ’টক ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, আরাকান আর্মির সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। অন্যায়ভাবে তাদের আট’ক করাা হয়েছেপাওনা টাকা না পেয়ে করোনা সংক্রমণ ঘটাতে দেনাদারকে জাপটে ধরলেন করোনা রোগী। উত্তেজিত কণ্ঠে বললেন, করোনায় আমিও মরব, তুইও মর।

মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজার শহরতলীর লিংকরোড বাস স্টেশনে এমন ঘটনাই ঘটল।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান টিপু সুলতান জানান, তিন দিন আগে ঝিলংজা ইউনিয়নের পশ্চিম মুকতারকুল গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলমের (৩২) শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। কিন্তু তিনি লকডাউন না মেনে নিয়মিতই মোটরসাইকেল নিয়ে চলাচল করছিলেন। যা এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি করে।

চেয়ারম্যান টিপু সুলতান জানান, মঙ্গলবার লিংকরোড ষ্টেশনের ব্যবসায়ী সালামতের কাছে পাওনা টাকা চাইতে আসেন জাহাঙ্গীর। এ সময় টাকা আদায়ের কৌশল হিসাবে জাহাঙ্গীর নিজেই উত্তেজিত হয়ে সালামতকে জাপটে ধরেন ও হাতাহাতিতে লিপ্ত হন।

কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ উল্লাহ মারুফ জানান, শুনেছি এক করোনা রোগী লকডাউন অমান্য করে বাস স্টেশনে এসে লোকজনের সঙ্গে ঝগড়াঝাটি করেছেন। রাতেই তাকে রামু আইসোলেশন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

বিষয়টি শুনেছেন বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ খায়রুজ্জামানএইচআইভির মতো করোনাভাইরাসও একটি আঞ্চলিক কিংবা কোনো গোষ্ঠীর লোকজনের মধ্যে একটি প্রচলিত রোগ হিসেবে থেকে যেতে পারে। কাজেই রোগটির প্রাদুর্ভাব কতদিন থাকবে তা নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করা যাবে না বলে হুশিয়ারি দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

তবে কোভিড-১৯ রোগটি প্রতিরোধে ব্যাপকভিত্তিক উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জেনেভাভিত্তিক সংস্থাটির জরুরি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ মাইক রায়ান।- খবর রয়টার্সের

তিনি বলেন, জনগোষ্ঠীর মধ্যে এটি আরেকটি সাধারণ ভাইরাস হিসেবে থেকে যেতে পারে, যেটি কখনোই পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে না। এই বিষয়টি আলোচনার টেবিলে তোলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এই বিশেষজ্ঞ বলেন, এটা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ যে আমরা বাস্তববাদী এবং কাজেই কখন রোগটি সম্পূর্ণভাবে বিনাশ হয়ে যাবে, তা নিয়ে কেউ ভবিষ্যদ্বাণী দিতে পারে বলে আমি মনে করি না।

‘ভাইরাসটির মধ্যে এমন কোনো সম্ভাবনা নেই বলে আমি মনে করি, এমন কোনো তারিখও নেই। এটি একটি দীর্ঘ সমস্যা হিসেবে দেখা দিতে পারে কিংবা নাও হতে পারে।’

মাইক রায়ান বলেন, রোগটি কীভাবে সামাল দেবে, তা নিয়ে বিশ্বের এক ধরনের সক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু একটি টিকা উদ্ভাবন হলেও ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক উদ্যোগ নিতে হবে। যেটাকে চন্দ্রাভিযানের মহাযজ্ঞের সঙ্গে তুলনা করেছেন তিনি।

বিশ্বে এখন পর্যন্ত শতাধিক টিকা উদ্ভাবনের কাজ চলছে। যার মধ্যে কয়েকটির ক্লিনিক্যাল পরীক্ষাও হয়েছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা করোনার প্রতিরোধে সক্ষম টিকা উদ্ভাবনের জটিলতার দিকে বেশি জোর দিচ্ছেন।

রায়ান বলেন, হামের মতো অন্যান্য রোগের টিকা থাকলেও তা সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত হয়ে যায়নি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেবরিয়াসুস বলেন, গতিপথটি এখন আমাদের হাতে। এটা এখন সবার কাজ। বৈশ্বিক মহামারী বন্ধে আমাদের সবার অবদান রাখা উচিত।

রায়ানের মতে, ঝুঁকির খেসারত কমিয়ে আনতে ভাইরাসের ওপর উল্লেখযোগ্য নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে। জাতীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্তরে উচ্চ ঝুঁকি থাকার বিষয়েও তিনি সতর্ক করে দেন তিনি।

রয়টার্সের হিসাবে, বিশ্বজুড়ে ৪৩ লাখ লোক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। যাদের মধ্যে দুই লাখ ৯১ হাজার জনের মৃত্যু হয়েছে।

কাজেই ভাইরাসটি নিয়ন্ত্রণ করে কীভাবে অর্থনীতিকে সচল করা যায়, তা নিয়েও বিশ্বের সরকারগুলোর মধ্যে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।

মহামারীর কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া সীমান্ত ধীরে ধীরে খুলে দিতে বুধবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন জোর দিয়েছে। ইইউ বলছে, লোকজনকে নিরাপদ রেখে গ্রীষ্মকালীন পর্যটন মৌসুম রক্ষা করতে এতে খুব বেশি বিলম্ব হবে না।

কিন্তু জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন প্রাদুর্ভাব এড়াতে চরম সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। আর রায়ান বলেন, বিমান ভ্রমণে বিধিনিষেধ শিথিল করে দেয়ার চেয়ে স্থলসীমান্ত খুলে দেয়ার ঝুঁকি কম।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহামারী বিশেষজ্ঞ মারিয়া ভ্যান কেরকভ বলেন, আমাদের ধরে নিতে হবে যে এই মহামারীর শেষ দেখতে কিছুটা সময় লাগবে।