ঢাকা, আজ রোববার, ১ নভেম্বর ২০২০

জীবন বাঁ’চাতে রোজা ভে’ঙে অসহায় হিন্দু বৃদ্ধাকে র’ক্ত দিলেন মুসলিম গৃহবধূ

প্রকাশ: ২০২০-০৫-১৩ ১১:৫৪:৩৬ || আপডেট: ২০২০-০৫-১৩ ১১:৫৪:৩৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : করোনার মধ্যেই দেখা গেল এক সম্প্রীতির ছবি। রোজা ভে’ঙে এক হিন্দু নারীকে র’ক্ত দিলেন মুসলিম গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার রানাঘাটে। জোৎস্না রায়, ৬০ বছর বয়স। বাড়ি ভারতের রানাঘাট থানার অন্তর্গত ডিসপেন্সারি লেনে। তার স্বামী রবীন্দ্রনাথ রায় মা’রা গেছেন দু’বছর আগে। কয়েক মাস ধরে তিনি কিডনির রোগে আক্রা’ন্ত। মাসে তিন বার জোৎস্নাদেবীর ডায়ালাইসিস করতে হয়। দু’মাস আগে বাড়িতেই পড়ে গিয়ে মাথায় চোট পান।

ইদানিং জোৎস্নাদেবীর শরীরের অবস্থা যথেষ্টই সং’কটজনক হতে শুরু করে। রানাঘাটের একটি বেসরকারি নার্সিং হোমে ভর্তি করানো হয় তাকে।
নার্সিং হোমে ভর্তি করার পরই চিকিৎসকরা জানান, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব জোৎস্না রায়কে র’ক্ত দিতে হবে। তার রক্তের গ্রুপ O+। করোনার জেরে রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন হাসপাতাল ও ব্লাড ব্যাঙ্কে র’ক্তের সং’কট। মায়ের র’ক্ত জোগাড় করতে গিয়ে হি’মশি’ম খেতে হয় জোৎস্নাদেবীর বিবাহিত মেয়ে বিশাখা পান্ডেকে। বিভিন্ন জায়গায় র’ক্তের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরে লকডাউনের সময় মায়ের জন্য র’ক্ত জোগাড় করতে পারেননি তার মেয়ে বিশাখা পান্ডে।

এই অবস্থায় একটি সংগঠনের সন্ধান পান জোৎস্নাদেবীর মেয়ে। রানাঘাটে এই সংগঠনটি তৈরি হয়েছে করোনা মো’কাবিলার জন্য। এই সংগঠনের কাজ হল করোনার সময় চিকিৎসা সং’ক্রান্ত সমস্ত ব্যাপারে সাধারণ মানুষকে সাহায্য করা। কোন জায়গায় র’ক্ত না পেয়ে ওই সংগঠনটির কাছে মায়ের 0+ র’ক্তের জন্য লিখিত আবেদন করেন জোৎস্নাদেবীর মেয়ে বিশাখা পান্ডে। সেই সংগঠনের এক সদস্য রুম্পা খোন্দকার।

বাড়ি রানাঘাট থানার কামারপাড়ায়। র’ক্তের জন্য মায়ের মত এক বৃদ্ধার প্রাণ সং’শয়। এটা জানতে পেরেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন রুম্পা খোন্দকার। তার র’ক্তের গ্রুপের সঙ্গে জোৎস্নাদেবীর র’ক্তের গ্রুপ মিলে যাওয়াতে তিনি নিজেই র’ক্ত দিতে সম্মত হন।

গত ১৬ দিন ধরে রোজা করে আসছেন রূম্পা খোন্দকার। রোজা ভা’ঙতে আরও ১৪ দিন বাকি। কিন্তু ১৪ দিন বাকি থাকতেই রোজা ভে’ঙে সংকটজনক জোৎস্না রায়কে র’ক্ত দিলেন মুসলিম গৃহবধূ রুম্পা।

রানাঘাট হাসপাতালের বিছানায় শুয়েই রক্ত দিতে দিতে রুম্পা জানান, ‘র’ক্তের রং একটাই লাল। মানুষের প্রাণ বাঁ’চাতে হিন্দু বা মুসলিম এই ভেদাভেদ করা উচিত নয়। রোজা আগামী বছরও করতে পারব। কিন্তু এক বোতল র’ক্ত দিয়ে এক মু’হূর্ষু রোগীর প্রাণ বাঁ’চিয়ে অনেক বেশি পূণ্য অর্জন করেছি।’

পাশাপাশি মায়ের প্রাণ বাঁ’চানোর পর রুম্পা খোন্দকারকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে জোৎস্না রায়ের মেয়ে বিশাখা পান্ডে জানান, ‘র’ক্তের কোন ধর্ম বা জাত হয় না। রুম্পা আজ সমাজের বুকে সেটা প্রমাণ করে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন এটা সব ধর্মের মানুষকে সঠিক দিশা দেখাবে।’

র’ক্ত দেয়ার পর জোৎস্নাদেবীর শারীরিক অবস্থা সামান্য স্থিতিশীল হলে বিপদমুক্ত নয়। তবে জোৎস্নাদেবীর দুই মেয়ের চেষ্টা যাতে বিফলে না যায় সেই প্রার্থনা করেছেন দুই পরিবারের সদস্যরা। সূত্র: জি-নিউজআন্তর্জাতিক ডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী বলেছেন করোনা পরি’স্থিতির মধ্যে সাম্প্র’দায়িক বিভা’জন তৈরির চেষ্টা করছে বিজেপি। তিনি বলেন, এটা বিভে’দ করার সময় নয়। মমতা বলেন, করোনা পরি’স্থিতির মধ্যেও একদল হিন্দু- মুসলমান করছে। দা’ঙ্গা লাগানোর জন্য টুইটারে নানা রকম ছেড়ে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, ”হিন্দুর গায়ে লাগলেও আমার লাগে। মুসলমানের গায়ে লাগলেও আমার লাগে।” তিনি জানিয়েছেন, লকডাউন ভেঙে যারা দা’ঙ্গা করেছেন তাদের বি’রু’দ্ধে ক’ড়া পদক্ষেপ করবে পুলিশ। তাদের বিরু’দ্ধে বিপ’র্যয় মো’কাবেলা আইন প্রয়োগ করা হবে। কাউকে রেয়াত করা হবে না।

বিজেপিকে কটা’ক্ষ করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ”নির্বাচনের তো এখনো ১ বছর দেরি। এত তাড়াতাড়ি দা’ঙ্গা বাধানোর কী আছে? সঙ্গে তার হু’শিয়ারি, বাংলার মানুষের একটা সহ্যের সীমা রয়েছে। হিন্দু-মুসলিম না করে যারা জীবনের ঝুঁ’কি নিয়ে রাস্তায় কাজ করছে, তাদের পাশে দাঁড়ান। হিন্দু-মুসলিম করবেন না।”

উল্লেখ্য, রবিবার সন্ধ্যায় হুগলির ভদ্রেশ্বরের তেলিনিপাড়ায় দু’টি গোষ্ঠীর মধ্যে তুমল গ’ন্ডগো’ল হয়। বিভিন্ন বাড়ি লক্ষ্য করে ইট ও পাথর ছোঁড়া পাশাপাশি বো’মাবাজির ঘটনা ঘটে। বেশ কয়েকটি বাড়িতে ভা’ঙচুরের পাশাপাশি সোনার দোকানে লুট’পাট চলে বলেও অভিযো’গ ঘটে। এরপর সোমবার সকাল থেকেই বিষয়টি নিয়ে শুরু বিজেপি ও তৃণমূলের তরজা। বিজেপির পক্ষ থেকে স্থানীয় এক তৃণমূল কাউন্সিলরের দিকে অভিযো’গের আঙুল তোলা হয়।

ঘটনাস্থলে গিয়ে পরি’স্থিতি দেখতে চাইলে স্থানীয় বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়কে বা’ধা দেয় পুলিশ। এর জে’রে নতুন করে উত্তে’জনাও ছড়ায়। মঙ্গলবার সকাল থেকে এলাকায় ব্যা’পক উত্তে’জনা ছড়িয়েছে। দফায় দফায় বো’মাবা’জি, ভা’ঙচুর হচ্ছে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে। এই মর্মে বঙ্গ বিজেপির একটি প্রতিনিধি দল এদিন রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপালের কাছে সরকার ও পুলিশের নি’ষ্ক্রি’য়তা নিয়ে অভিযো’গ জানিয়েছে। সূত্র : এএনআই