ঢাকা, আজ বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০

আবার জন্মালে ‘কোরআনের হাফেজ’ হয়ে জন্মাতে চাই: তাসকিন

প্রকাশ: ২০২০-০৫-১৩ ১১:৫২:১২ || আপডেট: ২০২০-০৫-১৩ ১১:৫২:১২

স্পোর্টস ডেস্ক: সাধারণ মানুষের মতো ক্রিকেটারদের জীবনও র’ক্ত-মাংসে গড়া। একজন মানুষ হিসেবে তাদের শখ, পছন্দ-অপছন্দ ছিলো শৈশবে। আট-দশটা বাঙালি কিশোরের মতো বেড়ে উঠেছে দুরন্তপনায়। এই যেমন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার তাসকিন আহমেদ। ক্রিকে’টের বাহিরে নানান রঙের গল্প আছে এই পেসারের। যদি তিনি আবার জন্মাতেন তাহলে খেলার পাশাপাশি কোরআনে হাফেজ হতেন।

এছাড়া নিজের পছন্দের মানুষের সাথে প্রেম করেছেন নয় বছর। সেই মানুষকে বিয়ে করেছেন এই পেসার। তার পছন্দের ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মুর্তজা এবং ফুটবলার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। এমন অনেক গল্প জানিয়েছেন অনলাইন ভিত্তিক একটি গণমাধ্যম’কে। নিম্নে তাসকিনের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের বাহিরের গল্প তুলে ধরা হলো-

স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে তাসকিন আহমেদ: কিং খালেদ ইনস্টিটিউট, স্টাম্পফোর্ড ইউনিভার্সিটি, আমেরিকান ইউনিভার্সিটি, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি (হাসি), এই দুটিতেই আছি। গ্র্যাজুয়েশন কোনটা থেকে কমপ্লিট করব এখনো শিওর না। অন্যটাতেও ভর্তি হতে পারি।

সবচেয়ে দুঃখের দিন কোনদিন? তাসকিন আহমেদ: যেদিন ১৯ বিশ্বকাপে (২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপ) শুনেছি আমি দলে নেই।

এক সপ্তাহের জন্য রাজা হলে কী করবেন? তাসকিন আহমেদ : এক সপ্তাহের জন্য রাজা হলে? দুনিয়ার সব দু’র্নীতি উঠায়ে দিতাম আর গরিব থাকত না ওই অবস্থা করতাম মানে সাধ্যমতো। বি’পদে পড়লে সবার প্রথমে কাকে ফোন দেবেন? তাসকিন আহমেদ : বাবাকে।

কোন ক্রিকেটার এবং ফুটবলার কে পছন্দ করেন? তাসকিন আহমেদ : পছন্দের ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মোর্ত্তজা। ফুটবলার সিআরসেভেন।
বাংলাদেশ জাতীয় দলে বন্ধু ক্রিকেটার কে? তাসকিন আহমেদ : সৌম্য, মোসাদ্দেক, এনামুল বিজয়। অটোগ্রাফ না সেলফি দেওয়া সহজ? তাসকিন আহমেদ : সেলফিটাই ইজি আসলে। অটোগ্রাফের ব্যাপারটা হলো অনেক সময় সবাইকে দেওয়া যায় না। হাতও ব্যথা হয়। সেলফিটাই ইজি এখন।

মেসি বা রোনালদোর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেলে সঙ্গী হিসেবে কাকে নেবেন? তাসকিন আহমেদ : আমার ছেলেকে। ওর সঙ্গে একটা ছবি তুলে রেখে দিলে ও বড় হয়ে ওর বন্ধুদের দেখাতে পারবে। বলতে পারবে, দেখ ব্যাটা কার সঙ্গে ছবি তুলেছি (হাসি)।

নিজের সবচেয়ে বড় গুণ, দোষ? তাসকিন আহমেদ : একটা গুণ যদি বলা হয়, আমি মানুষকে দ্রুত ক্ষমা করতে পারি। রাগ করে থাকতে পারি না বেশিক্ষণ। দোষ যদি বলা হয়, মানুষের কথাগুলা গায়ে লাগে, কয়েক দিন ধরে মাথায় থেকে যায়।

আজকের এই অবস্থানে আসার পেছনে কার অবদান সবচেয়ে বেশি? তাসকিন আহমেদ : আমার বাবার অনেক অবদান। সেলিব্রিটি লাইফ কতটা উপভোগ করেন? তাসকিন আহমেদ : এটা আলহামদুলিল্লাহ। এটা একটা বিশাল বড় পাওয়া। অনেক টাকা থাকলেও কিন্তু এটা অনেকে পায় না।আন্তর্জাতিক ডেস্ক : করোনার মধ্যেই দেখা গেল এক সম্প্রীতির ছবি। রোজা ভে’ঙে এক হিন্দু নারীকে র’ক্ত দিলেন মুসলিম গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার রানাঘাটে। জোৎস্না রায়, ৬০ বছর বয়স। বাড়ি ভারতের রানাঘাট থানার অন্তর্গত ডিসপেন্সারি লেনে। তার স্বামী রবীন্দ্রনাথ রায় মা’রা গেছেন দু’বছর আগে। কয়েক মাস ধরে তিনি কিডনির রোগে আক্রা’ন্ত। মাসে তিন বার জোৎস্নাদেবীর ডায়ালাইসিস করতে হয়। দু’মাস আগে বাড়িতেই পড়ে গিয়ে মাথায় চোট পান।

ইদানিং জোৎস্নাদেবীর শরীরের অবস্থা যথেষ্টই সং’কটজনক হতে শুরু করে। রানাঘাটের একটি বেসরকারি নার্সিং হোমে ভর্তি করানো হয় তাকে।
নার্সিং হোমে ভর্তি করার পরই চিকিৎসকরা জানান, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব জোৎস্না রায়কে র’ক্ত দিতে হবে। তার রক্তের গ্রুপ O+। করোনার জেরে রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন হাসপাতাল ও ব্লাড ব্যাঙ্কে র’ক্তের সং’কট। মায়ের র’ক্ত জোগাড় করতে গিয়ে হি’মশি’ম খেতে হয় জোৎস্নাদেবীর বিবাহিত মেয়ে বিশাখা পান্ডেকে। বিভিন্ন জায়গায় র’ক্তের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরে লকডাউনের সময় মায়ের জন্য র’ক্ত জোগাড় করতে পারেননি তার মেয়ে বিশাখা পান্ডে।

এই অবস্থায় একটি সংগঠনের সন্ধান পান জোৎস্নাদেবীর মেয়ে। রানাঘাটে এই সংগঠনটি তৈরি হয়েছে করোনা মো’কাবিলার জন্য। এই সংগঠনের কাজ হল করোনার সময় চিকিৎসা সং’ক্রান্ত সমস্ত ব্যাপারে সাধারণ মানুষকে সাহায্য করা। কোন জায়গায় র’ক্ত না পেয়ে ওই সংগঠনটির কাছে মায়ের 0+ র’ক্তের জন্য লিখিত আবেদন করেন জোৎস্নাদেবীর মেয়ে বিশাখা পান্ডে। সেই সংগঠনের এক সদস্য রুম্পা খোন্দকার।

বাড়ি রানাঘাট থানার কামারপাড়ায়। র’ক্তের জন্য মায়ের মত এক বৃদ্ধার প্রাণ সং’শয়। এটা জানতে পেরেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন রুম্পা খোন্দকার। তার র’ক্তের গ্রুপের সঙ্গে জোৎস্নাদেবীর র’ক্তের গ্রুপ মিলে যাওয়াতে তিনি নিজেই র’ক্ত দিতে সম্মত হন।

গত ১৬ দিন ধরে রোজা করে আসছেন রূম্পা খোন্দকার। রোজা ভা’ঙতে আরও ১৪ দিন বাকি। কিন্তু ১৪ দিন বাকি থাকতেই রোজা ভে’ঙে সংকটজনক জোৎস্না রায়কে র’ক্ত দিলেন মুসলিম গৃহবধূ রুম্পা।

রানাঘাট হাসপাতালের বিছানায় শুয়েই রক্ত দিতে দিতে রুম্পা জানান, ‘র’ক্তের রং একটাই লাল। মানুষের প্রাণ বাঁ’চাতে হিন্দু বা মুসলিম এই ভেদাভেদ করা উচিত নয়। রোজা আগামী বছরও করতে পারব। কিন্তু এক বোতল র’ক্ত দিয়ে এক মু’হূর্ষু রোগীর প্রাণ বাঁ’চিয়ে অনেক বেশি পূণ্য অর্জন করেছি।’

পাশাপাশি মায়ের প্রাণ বাঁ’চানোর পর রুম্পা খোন্দকারকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে জোৎস্না রায়ের মেয়ে বিশাখা পান্ডে জানান, ‘র’ক্তের কোন ধর্ম বা জাত হয় না। রুম্পা আজ সমাজের বুকে সেটা প্রমাণ করে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন এটা সব ধর্মের মানুষকে সঠিক দিশা দেখাবে।’

র’ক্ত দেয়ার পর জোৎস্নাদেবীর শারীরিক অবস্থা সামান্য স্থিতিশীল হলে বিপদমুক্ত নয়। তবে জোৎস্নাদেবীর দুই মেয়ের চেষ্টা যাতে বিফলে না যায় সেই প্রার্থনা করেছেন দুই পরিবারের সদস্যরা। সূত্র: জি-নিউজ