ঢাকা, আজ বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০

ছুটি না বাড়িয়ে উপায় নেই: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: ২০২০-০৫-১৩ ১১:৪৪:৪২ || আপডেট: ২০২০-০৫-১৩ ১১:৪৪:৪২

নিউজ ডেস্ক : করোনাভাইরাসের বর্তমান প’রিস্থিতিতে সাধারণ ছুটি না বাড়িয়ে উপায় নেই বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। তিনি বলেন, সাধারণ ছুটি সং’ক্রান্ত সবকিছুই আমরা প্রস্তুত করে রেখেছি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পেলেই আমরা তা চূড়ান্ত করবো। বিষয়টি পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। কারণ, এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরও কিছু নির্দেশনা দিতে পারেন। মঙ্গলবার এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিভিন্ন কারণে সরকার স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে মার্কেট ও শপিং মল খোলার অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু সাধারণ মানুষ এই অনুমতির কোনও শর্তই মানছেন না। অনেকেই সন্তানদের নিয়ে কেনাকাটা করার জন্য মার্কেটে যাচ্ছেন। এতে কারোনা মহামা’রি আ’কার ধারণ করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এছাড়াও স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যমতে পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে খারাপের দিকে যাচ্ছে। এ অবস্থায় খুলে দেওয়া মার্কেট, শপিং মল আবার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তিরি বলেন, ১৭ মে থেকে ঈদের আগে কর্মদিবস রয়েছে মাত্র চারটি। বাকি দিনগুলোয় রয়েছে শবেকদর ও সাপ্তাহিক ছুটি। আমার ধারণা মানুষ যখন এতদিন সাধারণ ছুটির বিড়ম্বনা সহ্য করেছেন, ঈদের আগে বাকি এই কয়টা দিনের বিড়ম্বনাও হয়তো সইবেন। তাই বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মতোই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে।

এর আগে গত ৮ মার্চ প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রা’ন্ত রোগী পাওয়ার পর গত ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করে সরকার। পরে ৫ থেকে ৯ এপ্রিল, ১৪ এপ্রিল, ২৫ এপ্রিল, ৫ মে এবং সর্বশেষ ১৬ মে পর্যন্ত ছুটি বাড়ানো হয়। সূত্র: বাংলা ট্রিউবিউনআন্তর্জাতিক ডেস্ক : প্রাণঘা’তী করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠে’কাতে ভারতজুড়ে চলা লকডাউনে সবচেয়ে বেশি দুর্ভো’গে পড়েছেন পরিযায়ী শ্রমিকেরা। হঠাৎ করে গাড়ি চলাচল ব’ন্ধ হওয়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে ভিন রাজ্যে মহা বি’পাকে পড়েছেন এসব শ্রমিকেরা। অনেকে হাজার হাজার মাইল দূরের পথ হেটে বাড়ি পৌঁছানোর জন্য রওনা দিয়েছেন। পথে ঘটেছে নানা হৃদয়বি’দারক ঘটনা।

পরিযায়ী শ্রমিকদের দুরব’স্থার নানা ছবি গত কয়েক সপ্তাহ ধ’রে বারবার সামনে এসেছে। এবার তেমনই এক ভিডিও সামনে এল। ভিডিওটি ২০ সেকেন্ডের। তাতে দেখা যাচ্ছে ভিড়ে ঠা’সা একটি ট্রাকে উঠতে চেষ্টা করছেন কয়েক জন পরিযায়ী শ্রমিক। তার মধ্যে একজন শ্রমিককে দেখা গিয়েছে এক হাতে ট্রাকের দড়ি ধ’রে অন্য হাতে কোলের ছোট্ট শিশুটিকে ছুড়ে দিতে চাইছেন ট্রাকে।

শিশুটির মা তার হাতে তুলে দিয়েছিলেন শিশুটিকে। ছত্তিশগড়ের ওই ভিডিওটি আরো একবার ভারতে পরিযায়ী শ্রমিকদের অসহা’য়ত্বকে প্র’কট ভাবে তুলে ধ’রলো। ভিডিওটিতে দেখা গেছে শাড়ি পরে কষ্ট করে ট্রাকে উঠতে চেষ্টা করছেন এক নারী। পাশাপাশি কোলের শিশুকে গাড়িতে তোল‌ার চেষ্টা করতে দেখা গিয়েছে আরো এক ব্যক্তিকে। এনডিটিভির সঙ্গে কথা বলার সময় কয়েকজন শ্রমিক জানাচ্ছেন, তারা উপায়ান্তর না দেখে তেলেঙ্গানা থেকে বাড়ি ফিরতে ট্রাককেই বেছে নিয়েছেন।

এক বৃদ্ধ বলছেন, ”কী করতাম আমরা? আমরা অসহায়। আমাদের ঝাড়খণ্ডে যেতে হবে। বাধ্য হয়ে ট্রাকে উঠতে হচ্ছে, কেননা আর কোনো উপায় নেই।” কেন্দ্রীয় সরকারের পরিযায়ীদের জন্য চালানো বিশেষ ট্রেনের বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ”আমরা সে সম্পর্কে কোনো খবর পাইনি। আমরা জানি না তারা আমাদের ফেরানোর কোন ব্যবস্থা করেছে কিনা।”

ট্রাকটির কাছেই দাঁড়িয়ে থাকা রাজ্য পরিবহণের এক কর্মকর্তা জানালেন, ”পরিবহণের আর কোনও উপায় নেই। প্রশাসনের উচিত ওদের জন্য বিশেষ বাস চালানো। আমি পরিবহণ দফতরেই আছি। কিন্তু আমার স্তরের লোকের পক্ষে বাসের ব্যবস্থা করে দেওয়া সম্ভব নয়।”

গত মার্চের শেষ দিকে এসে ভারতজুড়ে লকডাউন জারি হয়ে যাওয়ার পর থেকেই পরিযায়ী শ্রমিকরা নিজেদের গ্রামে ফিরতে চেয়েছিলেন। উপায় না পেয়ে অনেকেই দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে পাড়ি দিতে চেষ্টা করেছিলেন। পথেই বহু পরিযায়ী শ্রমিকের মৃ’ত্যুর কথা জানা গেছে।

গত সপ্তাহে মহারাষ্ট্রে ১০০ কিলোমিটার পথ হেঁটে ক্লান্ত হয়ে রেললাইনের উপরে ঘুমিয়ে পড়া ২০ জন পরিযায়ী শ্রমিকের একটি দলের মধ্যে ১৬ জনের মৃ’ত্যু হয় ট্রেনে কা’টা পড়ে। গত রবিবার আরো একটি পরিযায়ী শ্রমিকদের দলের ৫ জনের মৃ’ত্যু হয় ট্রাক দুর্ঘ’টনায়। সূত্র : এনডিটিভি।