ঢাকা, আজ শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০

দুধের শিশুকে এক হাতে ঝুলিয়ে ট্রাকে চড়ার রোমহর্ষক দৃশ্য

প্রকাশ: ২০২০-০৫-১৩ ১১:৪০:০৩ || আপডেট: ২০২০-০৫-১৩ ১১:৪০:০৩

আয়লান কুর্দিকে মনে আছে। সেই তিন বছরের ছোট্ট সিরীয় শিশু। সমুদ্র তীরে উল্টে পড়ে থাকা যার নিথর দেহের ছবি দেখে কেঁপে উঠেছিল সারা বিশ্ব। যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইরাক, সিরিয়ার লাখ লাখ বিপন্ন শরণার্থীদের ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাড়ি দেওয়ার প্রকৃত রূপটা বোধগম্য হয়েছিল বিশ্ববাসীর।

সেরকম না হলেও শিউড়ে ওঠার মতোই ছবি দেখা গেল ভারতের ছত্তিশগড়ে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এবং সোস্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত ওই ছবিতে দেখা যাচ্ছে, এক হাতে দড়ি ধরে ট্রাকের ছাদে চড়ার চেষ্টা করছেন এক যুবক। তার আরেক হাতে ঝুলছে ছোট্ট এক শিশু। যিনি সম্ভবত শিশুটির বাবা। আর নিচে দাঁড়িয়ে হাত তুলে কোনোরকমে শিশুর পড়ে যাওয়া আটকানোর চেষ্টা করছেন এক মহিলা, যিনি সম্ভবত শিশুটির মা।

ছবিতে দেখা যায়, ট্রাকের মাথায় আরো অনেকে বসে রয়েছেন এবং নিচে দাঁড়িয়ে অনেকজন। ছত্তিশগড়ের পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফেরার এই অসহায় চেষ্টা ফের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, তাদের করুণ দশা।

ওই ট্রাকের শ্রমিকরা বললেন, তারা সবাই ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা। কর্মসূত্রে তেলঙ্গানায় থাকেন। লকডাউনের জন্য কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাতে অর্থও ফুরিয়ে গিয়েছে। তাই আর কোনো উপায় না দেখে ওই ট্রাকে চড়ে ফেরার চেষ্টা করেছেন। শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনগুলি সম্পর্কে তাদের কাছে কোনো তথ্যও আসেনি বলে অভিযোগ করেছেন শ্রমিকরা।

ঘটনাস্থলে থাকা তেলঙ্গানা পরিবহন দপ্তরের এক অফিসার বললেন, প্রশাসন ওই সব শ্রমিকদের বিশেষ বাসের কোনও ব্যবস্থা করেনি এবং তার পক্ষে সেটা একা করা অসম্ভব। আজকাল ।
নিউজ ডেস্ক : প্রাণঘা’তী করোনাভাইরাসকে নির্মূল করার জন্য সারা বিশ্ব যখন প্র’তিষেধক আবিষ্কার করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে, ঠিক সেই সময় করোনাভাইরাস প্র’তিরোধক কাপড় তৈরি করে বিশ্বকে তাক তাক লাগিয়ে দিয়েছে দেশের বস্ত্র খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান জাবের অ্যান্ড জুবায়ের।

আগামীকাল (১৪ এপ্রিল) রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই কাপড় উদ্ভাবনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। উদ্বোধনের পর সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা শুরু করবে প্রতিষ্ঠানটি। দেশের প্রয়োজনে সরকার এই কাপড় ব্যবহার করতে চাইলে সরবরাহ করতে চায় তারা।

মঙ্গলবার (১২ মে) নোমান গ্রুপের সিস্টার কনসার্ন জাবের অ্যান্ড জুবায়েরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমকে জানান, এই কাপড় তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে বিশেষ রাসায়নিক পদার্থ। ফলে ওই কাপড়ে করোনাভাইরাসসহ অন্য কোনো ভাইরাস টিকতে পারবে না। যদি কোনোভাবে কোনো ভাইরাস ওই কাপড়ে লাগে, মাত্র ১২০ সেকেন্ডে ওই কাপড় ৯৯.৯ শতাংশ ভাইরাসমুক্ত হবে।

তারা আরও জানায়, বস্ত্র খাতে প্রতিযোগী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশেই প্রথম এই কাপড় উদ্ভাবিত হয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে অন্য দেশগুলোও এই কাপড় তৈরিতে এগিয়ে আসবে বলে তারা আশাবাদী।

প্রতিষ্ঠানটির ব্র্যান্ড অ্যান্ড কমিউনিকেশন ম্যানেজার অনল রায়হান বলেন, সাধারণ সব ধরনের পোশাক তৈরিতে ভাইরাস প্র’তিরোধক এই কাপড় ব্যবহার করা যাবে। তবে বিশেষায়িত কাপড় হওয়ায় এই কাপড়ে তৈরি পোশাকের দাম তুলনামূলক বেশি হবে। জাবের অ্যান্ড জুবায়ের রপ্তানির জন্য এ কাপড় তৈরি করেছে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

এরই মধ্যে তাদের এই কাপড় আন্তর্জাতিকভাবে মান সনদের স্বীকৃতি পেয়েছে। আইএসও ১৮১৮৪-এর অধীনে এটি পরীক্ষা করা হয়েছে। কাপড় তৈরির মূল উপাদানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বি’ষাক্ত পদার্থ নিয়ন্ত্রণ আইন ও পরিবেশগত সুরক্ষা সংস্থায় নিবন্ধিত। ভাইরাস রো’ধে এ কাপড় প্রায় শতভাগ নিরাপত্তা দিলেও ২০ বার ধোয়ার পর এর কার্যকারিতা কতখানি থাকবে, তা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা। তার পরও এই কাপড় নেওয়ার ব্যাপারে ইউরোপ-আমেরিকার ক্রেতাদের কাছ থেকে বিপুল সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।চলমান করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) পরিস্থিতিতে খুলে দেওয়া শপিংমল ও মার্কেট আবার বন্ধ ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে গণমাধ্যমকে তিনি এ কথা জানান।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিভিন্ন কারণে সরকার স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে মার্কেট ও শপিংমল খোলার অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু সাধারণ মানুষ এই অনুমতির কোনো শর্তই মানছেন না। অনেকেই সন্তানদের নিয়ে কেনাকাটা করার জন্য মার্কেটে যাচ্ছেন। এতে কারোনা মহামারি আকার ধারণ করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে খারাপের দিকে যাচ্ছে। এ অবস্থায় খুলে দেওয়া মার্কেট, শপিংমল আবার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।’

এর আগে গত ১০ মে থেকে ঈদুল ফিরত ও রোজার কেনাকাটার কথা চিন্তা করে সীমিত আকারে কয়েকটি শর্তে দেশের সব মপিংমল ও মার্কেট খোলার অনুমতি দেয় সরকার। তবে করোনা পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে ঈদের আগে দেশের বড় শপিংমল বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স ও যমুনা ফিউচার পার্ক খোলা হবে না বলে জানিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ।

প্রসঙ্গত, দেশে গত ৮ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম রোগী শনাক্ত করা হয়। এরপর গত ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করে সরকার। পরে ৫ থেকে ৯ এপ্রিল, ১৪ এপ্রিল, ২৫ এপ্রিল, ৫ মে এবং সর্বশেষ ১৬ মে পর্যন্ত ছুটি বাড়ানো হয়। সেই ছুটি নতুন করে বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

নতুন করে ছুটি বাড়ানোর বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন জানান, ‘১৭ মে থেকে ঈদের আগে কর্মদিবস রয়েছে মাত্র চারটি। বাকি দিনগুলোয় রয়েছে শবেকদর ও সাপ্তাহিক ছুটি। আমার ধারণা, মানুষ যখন এতদিন সাধারণ ছুটির বিড়ম্বনা সহ্য করেছেন, ঈদের আগে বাকি এই কয়টা দিনের বিড়ম্বনাও হয়তো সইবেন। তাই বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মতোই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে।’