ঢাকা, আজ শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০

হঠাৎ ফখরুলকে বাসায় ডেকে যা বললেন খালেদা!

প্রকাশ: ২০২০-০৫-১৩ ১১:৩৬:২৮ || আপডেট: ২০২০-০৫-১৩ ১১:৩৬:২৮

দুই বছরেরও বেশি সময় পর কারাবন্দি অবস্থা থেকে নির্বাহী আদেশে মুক্তি পান বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। করোনাকালে মুক্তি পাওয়ার পর থেকে প্রথমে হোম কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন। এরপর থেকে ঘরবন্দিই আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। এরমধ্যে নেতাদের কাউকে না ডাকলেও হঠাৎ করে খালেদা জিয়ার ডাক পেলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মুক্তি পাওয়ার ৪৮ দিন পর গুলশানের বাসায় ডেকে খালেদা জিয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে কী কথা হয়েছে তাদের তা নিয়ে কিছু জানা যায়নি। বিএনপি মহাসচিবকে একাধিকবার ফোন করলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, দলীয় বিষয়েই আলোচনা করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

জানা গেছে, সোমবার রাত ৯টায় গুলশানে চেয়ারপারসনের বাসা ‘ফিরোজা‘য় গাড়ি নিয়ে প্রবেশ করেন বিএনপি মহাসচিব। সোয়া এক ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করে বেরিয়ে যান ফখরুল।

খালেদা জিয়ার মুক্তির ৪৮ দিন পর প্রথম এই একান্ত সাক্ষাৎ পেলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। স্থায়ী কমিটির আর কোনো সদস্যের সঙ্গে চেয়ারপারসনের একান্ত সাক্ষাৎ হয়নি।

গত ২৫ মার্চ নির্বাহী আদেশে ছয় মাস সাজা স্থগিত রেখে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয় সরকার। মুক্তির পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে থেকে গুলশানের ভাড়া বাসায় ওঠেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। এরপর থেকে তিনি চিকিৎসকদের পরামর্শে বাসাতেই আছেন। গৃহকর্মী ফাতেমা বেগমের সঙ্গে একজন নার্সও আছেন বাসায়।

বাসার নিরাপত্তা কর্মীরা জানান, বাসায় প্রবেশাধিকার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। শুধু চিকিৎসক টিমের সদস্য এবং কয়েকজন নিকটাত্মীয়ের প্রবেশাধিকার রয়েছে।চলমান করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) পরিস্থিতিতে খুলে দেওয়া শপিংমল ও মার্কেট আবার বন্ধ ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে গণমাধ্যমকে তিনি এ কথা জানান।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিভিন্ন কারণে সরকার স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে মার্কেট ও শপিংমল খোলার অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু সাধারণ মানুষ এই অনুমতির কোনো শর্তই মানছেন না। অনেকেই সন্তানদের নিয়ে কেনাকাটা করার জন্য মার্কেটে যাচ্ছেন। এতে কারোনা মহামারি আকার ধারণ করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে খারাপের দিকে যাচ্ছে। এ অবস্থায় খুলে দেওয়া মার্কেট, শপিংমল আবার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।’

এর আগে গত ১০ মে থেকে ঈদুল ফিরত ও রোজার কেনাকাটার কথা চিন্তা করে সীমিত আকারে কয়েকটি শর্তে দেশের সব মপিংমল ও মার্কেট খোলার অনুমতি দেয় সরকার। তবে করোনা পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে ঈদের আগে দেশের বড় শপিংমল বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স ও যমুনা ফিউচার পার্ক খোলা হবে না বলে জানিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ।

প্রসঙ্গত, দেশে গত ৮ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম রোগী শনাক্ত করা হয়। এরপর গত ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করে সরকার। পরে ৫ থেকে ৯ এপ্রিল, ১৪ এপ্রিল, ২৫ এপ্রিল, ৫ মে এবং সর্বশেষ ১৬ মে পর্যন্ত ছুটি বাড়ানো হয়। সেই ছুটি নতুন করে বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

নতুন করে ছুটি বাড়ানোর বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন জানান, ‘১৭ মে থেকে ঈদের আগে কর্মদিবস রয়েছে মাত্র চারটি। বাকি দিনগুলোয় রয়েছে শবেকদর ও সাপ্তাহিক ছুটি। আমার ধারণা, মানুষ যখন এতদিন সাধারণ ছুটির বিড়ম্বনা সহ্য করেছেন, ঈদের আগে বাকি এই কয়টা দিনের বিড়ম্বনাও হয়তো সইবেন। তাই বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মতোই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে।