ঢাকা, আজ বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২০

নেত্রকোনায় চেয়ারম্যানের বাসার কিশোরী গৃহকর্মীর রহজনক মৃ’ত্যু

প্রকাশ: ২০২০-০৫-১০ ১২:১৮:৩০ || আপডেট: ২০২০-০৫-১১ ১৩:০১:১৫

নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার ৬ নং সিংধা ইউপি চেয়ারম্যান শাহ মাহবুব মোর্শেদ কাঞ্চনের বাসার কিশোরী গৃহকর্মীর লা’শ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। শনিবার (৯মে) সন্ধ্যার পূর্বে চেয়ারম্যানের মোহনগঞ্জ উপজেলা হাসপাতাল রোডের বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নি’হত কিশোরী মারুফা আক্তার (১৪) বারহাট্টা উপজেলার সিংধা ইউনিয়নে চেয়ারম্যানের বাড়ির পাশের আলী আকবরের মেয়ে। গত দুই বছর পূর্বে এ বাসায় কাজ করতে আসে বলে নিশ্চিত করেছেন মোহনগঞ্জ থানার ওসি মো. আব্দুল আহাদ খান। কিশোরির মা চেয়ারম্যানের ছেলের ঢাকাস্থ বাসায় গৃহকর্মীর কাজ কাজ করেন।

বারহাট্টা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাইনুল হক কাশেম জানান, আমাদের ৬ নং সিংধা ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের মোহনগঞ্জ বাসায় মেয়েটি আত্মহ’ত্যা করেছে খবর পাই। পরে চেয়ারম্যান পুলিশকে না জানিয়েই নিজেই হাসপাতালে নিয়ে যান। এদিকে এলাকায় বিষয়টি নিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। সন্দেহ রয়েছে বলেই মানুষ এ নিয়ে গুঞ্জন করছে। এর আগেও বিভিন্ন কারণে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় থেকে গত ১৯/১১/২০১৯ তারিখে লিখিত চিঠির মাধ্যমে সাময়িক বরখাস্ত করে এই চেয়ারম্যানকে।

মোহনগঞ্জ থানার ওসি মো. আব্দুল আহাদ খান জানান, চেয়ারম্যানের বাড়ির পিছনে বড়ই গাছে বিকালে পরিত্যাক্ত কারেন্টের তার গলায় পেঁচিয়ে আত্মহ’ত্যা করেছে বলে শুনেছি। পরে চেয়ারম্যান নিজেই উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আমরা লাশটি ম’য়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছি। মেয়ের মাকে খবর দিয়েছি ঢাকা থেকে আসতে।

মোহনগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ আকিদা খানম শান্তা জানান, বিকালে চেয়ারম্যান নিজেই কিশোরীকে হাসপাতালে নিয়ে আসলে আমরা তাকে পরীক্ষা করে মৃত পাই।

এ ব্যাপারে কথা বলতে চেয়ারম্যানের নাম্বারে ফোন দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।মুহাম্মাদ আইয়ুব: আপনার একটি মহৎ গুণের কারণে যখন আল্লাহ এবং তার রাসুলের পক্ষ থেকে একের পর এক সুসংবাদ আসতে থাকবে তখন আপনার অনুভূতি কেমন হবে? অনেকে বলবেন আল্লাহ ও রাসুলের পক্ষ থেকে সুসংবাদ আসা সম্ভব? এখন কি নবীর যুগ যে, আসমান থেকে ওহি পাঠিয়ে আল্লাহ সুসংবাদ দিবেন! এমনটি যারা ভাবছেন তারা সম্ভবত ভুলে গেছেন যে, আমাদের মাঝে আছে আল্লাহর কোরআন ও রাসুলের হাদিস।

কোরআন ও হাদিসের মাঝেই আল্লাহ পাক ও তার মাহবুব (সা.) সুসংবাদ দিয়েছেন ওই মানুষের ব্যাপারে যারা প্রতিকূল মুহূর্তে, বৈরী পরিবেশে মোটকথা সর্বাবস্থায় ধৈর্য ধারণ করে।ধৈর্যকে নিজ জীবনের প্রতিটি সেকেন্ডে অলংকার হিসেবে ব্যবহার করে। এরা আল্লাহতায়ালার কাছে শ্রেষ্ঠ মানুষের মর্যাদা পায়। শ্রেষ্ঠত্বের মানদ’ণ্ডে উত্তীর্ণ হয়ে মাথায় পরে নানাবিধ সুসংবাদের মুকুট।

আল্লাহর পক্ষ থেকে পুরষ্কার : আল্লাহতায়ালা ধৈর্যশীলদের জন্য আল কোরআনে সুসংবাদের ডালি সাজিয়েছেন।

১. হে ঈমানদারগণ! তোমরা ধৈর্য ও নামাজ দ্বারা সাহায্য প্রার্থনা কর, নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন। (সুরা বাকারা, আয়াত নং ১৫৩) ২. এবং নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে ভ’য়, ক্ষু’ধা, ধন, প্রাণ এবং ফল-ফসলের দ্বারা পরিক্ষা করব; এবং ওইসব ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ প্রদান কর। যাদের ওপর কোন বি’পদ নিপ’তিত হলে তারা বলে, নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং অবশ্যই আমরা তার দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী। এদের ওপর তাদের রবের পক্ষ হতে শান্তি ও করুনা বর্ষিত হবে এবং এরাই সুপথগামী। (সুরা বাকারা, আয়াত নং ১৫৫-৫৭)

ধৈর্যের আলোচনা আসলেই হযরত আইয়ুব (আ.) এর ঘ’টনা সামনে চলে আসে। রাজকীয় জীবন ছিল হযরত আইয়ুব (আ.) এর। আর আল্লাহ পাক যখন তার পরীক্ষা নিলেন তখন তার অবস্থা এমন পর্যায়ে গিয়ে উপনীত হল যে, জীবন উৎসর্গকারিনী এক গুণবতী, ধৈর্যশীলা স্ত্রী বিবি রহিমা ছাড়া আর কেউ তার স’ঙ্গ দিল না।

লোকা’লয়ের আ’শ্রয় হা’রিয়ে বনে হল তার ঠিকানা। দীর্ঘ আঠারো বছর যাবত পোকা মাকড় তাকে কু’রে করে খেতে থাকল। তবে আশ্চর্যের বিষয় হল, লম্বা এ সময়ে এক সেকেন্ডের জন্য অভি’যোগ তো দুরের কথা অনুযোগের সুর পর্যন্ত আনার কল্পনা করেননি; অথচ তখনও তিনি নবি এবং জিবরাঈল আলাইহিসসালাম তার কাছে নিয়মত যাতায়াত করেন। ধৈর্যের এমন কোন পথ নেই যে পথে তিনি হাটেননি! কঠিন এ পরীক্ষায় আল্লাহর রহমতে ধৈর্যের মাধ্যমে তিনি উত্তীর্ণ হলেন।

পবিত্র কোরআনে একাধিকবার আল্লাহ তাকে উল্লেখ করে কেয়ামত পর্যন্ত জীব’ন্ত রাখলেন। ধৈর্য কেমন ধ’রতে হয়, ধৈর্যের রূ’প কেমন হয় তার সবটাই দেখালেন হযরত আইয়ুব (আ.)।তাঁর সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, আমি তাকে পেলাম ধৈর্যশীল। কত উত্তম বান্দা সে! সে ছিল আমার অভিমুখী। (সুরা সোয়াদ, আয়াত নং ৪৪)

সুবহানাল্লাহ! ধৈর্যের জন্য কি বিষ্ময়কর স্বীকৃতি!