ঢাকা, আজ রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

ছদ্মবেশে নামাজ শেষে ধর্ষককে ধরল পুলিশ

প্রকাশ: ২০২০-০৫-১০ ১২:১৫:৩৭ || আপডেট: ২০২০-০৫-১০ ১২:২৫:১৩

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় ছদ্মবেশ ধারণ করে ধর্ষণ মামলার পলাতক আসামি সেলিম রেজাকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নের এক মসজিদে নামাজ শেষে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া সেলিম রেজা নেজামপুর কাঁঠালিয়াপাড়ার মৃত দবির উদ্দিনের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত আটমাস আগে সেলিম রেজার সঙ্গে একই উপজেলার এক মেয়ের পরিচয় হয়। এর সুবাদে ওই মেয়েকে ঢাকার আশুলিয়ার কাশিমপুর এলাকার এক কোম্পানিতে চাকরি পাইয়ে দেয় এবং মেয়েটিকে বিয়ে করার প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করার প্রস্তাব দেয় সেলিম রেজা। কিন্তু মেয়েটি সেলিমের কুপ্রস্তাবে রাজি না হয়ে এক পর্যায়ে চাকরি ছেড়ে গত নভেম্বর মাসে নিজ বাড়ি নাচোলে চলে আসে।

পরে চলতি বছরের ২৩ মার্চ নেজামপুর বাজারে মেয়েটির সঙ্গে আবার দেখা হলে তাকে নতুন একটি চাকরির কথা বলে সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে নিয়ে যায় সেলিম। সেখানে মেয়েটিকে ধর্ষণ করে।

এ ঘটনায় মেয়েটি নাচোল থানায় সেলিমের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করলে সেলিম গা ঢাকা দেয়।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নাচোল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সোহেল রানা ছদ্মবেশে নেজামপুরে একটি মসজিদে নামাজ শেষে সেলিম রেজাকে গ্রেপ্তার করে।

এ বিষয়ে নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম রেজা বলেন, ‘ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে সেলিমকে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ শুক্রবার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হবে।’বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) মহাপরিচালক এমএম হারুন অর রশীদ ও তার স্ত্রী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। গত রবিবার রাতে হারুন নিজেই গণমাধ্যমে এ তথ্য জানিয়ে বলেন, কয়েকদিন ধরেই জ্বরে ভুগছিলাম। শুক্রবার আইইডিসিআর থেকে লোক এসে আমার ও আমার স্ত্রীর নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। শনিবার রাতে তারা জানান, আমাদের দুজনের শরীরে করোনাভাইরাস ‘পজিটিভ’ শনাক্ত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, রবিবার আইইডিসিআর থেকে লোক এসে তার মেয়ের নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে গেছে। সোমবার তার রিপোর্ট আসবে।

এদিকে বিটিভির এক কর্মকর্তার সূত্রে জানা গেছে, মহাপরিচালক হারুন অর রশীদ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এমন সংবাদের পর পর তার সংস্পর্শে আসা বিটিভির কয়েকজন কর্মীকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। এ কারণে বিটিভির নির্ধারিত কিছু অনুষ্ঠান সম্প্রচার বাতিল করে পুরনো অনুষ্ঠান চালানো হতে পারে।

করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যে বিটিভির বেশিরভাগ কর্মী বাসা থেকে কাজ করছেন বলে জানান ওই কর্মকর্তা।ক্সবাজারের চকরিয়ায় আঞ্চলিক মহাসড়কের মরংঘোনা থেকে বুধবার রাতে বিবাহিত তরুণী চম্পা বেগমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এর পর পরই নিরুদ্দেশ হওয়া সিএনজি অটোরিক্সাসহ জয়নাল আবেদীন (১৮) নামক এক চালককে আজ শুক্রবার নিজ গ্রাম থেকে র‌্যাব আটক করে। এরপর তার স্বীকারোক্তিতে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য বের হতে শুরু করেছে।

ওই তরুণীকে ধর্ষণের পর কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে চলন্ত সিএনজি অটো থেকে বিপরীত দিক থেকে আসা অপর গাড়ির সামনে ছুঁড়ে ফেলে হত্যা করা হয় বলে র‌্যাব জানিয়েছে। ঘটনায় জড়িত সাজ্জাদ হোসেন (৩০) নামের আরেক চালককেও ধরতে মাঠে রয়েছে পুলিশ ও র‌্যাব।

চকরিয়া থানা পুলিশ জানায়, আটক চালক জয়নালের বাড়ি পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের মেহেরনামা নন্দীরপাড়া গ্রামে। সেই ওই গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চালক জয়নালের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে র‌্যাব জানায়, মূলত চট্টগ্রাম থেকে পেকুয়া, এরপর চকরিয়ার কোনাখালী ইউনিয়নের মরংঘোনা পর্যন্ত আসার সময় ওই তরুণী উপর্যপুরি ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে গ্রেপ্তার সিএনজি অটোরিক্সা চালক র‌্যাবের কাছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে।

এমনকি সড়কের নির্জন এলাকায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের সময় কথা কাটাকাটির জেরে ওই তরুণীকে চলন্ত অবস্থায় অটোরিক্সা থেকে সড়কে ফেলে দেওয়া হয় বিপরীত দিক থেকে আসা অপর একটি দ্রুতগামী গাড়ির সামনে। এতে গাড়ির চাপায় ওই তরুণী ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায়। আজ বিকালে এসব বিষয় নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-১৫ এর অধিনায়ক উইং কমাণ্ডার আজিম আহমেদ।

তবে এই হত্যাকাণ্ডের পর লাশ উদ্ধার পরবর্তী তরুণী চম্পা বেগমের বাবা রুহুল আমিন চকরিয়া থানায় চারজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা রুজু করেন। মামলার এজাহারে রুহুল আমিন দাবি করেন, আপন বোন ছকিনা বেগম, তার ছেলে (ভাগ্নে) আরিফের সঙ্গে বিয়ে না দেওয়ায় ভগ্নিপতি সালাহউদ্দিন ও অপর অজ্ঞাত সিএনজি অটোরিক্সা চালক মিলে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে বিবাহিত মেয়ে চম্পাকে। নাম উল্লেখিত আসামি তিনজনের বাড়ি চট্টগ্রামের পটিয়ায়।

র‌্যাব কক্সবাজার ক্যাম্পের ইনচার্জ মেজর মেহেদী হাসান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নিজ গ্রাম পেকুয়ার মেহেরনামা নন্দীরপাড়া থেকে ধর্ষক জয়নালকে আটক করা হয়। একইসাথে ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিক্সাটিও জব্দ করা হয়। জব্দকৃত অটোসহ আটক জয়নালকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অন্য সহযোগী সাজ্জাদকেও আটক করতে র‌্যাব মাঠে রয়েছে।

চকরিয়া থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে তরুণী চম্পার বাবা বাদি হয়ে থানায় এজাহার দিলে তা মামলা হিসেবে রুজু করা হয়। তবে যে সিএনজি অটোরিক্সায় করে চম্পা আসছিল, সেই গাড়িসহ চালক জয়নাল আটক হওয়ায় তাকেও মামলায় আসামি এবং গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে তোলা হবে।