ঢাকা, আজ শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০

ধর্ষণের পর চলন্ত গাড়ির নিচে ফেলে দেওয়া হয় চম্পাকে!

প্রকাশ: ২০২০-০৫-১০ ১২:১৫:২৯ || আপডেট: ২০২০-০৫-১০ ১২:২৬:২৭

ক্সবাজারের চকরিয়ায় আঞ্চলিক মহাসড়কের মরংঘোনা থেকে বুধবার রাতে বিবাহিত তরুণী চম্পা বেগমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এর পর পরই নিরুদ্দেশ হওয়া সিএনজি অটোরিক্সাসহ জয়নাল আবেদীন (১৮) নামক এক চালককে আজ শুক্রবার নিজ গ্রাম থেকে র‌্যাব আটক করে। এরপর তার স্বীকারোক্তিতে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য বের হতে শুরু করেছে।

ওই তরুণীকে ধর্ষণের পর কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে চলন্ত সিএনজি অটো থেকে বিপরীত দিক থেকে আসা অপর গাড়ির সামনে ছুঁড়ে ফেলে হত্যা করা হয় বলে র‌্যাব জানিয়েছে। ঘটনায় জড়িত সাজ্জাদ হোসেন (৩০) নামের আরেক চালককেও ধরতে মাঠে রয়েছে পুলিশ ও র‌্যাব।

চকরিয়া থানা পুলিশ জানায়, আটক চালক জয়নালের বাড়ি পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের মেহেরনামা নন্দীরপাড়া গ্রামে। সেই ওই গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চালক জয়নালের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে র‌্যাব জানায়, মূলত চট্টগ্রাম থেকে পেকুয়া, এরপর চকরিয়ার কোনাখালী ইউনিয়নের মরংঘোনা পর্যন্ত আসার সময় ওই তরুণী উপর্যপুরি ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে গ্রেপ্তার সিএনজি অটোরিক্সা চালক র‌্যাবের কাছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে।

এমনকি সড়কের নির্জন এলাকায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের সময় কথা কাটাকাটির জেরে ওই তরুণীকে চলন্ত অবস্থায় অটোরিক্সা থেকে সড়কে ফেলে দেওয়া হয় বিপরীত দিক থেকে আসা অপর একটি দ্রুতগামী গাড়ির সামনে। এতে গাড়ির চাপায় ওই তরুণী ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায়। আজ বিকালে এসব বিষয় নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-১৫ এর অধিনায়ক উইং কমাণ্ডার আজিম আহমেদ।

তবে এই হত্যাকাণ্ডের পর লাশ উদ্ধার পরবর্তী তরুণী চম্পা বেগমের বাবা রুহুল আমিন চকরিয়া থানায় চারজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা রুজু করেন। মামলার এজাহারে রুহুল আমিন দাবি করেন, আপন বোন ছকিনা বেগম, তার ছেলে (ভাগ্নে) আরিফের সঙ্গে বিয়ে না দেওয়ায় ভগ্নিপতি সালাহউদ্দিন ও অপর অজ্ঞাত সিএনজি অটোরিক্সা চালক মিলে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে বিবাহিত মেয়ে চম্পাকে। নাম উল্লেখিত আসামি তিনজনের বাড়ি চট্টগ্রামের পটিয়ায়।

র‌্যাব কক্সবাজার ক্যাম্পের ইনচার্জ মেজর মেহেদী হাসান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নিজ গ্রাম পেকুয়ার মেহেরনামা নন্দীরপাড়া থেকে ধর্ষক জয়নালকে আটক করা হয়। একইসাথে ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিক্সাটিও জব্দ করা হয়। জব্দকৃত অটোসহ আটক জয়নালকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অন্য সহযোগী সাজ্জাদকেও আটক করতে র‌্যাব মাঠে রয়েছে।

চকরিয়া থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে তরুণী চম্পার বাবা বাদি হয়ে থানায় এজাহার দিলে তা মামলা হিসেবে রুজু করা হয়। তবে যে সিএনজি অটোরিক্সায় করে চম্পা আসছিল, সেই গাড়িসহ চালক জয়নাল আটক হওয়ায় তাকেও মামলায় আসামি এবং গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে তোলা হবে।পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় জাহাঙ্গীর আলম (৪৫) নামের চার সন্তানের জনকের বিরুদ্ধে ছাগলকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার শালবাহান ইউনিয়নের ছোপাগছ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

ছাগলের মালিক রফিক জানান, গতকাল বিকেল ৪টার দিকে তার দুটি ছাগলকে ক্ষেতে ঘাস খাওয়ানোর জন্য ছেড়ে দিয়ে তিনি কৃষি কাজ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলে ছাগল দুটিকে বাড়িতে নেওয়ার জন্য তিনি খুঁজতে থাকেন। বিভিন্ন ক্ষেতে খোঁজার পর একটি ছাগল পেলে সেটি রেখে অন্যটিকে খুঁজতে থাকেন রফিক। একপর্যায়ে একটি ভুট্টা ক্ষেতের মধ্যে ছাগলের আওয়াজ শুনে সেখানে যান তিনি। এ সময় তিনি জাহাঙ্গীর আলমকে নগ্ন অবস্থায় তার ছাগলের গলা চেপে ধর্ষণ করতে দেখতে পান।

রফিক বলেন, ‘ছাগল দুটি ঘাস খাওয়ার জন্য ছেড়ে দেওয়ার পর বৃষ্টি আসে। তখন আমি বিভিন্ন ক্ষেতে ছাগল খুঁজতে থাকি। পরে একটি ছাগল খুঁজে পেয়ে সেটি রেখে আরেকটি খুঁজতে গেলে ওই ছাগলের গলা চেপে ধরা এবং উলঙ্গ অবস্থায় জাহাঙ্গীরকে দেখতে পাই। পরে সে আমার হাতে পায়ে ধরে কান্নাকাটি শুরু করে।’

সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঘটনাটি এলাকাবাসী ও গণমান্য ব্যক্তিরা জানার পর মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে অভিযুক্তের পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেস্টা করা হয়। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। তারা বিষয়টির উপযুক্ত বিচার দাবি করেছেন। এর আগেও জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে গরু-ছাগল ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে বলেও জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

আজ শুক্রবার দুপুরে ঘটনার বিষয়ে জানতে এ প্রতিবেদক জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাননি। তবে তার বাড়ির পাশের একটি ক্ষেতে ছাগল দুটি বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান। পরে তার বাবার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাইলে তিনি কোনো কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানান। বিষয়টি নিয়ে কথা বলেতে বিকেলে জাহাঙ্গীরের মোবাইল ফোনে কল করা হলে তিনি ফোন কেটে দিয়ে তা বন্ধ করে রাখেন। পরে একাধকবার চেষ্টা করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে উপজেলার শালবাহান ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান লিটন বলেন, ‘ছাগল ধর্ষণের ঘটনাটি শুনেছি। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় মেম্বারকে দায়িত্ব দিয়েছি।’