ঢাকা, আজ সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

ছাগলকে ‘ধর্ষণ’ করল চার সন্তানের জনক জাহাঙ্গীর!

প্রকাশ: ২০২০-০৫-১০ ১২:১৪:১৬ || আপডেট: ২০২০-০৫-১০ ১২:২৯:৫১

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় জাহাঙ্গীর আলম (৪৫) নামের চার সন্তানের জনকের বিরুদ্ধে ছাগলকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার শালবাহান ইউনিয়নের ছোপাগছ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

ছাগলের মালিক রফিক জানান, গতকাল বিকেল ৪টার দিকে তার দুটি ছাগলকে ক্ষেতে ঘাস খাওয়ানোর জন্য ছেড়ে দিয়ে তিনি কৃষি কাজ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলে ছাগল দুটিকে বাড়িতে নেওয়ার জন্য তিনি খুঁজতে থাকেন। বিভিন্ন ক্ষেতে খোঁজার পর একটি ছাগল পেলে সেটি রেখে অন্যটিকে খুঁজতে থাকেন রফিক। একপর্যায়ে একটি ভুট্টা ক্ষেতের মধ্যে ছাগলের আওয়াজ শুনে সেখানে যান তিনি। এ সময় তিনি জাহাঙ্গীর আলমকে নগ্ন অবস্থায় তার ছাগলের গলা চেপে ধর্ষণ করতে দেখতে পান।

রফিক বলেন, ‘ছাগল দুটি ঘাস খাওয়ার জন্য ছেড়ে দেওয়ার পর বৃষ্টি আসে। তখন আমি বিভিন্ন ক্ষেতে ছাগল খুঁজতে থাকি। পরে একটি ছাগল খুঁজে পেয়ে সেটি রেখে আরেকটি খুঁজতে গেলে ওই ছাগলের গলা চেপে ধরা এবং উলঙ্গ অবস্থায় জাহাঙ্গীরকে দেখতে পাই। পরে সে আমার হাতে পায়ে ধরে কান্নাকাটি শুরু করে।’

সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঘটনাটি এলাকাবাসী ও গণমান্য ব্যক্তিরা জানার পর মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে অভিযুক্তের পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেস্টা করা হয়। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। তারা বিষয়টির উপযুক্ত বিচার দাবি করেছেন। এর আগেও জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে গরু-ছাগল ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে বলেও জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

আজ শুক্রবার দুপুরে ঘটনার বিষয়ে জানতে এ প্রতিবেদক জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাননি। তবে তার বাড়ির পাশের একটি ক্ষেতে ছাগল দুটি বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান। পরে তার বাবার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাইলে তিনি কোনো কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানান। বিষয়টি নিয়ে কথা বলেতে বিকেলে জাহাঙ্গীরের মোবাইল ফোনে কল করা হলে তিনি ফোন কেটে দিয়ে তা বন্ধ করে রাখেন। পরে একাধকবার চেষ্টা করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে উপজেলার শালবাহান ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান লিটন বলেন, ‘ছাগল ধর্ষণের ঘটনাটি শুনেছি। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় মেম্বারকে দায়িত্ব দিয়েছি।’অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ রেমডেসিভির নিয়ে গত ফেব্রুয়ারি থেকেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। ভালো সাফল্যও পাওয়া গেছে। কানাডা, ইউরোপ ও জাপানেও এ ওষুধের ব্যবহার কম আকারে হয়েছে, যা থেকে ভালো ফল পাওয়া গেছে। গিলিয়াড সায়েন্সেস ইনকের পরীক্ষামূলক অ্যান্টি-ভাইরাল ড্রাগ রেমডেসিভির নতুন ক্লিনিক্যাল ডেটায় আশার আলো দেখছেন গবেষকরা। আশা করছেন, করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় কার্যকর হতে পারে এই ওষুধ। তবে কিছুটা খারাপ খবরও আছে।

রেমডেসিভির প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান গিলিয়াড সায়েন্সেস বুধবার ড্রাগটির তিনটি পৃথক পরীক্ষার আংশিক তথ্য প্রকাশ করেছে। এই সব তথ্যে গবেষকদের মনে উত্তেজনা এবং বিভ্রান্তি উভয়ই তৈরি করেছে।

মার্কিন সরকারের পরীক্ষার ফলাফল

অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ রেমডেসিভি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় অ্যালার্জি ও সংক্রামক রোগবিষয়ক প্রতিষ্ঠান এনআইএআইডি জানিয়েছে, তারা হাসপাতলে বেশ কয়েকজন রোগীকে এই ওষুধ দিয়ে করোনার চিকিৎসা করেছে। তাদের ফুসফুসের জটিলতাও ছিল। যাদের এই ওষুধ দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে ৩১ শতাংশ রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেছেন।

মোবাইল অ্যাপের কীভাবে কাজ করবে মাধ্যমে কন্টাক্ট ট্রেসিং?

তাদের এই ট্রায়ালে এক হাজার ৬৩ জন রোগী অংশগ্রহণ করেছিলেন। তাদের মধ্যে অর্ধেক রোগী ওষুধ প্রয়োগের ১১তম দিনে সুস্থ হয়ে ওঠেছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের করা এই ট্রায়ালের পুরো তথ্য পাওয়া যায়নি। কারণ তাদের ট্রায়াল এখনো শেষ হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী মাসের শেষ দিকে হয়তো ট্রায়ালের পুরো তথ্য পাওয়া যাবে।

রেমডেসিভির প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান গিলিয়াডের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফল

গিলিয়াড জানিয়েছে, করোনায় আক্রান্ত মারাত্মক রোগীদের ক্ষেত্রে রেমডেসিভির দিয়ে পাঁচদিনের চিকিৎসায় অনেক ভালো ফল পাওয়া গেছে। ১০ দিনের চিকিৎসা থেকে এই পাঁচদিনে সবচেয়ে বেশি ভালো ফল পাওয়া গেছে। এতে রোগীদের চিকিৎসা খরচ কমবে।

তাদের গবেষণায় দুটি গ্রুপ করে পরীক্ষা চালানো হয়। একটি হলো পাঁচদিনের থেরাপি। আর অন্যটি হলো ১০দিনের থেরাপি। দেখা গেছে, যেসকল রোগীরা করোনার চিকিৎসায় পাঁচদিনের থেরাপি নিয়েছেন তার ১০তম দিনে গিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠেছেন। আর যারা ১০দিনের থেরাপি নিয়েছেন তারা ১১তম দিনে গিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠেছেন।

দুই সপ্তাহ পরে উভয় গ্রুপের অর্ধেকেরও বেশি রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান। মানে তারা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যান। পাঁচদিনের চিকিত্সা গ্রুপে ৬৪ দশমিক পাঁচ শতাংশ এবং দশ দিনের চিকিত্সা গ্রুপের ৫৩ দশমিক ৮ শতাংশ রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেছেন। তারা বিভিন্ন দেশে এই ট্রায়াল চালায়।

রেমডেসিভির চীনে পরীক্ষার ফলাফল

চীনের উহান শহরে গুরুতর কভিড -১৯ রোগীদের শরীরে এই ওষুধের পরীক্ষা চালানো হয়। দু’টি গ্রুপে পরীক্ষা করা হয়। একটি গ্রুপের একশ ৫৮ জন রোগীর শরীরে রেমডেসিভি প্রয়োগ করা হয়। আরেকটি গ্রুপে ৭৯ জন রোগীর শরীরে করোনার চিকিৎসার জন্য অন্য ধরনের ওষুধ প্রয়োগ করা হয়।

দেখা যায়, রেমডেসিভি নেওয়া রোগীরা তুলনামূলক ভালোভাবে সুস্থ হয়ে ওঠেনি। কিন্তু অন্যগ্রুপের রোগীরা দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেছেন। ওষুধটি শরীরে করোনাভাইরাসের পরিমাণ বা মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতেও ব্যর্থ হয়েছিল। কিন্তু তাদের এই পরীক্ষার ফলাফল চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত হয়নি।

রেমডেসিভির এই তিনটি ট্রায়াল নিয়ে আলোচনা করেছেন একজন চিকিত্সাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ। তিনি হলেন পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল নীতিশাস্ত্রের সহকারী অধ্যাপক হোলি ফার্নান্দেজ লিঞ্চ। তিনি বলেন, আমাদের হাতে তিনটি পরীক্ষার ফলাফল এসেছে। তিনটিই ভিন্ন। এনআইএআইডির ফলাফল বলছে এক কথা। আরেক কথা বলছে চীনের গবেষণা। তারপরে পাঁচদিন বনাম ১০দিনের ট্রায়ালের ফলাফলও পেয়েছি। সেখানেও পাওয়া গেছে অন্যরকম তথ্য।

পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হোলি ফার্নান্দেজ লিঞ্চ বলেন, এই তিনটি ট্রায়ালের ফলাফলের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এনআইএআইডির পরীক্ষার ফলাফল সবচেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য হতে চলেছে। তবে এখনই সবকিছুই বলে দেওয়া কঠিন। সূত্র: টিআরটি।