ঢাকা, আজ বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০

রাজধানীতে ছেলের হাত থেকে বাঁচতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন মা

প্রকাশ: ২০২০-০৫-১০ ১২:০১:৫৯ || আপডেট: ২০২০-০৫-১০ ১২:০১:৫৯

মুক্তিযোদ্ধা খান শাহাদাত হোসেন ও নুরুন্নাহার রুনু দম্পতি সন্তানের চোখে-মুখে নিজের ভবিষ্যত দেখতেন। শাহাদাত হোসেন মারা যাওয়ার পর সন্তানকে একা লালনপালন করে নুরুন্নাহার। আর সেই সন্তানের ভয়ে এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি।

বুধবার (৬ মে) দিবাগত রাত ১টায় রাজধানীর গ্রিনরোড এলাকার গেজেটেড ডর্মেটরির দ্বিতীয় তলার বাসা থেকে মাকে মারপিট করে ঘর থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন বখে যাওয়া ছেলে খান মিল্লাত।

নুরুন্নাহার রুনু বলেন, বিপথগামী এই সন্তান কয়েক বছর ধরেই তাকে মানসিকভাবে নি’র্যাতন করে আসছেন। প্রায় রাতে বন্ধুদের নিয়ে বাসায় মা’দকের আসর বসান। মাদকের টাকা যোগাতে বাসার মূল্যবান জিনিসপত্র বিক্রি করে উজাড় করে দিয়েছেন। ফ্রিজ-ফ্যান বিক্রি করে দিয়েছেন। বিভিন্ন ধরনের মেয়েকে নিয়ে এসে নুরুন্নাহার রুনুকে ঘরে তালা দিয়ে আটকে রাখেন। এই নিয়ে প্রতিবাদ করায় তাকে শারীরিক নি’র্যাতন শুরু করেন।

এসব ব্যাপারে পুলিশের কাছে অ’ভিযোগ করায় বেপরোয়া ছেলে আরও ক্ষেপে যান। এক সপ্তাহ যাবত প্রায় প্রত্যেক রাতেই নিজের মাকে মা’রপিট করছেন তিনি। ৩ মে রাতে লাঠি দিয়ে পি’টান গর্ভধারিনী মাকে।

বুধবারের ঘটনা সম্পর্কে নুরুন্নাহার রুনু জানান, তিনি শুয়ে পড়েছিলেন। রাত ১১ টায় একজন বন্ধুসহ বাসায় ফেরেন তার ছেলে খান মিল্লাত। ফিরেই মাকে বলেন, পি”স্তল নিয়ে একজনকে তুলে আনতে গিয়েছিলেন। সেই লোকের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়, এক পর্যায়ে গু’লি করতে গেলে পি’স্তল থেকে গু’লি বের হয়নি।

পরে সেই লোক তার পি’স্তল কেড়ে নিয়েছে। এখন পি’স্তলের মালিককে পঞ্চাশ হাজার টাকা দিতে হবে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিছানায় শুয়ে থাকা অবস্থায় মায়ের মুখে চর-থাপ্পড় মারেন খান মিল্লাত। এরপর মাথা ও শরীরেও মা’রধর করেন। বিছানা থেকে ওঠার চেষ্টা করলে বিছানায় ঠেস দিয়ে ধরে রাখেন।

এভাবে প্রায় দেড় ঘণ্টা তাকে আটকে রেখে নি’র্যাতন করা হয় রুনুকে। রাত সাড়ে ১২টার দিকে ছু’রি আনতে বলেন তার বন্ধুকে। এ সময় পাশের রুমে গেলে রুনু দৌড়ে নিচে নেমে আসেন। ছেলেও পিছু নিলে পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা অসহায় মাকে রক্ষা করেন। রাতেই ৯৯৯ নম্বরে কল দিয়ে পুলিশ ডেকেছিলেন প্রতিবেশীরা। পুলিশ এলে পালিয়ে যায় খান মিল্লাত।

এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার (৭ মে) কলাবাগান থানায় নুরুন্নাহার রুনু নিজের ছেলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।

নুরুন্নাহার রুনু জানান, মা’দকাসক্ত এই সন্তানের জন্য আত্মীয় স্বজন সবার সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছে। নিজের বাসা নেই, কারো বাসায় ঠাঁই হয় না। দিনের আলো দেখতে পাবেন এমন আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন। ভয়াল ওই রাতের কথা মনে উঠলেই ভয়ে আঁতকে ওঠেন তিনি। নিজের ছেলে এভাবে নি’র্যাতন করতে পারে কল্পনাও করতে পারেন না তিনি। জীবন বাঁচাতে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন।

মেয়ে জামাই ব্যাংকার আব্দুর রহিম মিয়াও অভিন্ন অভিযোগ করেন। তিনি বলেন- “মা’দকের টাকা না দিলে আমার শাশুড়িকে প্রায় মারপিট করেন আমার শ্যালক খান মিল্লাত। আমরা তার বিচার চাই।”সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এবার নিজেকে আওয়ামী লীগের কবি বলে দাবি করলেন কবি এবং চিত্রশিল্পী নির্মলেন্দু গুণ। নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক ওয়ালে এই কবি লেখেন-

”একটা জিনিস স্পষ্ট হওয়া দরকার। যদিও আমি সরাসরি আওয়ামী লীগ বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দল করি না- কিন্তু আমি মূলত আওয়ামী লীগেরই কবি। আবার আমি মনে করি একইসঙ্গে আমি জনগণেরও কবি।

১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু যখন বাঙালির বাঁচার দাবি ৬ দফা ঘোষণা করলেন, তার পর থেকে আমি বঙ্গবন্ধু ও তাঁর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের পক্ষে গণজাগরণ সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়েই কবিতা লিখিতে শুরু করেছিলাম। ১৯৬৬-২০২০, মানে গত ৫৪ বছর ধরে আমার কবিতা ও গদ্য রচনায় ঐ মূল-ধারাটিই অদ্যাবধি অব্যাহত রয়েছে।

অনেক সময় আমি আত্মমগ্ন প্রেমের কবিতা, কামের কবিতা, প্রকৃতির কবিতা এবং সাম্যবাদী ধারার বেশ কিছু কবিতাও লিখেছি। সেই কবিতাগুলোকেও বাংলা কবিতার পাঠক ‘প্রিয়-কবিতা’ হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং আমাকে প্রেমের কবিও বলেন। আমি চুপ করে থাকি।
আমি জানি আমি একইসঙ্গে রাজনেতিক কবি এবং প্রেমের কবিও।

তবে রাজনৈতিক সংকট চলাকালে আমি বঙ্গবন্ধু ও তাঁর তৈরি করা দল আওয়ামী লীগকেই সমর্থন করে এসেছি। ১৯৯১ ছাড়া প্রতিটি নির্বাচনে আমি আওয়ামী লীগকেই ভোট দিয়েছি। এমনকি প্রার্থী হাজী সেলিম হলেও।

১৯৯১ এর সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আমাকে নমিনেশন দেয়নি। তাতে কী? মনের দুঃখে আমি শেখ হাসিনাকে ত্যাগ করিনি। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়েছি। পরাজিত হয়েছি। কিন্তু দলবদল করিনি। শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগও আমাকে কখনও ত্যাগ করেনি। করবেও না। কেনইবা করবে? আমি তো আওয়ামী লীগের জন্য এসেট, নট লাইবিলিটি।

আওয়ামী লীগের বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠানে মূলত আমার কবিতাই পাঠ করা হয়। শেখ হাসিনার কন্ঠে আমার কবিতার আবৃত্তি শুনে আমি খুব খুশি হই। সম্মানিত বোধ করি। তিনি যখন জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে ১৯৭৫ পরবর্তী বাংলাদেশে আমার সংগ্রামী ভূমিকার জন্য আমাকে ধন্যবাদ জানান- তখন আমি খুশি হই।

আবার আমাকে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদানে অহেতুক বিলম্ব করার জন্য বিরক্তি ও ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেইসবুকে লিখেছিও। একটু বিলম্ব হলেও বঙ্গবন্ধুকন্যা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার দাবির যৌক্তিকতা অনুধাবন করে আমাকে পুরস্কৃত করেছেন। তাতে আমি খুশি হয়েছি, সম্মানিত বোধ করেছি।

এই বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া দরকার, আমি জানি, বিশ্বাস করি– আমার কবিতার ঋণ আওয়ামী লীগ কখনও পরিশোধ করতে পারবে না; আবার আওয়ামী লীগের কাছ থেকে আমি যা পেয়েছি- যেমন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান, বঙ্গবন্ধুর খুনি এবং একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার- এইরকমের বিশাল প্রাপ্তির ঋণও আমি কখনও পরিশোধ করতে পারবো না। আমি মনে করি আওয়ামী লীগ ও আমার সম্পর্কটা হচ্ছে ইতিহাস-নির্ধারিত। অনিবার্য।

আমি যে মাঝে-মাঝে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার সমালোচনা করি– তাতে যারা খুশি হন, তারা কেন খুশি হন, আমি তা জানি। আমি তা বুঝি। তাদের প্রসংশায় পথভ্রষ্ট হওয়ার মতো পথভোলা কবি আমি নই, হে বন্ধুগণ। সরি মাই ফ্রেন্ডস।

আমি মনে করি আওয়ামী লীগ এবং বাংলাদেশের জনগণ দুই শিবিরে বিভক্ত নয়। বাংলাদেশের অধিকাংশ জনগণ আওয়ামী লীগের পক্ষেই আছেন। আওয়ামী লীগ জনগণেরই প্রতিনিধিত্ব করে। আমিও আওয়ামী লীগের জন্মদাতা জাতির জনকের দলকেই সমর্থন করি।

আমার কাছ থেকে নিরপেক্ষ অবস্থান যারা আশা করে, তারা মতলববাজ। আমাকে আওয়ামী লীগের কবি বলে যারা খুশি হতে চান, আমাকে কোণঠাসা করা গেলো বা যাবে বলে ভাবেন- তাদের স্বপ্বভঙ্গ করার জন্য আমি না থাকলেও, আমার বহু-বহু কবিতাই বেঁচে থাকবে।”