ঢাকা, আজ সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

বড় ভাইকে হ’ত্যার লো’মহ’র্ষক বর্ণনা দিল ঘা’তক রাজিব

প্রকাশ: ২০২০-০৫-১০ ১১:৩১:২৯ || আপডেট: ২০২০-০৫-১০ ১১:৩১:২৯

রাজধানীর মুগদায় হাত খরচের ১০০ টাকা না পেয়ে বড় ভাই জীবন ঘোষকে ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে নৃশংস’ভাবে হ’ত্যা করেছে মাদ’কাসক্ত ছোট ভাই রাজিব ঘোষ।

গ্রেফতারের পর পুলিশ তাকে শনিবার ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে। ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল ইসলামের খাসকামরায় ফৌজদারি কার্যবিধির ধারায় হ’ত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে ভাইকে হ’ত্যার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় ঘা’তক রাজিব।

রাজিব ঘোষ জানায়, মুগদা হাসপাতালের সামনে তার বাবার একটি মিষ্টির দোকান রয়েছে। জীবন ফুড ফ্যাক্টরি নামের ওই মিষ্টি দোকানে সেও কাজ করতো। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সে দোকানে কাজ করছিল। দাদা (বড় ভাই) জীবন ঘোষ ক্যাশে বসেছিল। সে তখন দাদার কাছে ১০০ টাকা চায়। দাদা টাকা দিতে চায়নি। দুজনের মধ্যে এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে রাগ করে দোকানের সামনে থেকে ইট নিয়ে দাদার (জীবন ঘোষ) মাথার পেছনের দিকে আ’ঘাত করে সে। এতে দাদা (জীবন) মাটিতে পড়ে যায় । এরপর আরও একটি আঘা’ত করে সে। মাথা থেকে রক্ত বের হচ্ছিল। তখন রক্ত থামানোর জন্য মাথায় গামছা চেপে ধরে সে। তাতেও রক্ত থামেনি। পরে দাদা নড়াচড়া না করতে দেখে টানাহেঁচড়া করে সে। এরপর ভয় পেয়ে যায় সে। গামছা দাদার গলার কাছে রেখে সে দোকান বন্ধ করে বাসায় চলে যায়। বাসায় গিয়ে ঘটনা কাউকে বলেনি। পরে পুলিশ বাসায় দিয়ে তাকে সন্দেহ করে ধরে নিয়ে যায়। পুলিশের সবুজবাগ জোনের এসি মো. রাশেদ হাসান যুগান্তরকে বলেন, বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৮টার দিকে ঝড়ের সময় মুগদা হাসপাতালের সামনে মিষ্টির দোকানের ভেতর জীবন ঘোষের হ’ত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। এরপর তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে আমরা ধারণা করি ছোট ভাই রাজিব ঘোষ তার বড় ভাই জীবন ঘোষকে খু’ন করে থাকতে পারে। পরে তাকে আ’টক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে ভাই হ’ত্যার দায় স্বীকার করে। শনিবার সে আদালতের কাছেও ভাই হ’ত্যার দায় স্বী’কার করে জবানবন্দি দেয়। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে তার বাবা নারায়ন ঘোষ বাদি হয়ে মুগ্দা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে তিনি বলেন, জীবন ঘোষ এ দোকানটি চালাতো। আর রাজিব ঘোষ তাকে সহযোগিতা করতো। বৃহস্পতিবার ইফতারি বিক্রি করে রাজিব ঘোষ বাসায় আসে। তার মা দরজা খুলে দিলে সে তাড়াহুড়ো করে বাথরুমে গিয়ে গোসল করে। জীবন ঘোষ কোথায় জিজ্ঞাস করলে সে জানায়, দোকান তালা দিয়ে চলে এসেছে। জীবন ঘোষ বাসায় না আসায় রাত পৌনে ৮টায় তার মোবাইলে ফোন দেই। কিন্তু জীবনের মোবাইল বন্ধ দেখায়।

নারায়ন ঘোষ বলেন, আমি তখন ভেবেছি, বৃষ্টির মধ্যে সে কোথাও আটকা পড়েছে। মোবাইলে হয়তো চার্জ নেই। রাত ৯টায়ও সে বাসায় না ফেরায় আমি ডুপ্লিকেট চাবি বাসা থেকে নিয়ে রাজিবকে সঙ্গে নিয়ে দোকানে যাই। রাজিব সার্টার খুলে লাইট দিয়ে চিৎকার করে বলে বাবা দাদা নাই। আমি তখন দেখলাম জীবন দোকানের মেঝেতে পড়ে আছে। চারপাশে রক্ত আর রক্ত। এরপর মুগদা থানায় খবর দেই। পুলিশ গিয়ে তার লাশ উদ্ধার করে।

মুগ্দা থানার ওসি প্রলয় কুমার সাহা যুগান্তরকে বলেন, রাজিব ঘোষ মা’দকাসক্ত ছিল। একাধিকবার তাকে মা’দক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। সে প্রতিদিন নিজেদের দোকান থেকে হাত খরচের কথা বলে মা’দকের জন্য টাকা নিয়ে যেতো। এ নিয়ে দুই ভাই জীবন ও রাজিবের মধ্যে একাধিকবার ঝগড়া ও মনোমালিন্য হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে ঝড়ের সময় রাজিব তার ভাই জীবনের কাছ থেকে টাকা নিতে গেলে বাধা দেন। এর পরেই সে তাকে খু’ন করে।মুহাম্মাদ আইয়ুব: আপনার একটি মহৎ গুণের কারণে যখন আল্লাহ এবং তার রাসুলের পক্ষ থেকে একের পর এক সুসংবাদ আসতে থাকবে তখন আপনার অনুভূতি কেমন হবে? অনেকে বলবেন আল্লাহ ও রাসুলের পক্ষ থেকে সুসংবাদ আসা সম্ভব? এখন কি নবীর যুগ যে, আসমান থেকে ওহি পাঠিয়ে আল্লাহ সুসংবাদ দিবেন! এমনটি যারা ভাবছেন তারা সম্ভবত ভুলে গেছেন যে, আমাদের মাঝে আছে আল্লাহর কোরআন ও রাসুলের হাদিস।

কোরআন ও হাদিসের মাঝেই আল্লাহ পাক ও তার মাহবুব (সা.) সুসংবাদ দিয়েছেন ওই মানুষের ব্যাপারে যারা প্রতিকূল মুহূর্তে, বৈরী পরিবেশে মোটকথা সর্বাবস্থায় ধৈর্য ধারণ করে।ধৈর্যকে নিজ জীবনের প্রতিটি সেকেন্ডে অলংকার হিসেবে ব্যবহার করে। এরা আল্লাহতায়ালার কাছে শ্রেষ্ঠ মানুষের মর্যাদা পায়। শ্রেষ্ঠত্বের মানদ’ণ্ডে উত্তীর্ণ হয়ে মাথায় পরে নানাবিধ সুসংবাদের মুকুট।

আল্লাহর পক্ষ থেকে পুরষ্কার : আল্লাহতায়ালা ধৈর্যশীলদের জন্য আল কোরআনে সুসংবাদের ডালি সাজিয়েছেন।

১. হে ঈমানদারগণ! তোমরা ধৈর্য ও নামাজ দ্বারা সাহায্য প্রার্থনা কর, নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন। (সুরা বাকারা, আয়াত নং ১৫৩) ২. এবং নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে ভ’য়, ক্ষু’ধা, ধন, প্রাণ এবং ফল-ফসলের দ্বারা পরিক্ষা করব; এবং ওইসব ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ প্রদান কর। যাদের ওপর কোন বি’পদ নিপ’তিত হলে তারা বলে, নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং অবশ্যই আমরা তার দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী। এদের ওপর তাদের রবের পক্ষ হতে শান্তি ও করুনা বর্ষিত হবে এবং এরাই সুপথগামী। (সুরা বাকারা, আয়াত নং ১৫৫-৫৭)

ধৈর্যের আলোচনা আসলেই হযরত আইয়ুব (আ.) এর ঘ’টনা সামনে চলে আসে। রাজকীয় জীবন ছিল হযরত আইয়ুব (আ.) এর। আর আল্লাহ পাক যখন তার পরীক্ষা নিলেন তখন তার অবস্থা এমন পর্যায়ে গিয়ে উপনীত হল যে, জীবন উৎসর্গকারিনী এক গুণবতী, ধৈর্যশীলা স্ত্রী বিবি রহিমা ছাড়া আর কেউ তার স’ঙ্গ দিল না।

লোকা’লয়ের আ’শ্রয় হা’রিয়ে বনে হল তার ঠিকানা। দীর্ঘ আঠারো বছর যাবত পোকা মাকড় তাকে কু’রে করে খেতে থাকল। তবে আশ্চর্যের বিষয় হল, লম্বা এ সময়ে এক সেকেন্ডের জন্য অভি’যোগ তো দুরের কথা অনুযোগের সুর পর্যন্ত আনার কল্পনা করেননি; অথচ তখনও তিনি নবি এবং জিবরাঈল আলাইহিসসালাম তার কাছে নিয়মত যাতায়াত করেন। ধৈর্যের এমন কোন পথ নেই যে পথে তিনি হাটেননি! কঠিন এ পরীক্ষায় আল্লাহর রহমতে ধৈর্যের মাধ্যমে তিনি উত্তীর্ণ হলেন।

পবিত্র কোরআনে একাধিকবার আল্লাহ তাকে উল্লেখ করে কেয়ামত পর্যন্ত জীব’ন্ত রাখলেন। ধৈর্য কেমন ধ’রতে হয়, ধৈর্যের রূ’প কেমন হয় তার সবটাই দেখালেন হযরত আইয়ুব (আ.)।তাঁর সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, আমি তাকে পেলাম ধৈর্যশীল। কত উত্তম বান্দা সে! সে ছিল আমার অভিমুখী। (সুরা সোয়াদ, আয়াত নং ৪৪)

সুবহানাল্লাহ! ধৈর্যের জন্য কি বিষ্ময়কর স্বীকৃতি!