ঢাকা, আজ সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০

করোনায় মৃ’তের বাড়িতে তালা লাগালো অতি-উৎসাহীরা, ভেতরে কাত’রাচ্ছে শিশুসহ অন্যরা

প্রকাশ: ২০২০-০৫-১০ ১১:০২:২০ || আপডেট: ২০২০-০৫-১০ ১১:০২:২০

চট্টগ্রাম থেকে : চট্টগ্রাম নগরীর ১৭ নং পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ড এলাকা। এখানে করোনায় আক্রা’ন্ত হয়ে স্থানীয় বাসিন্দা আহমেদ আরমান (৫৫) মা’রা গেছেন ৪ মে। সেদিন থেকেই তার স্ত্রী-পুত্রসহ পরিবারকে ওয়ার্ডের রাহাত্তার পুল চান্দা পুকুরপাড় এলাকার বাড়িতে লকডাউন করা হয়।

অভিযোগ উঠছে, এই পরিবারকে লকডাউন করলেও গত পাঁচ দিনেও খবর নেয়নি কেউই। অন্যদিকে পরিবারটির বাসার দরজায় তালা মে’রে দিয়েছে অতি-উৎসাহী স্থানীয় কিছু লোক। ফলে বাড়িতে আটকা পড়ে আছে শিশুসহ পরিবারটি। ইতিমধ্যে উক্ত পরিবারের ১৪ মাসের এক নাতিসহ পরিবারের ছয় সদস্যের শরীরে জ্বর-সর্দিসহ করোনা ভাইরাসের উপসর্গ দেখা দিতে শুরু করেছে।

পরিবারটির পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে নানা পর্যায়ে যোগাযোগ করেও তাদের নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করা যায়নি। মৃ’ত আহমেদ আরমানের ছেলে আবিদ অভিযো’গ করেন বলেন, চসিকের স্থানীয় কাউন্সিলর এ কে এম আরিফুল ইসলাম ডিউকের নেতৃত্বে তাদের বাড়িতে তালা দেয়া হলেও পাঁচদিনে খবর নেয়নি কেউ। বাড়িওয়ালা আর আত্মীয়-স্বজনের সহায়তায় তারা কোনোভাবে দিন কা’টাচ্ছেন।

তিনি বলেন, আমরা বেঁচে আছি না ম’রে গেছি। তাও খবর নেননি। গতকাল থেকে এলাকার কাউন্সিলর, থানার ওসি ও সিভিল সার্জনের সঙ্গে দফায় দফায় যোগাযোগ করেছি। যাতে অন্তত আমাদের নমুনা পরীক্ষা করা হয়, নয়তো এ ঘর থেকে আরও লা’শ বের হবে। গত দুদিনে কতজনের সাথে কথা বলেছি। এতে বিষয়টা নিয়ে একজন অন্যজনকে দিকে দেখিয়ে দেয়।

অস’হায় হয়ে আবিদ আরও বলেন, আমার একান্ত অনুরো’ধ- আমাদের একটি গাড়ির ব্যবস্থা করে দেয়া হোক। আমরা নিজেরা গিয়েই নমুনা দিয়ে আসবো, আমরা বাঁচতে চাই। এ বিষয়ে জানতে চসিকের ১৭ নম্বর পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ড কাউন্সিলর এ কে এম আরিফুল ইসলাম ডিউক একাধিকবার ফোন করেও তিনি রিসিভ করেননি। বাকলিয়া থানার অফিসার বলেন, পরিবারটি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। শনিবার বিকালে তাদের নমুনা পরীক্ষার জন্য টিম পাঠানো হয়েছে।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, রবিবার সকালেই পুরো পরিবারটিকে পরীক্ষার জন্য বিআইটিআইডিতে পাঠানো হবে। কিন্তু ওরা যে খাবার-দাবার নিয়ে সম’স্যায় আছে সেটি দেখবেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ প্রশাসন। তারা কেন তা করেননি তা তো জানি না। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহ’ত আহমেদ আরমান হঠাৎ অসু’স্থ বোধ করায় ৩ মে বিকালে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পরদিন সোমবার ভোর ৪টার দিকে তিনি মৃ’ত্যুবরণ করেন। সাড়ে ৫টার দিকে বিআইটিআইডির (বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস) টিম নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। পটিয়ার গ্রামের বাড়িতে দাফন করার পর রাহাত্তার পুলের বাসায় ফেরত আছেন পরিবার। রাত ৯টার দিকে সিভিল সার্জন অফিস থেকে জানানো হয়, করোনায় আক্রা’ন্ত ছিলেন আরমান। ওই রাতেই কাউন্সিলর ও পুলিশ প্রশাসন বাসাটি লকডাউন করে। ড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামে একটি দুর্গম চরের ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণায় হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে এক ইফতার পার্টি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরকারের নিষে’ধাজ্ঞা অমান্য করে ইফতার পার্টিতে সামাজিক বা শারীরিক দূরত্বের কোনো বালাই ছিল না। করোনায় এমন চা’ঞ্চল্যকর ইফতার পার্টির ঘটনাটি ঘটেছে জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা থানার নারায়ণপুর ইউনিয়নে। এ ইউনিয়নের ঢাকডোহর গ্রামের ফরিদুল ইসলাম জোয়ারদারের আমন্ত্রণে পদ্মারচর স্কুল মাঠে ইফতার পার্টির আয়োজন করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, জেলার একমাত্র নদ-নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন এবং ভারতীয় সীমান্ত ঘেঁষা ইউনিয়ন নারায়ণপুর। এ ইউনিয়নের মানুষ জেলা-উপজেলার সাথে যোগাযোগ করতে হলে নৌকা ছাড়া বিকল্প উপায় নেই। একদম দুর্গম চরাঞ্চল হওয়ায় এখানে স্বাস্থ্য বিভাগ, সরকারি অন্যান্য বিভাগসহ প্রশাসনের নজরদারীর কম থাকে। করোনার বিষয় নিয়ে এখানকার মানুষ তেমন সচেতন নয়।জনপ্রতিনিধিদের সাথে সাধারণ মানুষের সম্পর্ক জোরাল নয়।ফলে এমন সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ৬ মে বুধবার ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী কয়েকজন কর্মী দিয়ে দিনব্যাপি প্রচার চালিয়ে ইফতার পার্টি আয়োজন করেন।

আয়োজনে কয়েকটি গ্রামের প্রায় এক/দেড় হাজার মানুষের সমাগম ঘটে সেখানে। এসময় ইফতার পার্টিতে অংশ নেয়া এক তরুণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভও করেন। এমন জনসমাগম করে ইফতার পার্টি করায় ইউনিয়নটির করোনা প্রতিরোধ কমিটির নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে স’মালোচনার ঝড় উঠে সচেতন মহলে।

ইফতার পার্টির আয়োজক ও সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ফরিদুল ইসলাম জোয়ারদার জানান, কোনো উপলক্ষ্য বা প্রচারণার অংশ হিসেবে এ ইফতার পার্টির আয়োজন করা হয়নি। বাজারের কয়েকজন লোকজন নিয়ে ইফতারের আয়োজন করেছিলাম। বেশি লোকজন ছিল না। তবে তিনি স্বীকার করেন করোনায় এমন ইফতার পার্টির আয়োজনে পুলিশ কিংবা প্রশাসনের অনুমতি নেননি।

নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মজিবর রহমান ইফতার পার্টির বিষয়ে সত্যতা নিশ্চত করে বলেন, সরকারি নিষে’ধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সম্ভাব্য কয়েকজন প্রার্থী প্রায় প্রতিদিনই ইউনিয়নের বিভিন্নস্থানে ইফতারের আয়োজন করছেন। ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য প্রার্থী বলে তাদেরকে বাধা-নি’ষেধ করা সম্ভব হচ্ছে না।

কচাকাটা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুন অর রশিদ জানান, বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে শুনেছি। খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা পেলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুর আহম্মেদ মাছুম জানান, বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে কেউ আমাকে জানায়নি। শনিবার জানতে পেরেছি। যেহেতু দেরি হয়ে গেছে সেক্ষেত্রে মোবাইল কোর্টের আওতায় আনা সম্ভব নয়। তবে আমি ওসি সাহেবকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবার পরামর্শ দিয়েছি।-জাগো নিউজ